শচিনের হাত থেকে ব্যাটন তুলে নিয়েছিলেন বিরাট, মনে পড়ে এশিয়া কাপের এই ভারত-পাক ম্যাচের কথা
এশিয়া কাপ ২০১২-র ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে শচীন তেন্দুলকরের হাত থেকে বিরাট কোহলি ভারতীয় ক্রিকেটের ব্যাটন তুলে নিয়েছিলেন। আরও একবার নস্টালজিয়া সরণী ধরে সেই ম্যাচে ঘুরে আসা যাক।
এশিয় দেশগুলির মধ্যে ক্রিকেটিয় সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৮৩ সালে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল চালু করেছিল এশিয়া কাপ। প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর এই টুর্ণামেন্ট খেলা হয়। চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে শুরু হতে চলেছে এবারের এশিয়া কাপ। কোনও সন্দেহ নেই টুর্নামেন্টের সেরা আকর্ষণ ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ।

দুই দেশের মধ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ইদানিং যেই ম্যাচ ক্রমশ বিরল হয়ে পড়েছে। তবে এশিয়া কাপ কিন্তু বেশ কিছু নাটকীয় ভারত-পাক ম্যাচ উপহার দিয়েছে। মাঠের ও মাঠের বাইরের বিভিন্ন বিতর্কিত মুহূর্তের জন্য সেসব ম্যাচ রয়ে গিয়েছে দর্শকদের স্মৃতিতে। এশিয়া কাপের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচেই তো ভারতীয় ক্রিকেটের ব্যাটনের সেরা হাতবদলটা ঘটেছিল। ভারতীয় ক্রিকেটকে বহন করার ভার বিরাট কোহলির হাতে তুলে দিয়েছিলেন শচিন রমেশ তেন্দুলকর।
সেটা ২০১২ সাল। সেবার বাংলাদেশে বসেছিল এশিয়া কাপের আসর। ১৮ মার্চ মীরপুরে মুখমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। তখনও আজকের কিং কোহলির জন্ম হয়নি। ক্রিকেট বিশ্বে তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়নি সম্ভ্রম। ছয় বছর আগে তখন তিনি শুধুই একজন ২৩ বছর বয়সী উচ্চাকাঙ্খী ব্যাটসম্যান। কিন্তু তাঁর আজকের প্রতিভা সেদিনও মজুত ছিল। তবে বাইরের চালচলনে, অতিরিক্ত আগ্রাসন প্রকাশের তলায় সেসব চাপা পড়ে ছইল। সেই ছাইচাপা আগুন খুঁড়ে বের করেছিল পাক-বাহিনীই।
ওপেনার নাসির জামশেদ (১১২) ও মহম্মদ হাফিজের (১০৫) শতরানের জোরে পাকিস্তান ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে হারিয়ে বিশাল ৩২৯ রান তুলেছিল। এরপর ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় বলেই ফিরে গিয়েছিলেন ভারতের তখনকার নির্ভরযোগ্য ওপেনার গৌতম গম্ভীর। তাতেই পাকিস্তান আত্মবিশ্বাসে ফুটতে শুরু করে। শচিন ছিলেন, তবে তখন ওয়ানডেতে তাঁর ব্যাট চলছে না। আর কোহলিকে ধর্তব্যের মধ্যেই আনেনি পাকিস্তান। আনবেই বা কী করে, তখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে তিন ইনিংসে বিরাটের রান যথাক্রমে ১৬, ১৮ ও ৯।
তাদের তখনও জানা ছিল না ইতিহাস পাল্টানোটাই বিরাট কোহলি-র নেশা। যদিও এই ম্যাচের মাত্র সপ্তাহ তিনেক আগেই অস্ট্রেলিয়ার হোবার্টে শ্রীলংকার বিপক্ষে মাত্র ৮৬ বলে ১৩৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন বিরাট। সেই ম্যাচে ভারত ৩৬.৪ ওভারে ৩২১ রান তুলে জিতেছিল। কিন্তু ভারত-পাক ম্যাচ আলাদা ব্যাপার। এই ম্যাচে সফল হতে গেলে লাগে কলজের জোর।
পরের ২১১ মিনিট পাকিস্তানের বোলাররা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছিল বিরাট সংহার। ২২টি ৪ ও একটি ৬য়ের সাহায্য়ে মাত্র ১৪৮ বলে তিনি ১৮৩ রানের চমৎকার ইনিংস খেলেছিলেন। ভারত ৪৭.৫ ওভারেই ৩৩০ রান তুলে জিতে নিয়েছিল সেই ম্যাচ। জন্ম হয়েছিল কিং কোহলির।
হোবার্ট হারিকেন দেখিয়েছিল বিরাট কী করতে পারেন। কিন্তু কোহলি বিরাট কীর্তি স্থাপনে এসেছেন তা প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল তাঁর এই মীরপুর ক্লাসিকের মাধ্যমেই। সমসাময়িক অন্যান্যদের থেকে তিনি নিজেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন অন্ন উচ্চতায়। আর এই ম্যাচেই বিরাটের উল্টো ক্রিজে দাঁড়িয়ে তাঁর সংহার মূর্তি দেখতে দেখতে নিশ্চিন্ত হয়েছিলেন শচিন রমেশ তেন্দুলকর নামের একটি মানুষ। কিংবা বলা ভাল দেবতা। তিনি নিশ্চিন্ত হয়েছিলেন তিনি চলে যাওয়ার পর ভারতীয় ক্রিকেটের সাম্রাজ্যের ভার হাতে তুলে নেওয়ার লোকটি এসে গিয়েছে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: পাকিস্তান - ৫০ ওভারে ৩২৯/৫ (নাসির জামশেদ ১১২, মহম্মদ হাফিজ ১০৫, প্রবীন কুমার ২/৭৭, অশোক দিন্দা ২/৪৭); ভারত - ৪৭.৫ ওভারে ৩৩০/৪ (বিরাট কোহলি ১৮৩, শচীন তেন্দুলকর ৫২, রোহিত শর্মা ৬৮) ৬ উইকেট।












Click it and Unblock the Notifications