এশিয়া কাপ ২০১৮, গব্বর ও হিটম্যানের জোরালো পাঞ্চ, কুপোকাত পাকিস্তান
এশিয়া কাপ ২০১৮ সুপার ফোরের ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচে ভারত ৯ উইকেটে বিশাল জয় পেল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ান দুজনেই শতরান করলেন। ম্য়ান অব দ্য ম্যাচ শিখর ধাওয়ান।
প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৩৭ রান তুলেছিল পাকিস্তান। বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন লড়াই হবে। কিন্তু রো-হিট ও গব্বরের জোড়া ধ্বংসাত্বক ইনিংসের সামনে এই রানটা খুবই কম মনে হল। ৪০ ওভারেই রানটা তুলে ভারত ৯ উইকেটে বিশাল জয় পেল। পর পর দুই ম্যাচে পাকিস্তানকে একেবারে করে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালের মধুর প্রতিশোধ তুলল ভারত।

খেলাটা দেখলে মনে হবে বোধহয় দুটি ইনিংস আলাদা পিচে আলাদা মাঠে হল। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেননি। কিন্তু একেবারেই রান করতে পারছিলেন না। শেষের দিকে কিছুটা মেরেছিলেন আসিফ আলি। কিন্তু রোহিত শর্মা আর শিখর ধাওয়ান যেভাবে ব্যাট করলেন তাতে একবারও মনে হয়নি এই পিচে রান তোলা কঠিন।
পাকিস্তানের রান তাড়া করতে গিয়ে এদিন শুরুতে তরুণ শাহিন আফ্রিদির দু-একটি বলে অসুবিধায় পড়েছিলেন রোহিত শর্মা। ১৪ রানে একবার কভারে সহজ ক্যাচও দিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক। কিন্তু তা তালুপ বন্দী করতে পারেননি ইমাম। আর পাকিস্তান বোলিংয়ের প্রধান ভরসা যাঁকে ধরা হয় সেই মহম্মদ আমিরের এতটাই খারাপ অবস্থা যে প্রথম দুই ওভার করার পরই তাঁকে সরিয়ে নিতে হয়।
উল্টোদিকে শিখর ধাওয়ান ছিলেন একেবারে নিখুঁত। মোটোমুটি ১৬ ওভারের মধ্যেই খেলার ভবিষ্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় ভারতের রান ছিল ১৬ ওভারে ৭৫। পরের ১০ ওভারে তাঁরা আরও ৭৫ রান তোলেন। ইচ্ছামতো বাউন্ডারি, ওভার বাউন্ডারি মেরেছেন তাঁরা।
জুটি ভাঙে একেবারে ৩৪তম ওভারে ২১০ রানে। তাও কোনও পাকিস্তানি বোলারের হাতে নয়, ধাওয়ানের উইকেট যায় ম্যাচ শেষ করার তাড়ায় রান আউট হয়ে।ততক্ষণে একদিনের ক্রিকেটের নিজের ১৫ তম শতরানটি করে ফেলেছেন তিনি। ১০০ বলে ১১৪ রান করে যান তিনি। মারেন ১৬টি চার ২টি ছয়।
তাঁর ওপেনিং পার্টনার রোহিত করলেন ১১৯ বলে অপরাজিত ১১১। তাঁর ইনিংসে ৭টি ৪ ও ৪টি ৬ রয়েছে। ধাওয়ানের পরে ক্রিজে নেমেছিলেন আম্বাতি রায়ডু (১৮ বলে ১২*)। তাঁকে অবশ্য বেশি কিছু করতে হয়নি।
পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে একজনও ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বিব্রত করতে পারেননি। একমাত্র শোয়েব মালিক (৪.৩ ওভারে ১৪ রান) ছাড়া বাকি সবাই ওভার পিছু ৫ রানের বেশি দিয়েছেন। সবচেয়ে খারাপ আমির। তিনি ৪ ওভারে ৪১ রান দিয়েছেন।
প্রথমে ব্যাট করে শোয়েব মালিক (৯০ বলে ৭৮) -এর ইনিংস-এর জোরে ২৩৭ রান তুলেছিল পাকিস্তান। পাক অধিনায়ক করেছিলেন দায়িত্বশীল ৬৬ বলে ৪৪। আর রান পেয়েছিলেন ফখর জামান (৪৪ বলে ৩১)। শেষের দিকে কিছুটা চালিয়ে খেলে ২১ বলে ৩০ রান য়োগ করেছিলেন আসিফ আলি।
আগের দুই ম্যাচের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেননি ভারতীয় বোলাররা। বাংলাদেশ ম্যাচের দুই সেরা বোলার ভূবনেশ্বর কুমার (৪৬-০) ও রবীন্দ্র জাদেজা (৫০-০) এদিন উইকেট শূন্য ছিলেন। ৩ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২০ রান দিয়ে উইকেটহীন থাকেন কেদার যাদবও। তবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উইকেট না পাওয়া কূল-চা জুটি এদিন ২ টি করে উইকেট পেয়েছেন।
এদিন অবশ্য ভারতের সেরা বোলার ছিলেন জসপ্রিত বুমরায আগের দুটি ম্যাচেও ভাল বল করলেও ভূবির আড়ালে ঢাকা পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। এদিন প্রথম স্পেলে কৃপণ বোলিং করার পর দ্বিতীয় স্পেলে এসেই তুলে নেন ভয়ঙ্কর হতে যাওয়া শোয়েব মালিককে। তারপর শেষ ওভারে তিনি ছিটকে দেন শাদাব খানের স্টাম্পও। সব মিলিয়ে ১০ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তান দলের প্রদর্শন এত খারাপ হলে কিন্তু এশিয়া কাপের ফাইনালে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের কর্তাদের মাথায় হাত পড়বে। কারণ শেষ পর্যন্ত যদি ফাইনালে ফের মুখোমুখি হতে হয় তাহলে এই ভারত-পাক ম্যাচ দেখার জন্য মাঠ ভর্তি হওয়া মুশকিল আছে। অনেকেই বলছেন এর থেকে ইউটিউবে পুরনো ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ দেখা ভাল।
ভারত এরপর খেলবে মঙ্গলবার। এইদিন প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। এখনও অবধি সব প্রতিপক্ষকেই বলতে গেলে হেলায় হারিয়েছে ভারত। আফগানিস্তান উদ্যমী ক্রিকেট খেলে হয়তো কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে পারে।












Click it and Unblock the Notifications