Anubrata Mondal: সিএবির টুর্নামেন্টের আসরে অনুব্রতকে সংবর্ধনা, পাশেই স্নেহাশিস ও জেলাশাসক
Anubrata Mondal: খেলা হবে, ভয়ঙ্কর খেলা হবে! জেলযাত্রার আগে তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের এই স্লোগান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। সেই অনুব্রতই এবার হাজির ক্রিকেট মাঠে।
সিএবির আন্তঃ জেলা টি২০ টুর্নামেন্টের তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচের পাশাপাশি ফাইনাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হলো বীরভূমের সিউড়ির ডিএসএ মাঠে। সেখানেই অনুব্রতকে সংবর্ধনা দেওয়া হলো। তাতেই শুরু হয়েছে নয়া বিতর্ক।

তিহার জেল থেকে অনুব্রত জামিনে মুক্তি পেয়েছেন গরু পাচার মামলায়। যদিও একাধিক মামলায় তিনি অভিযুক্ত। বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি থাকলেও দলের কোর কমিটিতেও এখনও ব্রাত্য। সরকারি কোনও পদেও নেই। দল পরিচালনার রাশও যে পুরো অনুব্রতর হাতে আছে, ব্যাপারটা তেমনও নয়।
অনুব্রত তিহার জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যেদিন কলকাতা হয়ে বীরভূম ফেরেন সেদিন জেলা সফরে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সেই সময় থেকে আজ অবধি দেখা হয়নি অনুব্রতর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয়নি।
এরই মধ্যে অনুব্রত ও কাজল শেখের মধ্যে শীতল সম্পর্কও প্রকট হচ্ছে নানাবিধ বক্তব্যে। দুই নেতার অনুগামীদের মধ্যে রাজনৈতিক ঠোকাঠুকিও লেগে রয়েছে। তবে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বড় আকার নেয়নি। অনুব্রতর কারাবাসের ফলে যেমন ওজন কমেছে, তেমনই চেনা দাপটও এখনও দেখা যায়নি।
নৈহাটির বিধানসভা উপনির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থীর প্রশংসা করে ময়দানের তিন প্রধান, আইএফএ বার্তা দেওয়ায় রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবার সিএবির টুর্নামেন্টে ফের রাজনীতির ছোঁয়া!
খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, অনুব্রত শুধু তৃণমূলের জেলা সভাপতি। তিনি বীরভূম জেলা পরিষদ কিংবা জেলা ক্রীড়া সংস্থারও কোনও পদে নেই। তাহলে সিএবির আন্তঃ জেলা টি২০ টুর্নামেন্টের ফাইনালের আগে অনুব্রতকে আচমকা সংবর্ধনা দেওয়া হলো কেন? প্রশ্ন উঠছে।
অনুব্রতকে সংবর্ধনার ছবি সিএবির তরফে প্রকাশ করা না হলেও বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের ফেসবুক পেজে শেয়ার করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে অনুব্রতকে ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে সংবর্ধিত করা হচ্ছে। একইভাবে সংবর্ধিত করা হয়েছে বীরভূমের জেলাশাসক বিধান রায়, বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী, সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়দের।
শুধু তাই নয়, সকলে মিলে হাসিমুখে এই টুর্নামেন্ট সংক্রান্ত একটি পুস্তিকাও প্রকাশ করেছেন। যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও অনুব্রতর সঙ্গে এক মঞ্চে হাজির হননি, সেখানে জেলাশাসক কীভাবে তৃণমূলের এক নেতার সঙ্গে মঞ্চ শেয়ার করলেন তা নিয়েও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। চর্চা চলছে, জেলাশাসকেরও ওই সময়ে মঞ্চে থাকার দরকার কী ছিল?
সিএবি সচিব নরেশ ওঝা, যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাস, সহ সভাপতি অমলেন্দু বিশ্বাস, প্রাক্তন ক্রিকেটার ইন্দুভূষণ রায়-সহ সিএবির পদাধিকারী ও বিভিন্ন কমিটির কর্তাব্যক্তিরা এদিন ডিএসএ স্টেডিয়ামে হাজির ছিলেন। তবে অনুব্রতর পাশে দেখা গিয়েছে স্নেহাশিস, জেলাশাসক বিধান রায়, বিধায়ক বিকাশ-সহ কয়েকজনকেই। বাকি সিএবি কর্তারা সেখানে ছিলেন না।
অনুব্রতর গলায় যে উত্তরীয় দেখা দিয়েছে তাতে বীরভূম জেলা ক্রীড়া সংস্থার নাম জ্বলজ্বল করছে। ফলে অনুমান করা হচ্ছে, সিএবি নয়, সংবর্ধনা দিয়েছে বীরভূম জেলা ক্রীড়া সংস্থা। যদিও এ ব্যাপারে রাতে সিএবি সভাপতিকে মেসেজ করা হলে তিনি এখনও কিছু উত্তর দেননি। কেন একজন তৃণমূল নেতাকে সংবর্ধনা দেওয়া হলো, তা নিয়ে মুখ খোলেনি বীরভূম ডিএসএ।
জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলিতে শাসক দলের রাজনৈতিক প্রভাবের কথা বারবারই শোনা যায়। তৃণমূল নেতা অনুব্রতকে সংবর্ধনা দেওয়ায় সেই বিষয়টিই সামনে চলে এলো বলে অভিমত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। এ নিয়ে কোনও পক্ষ বিবৃতি দেয় কিনা সেটাও দেখার।
সামনের বছরই রয়েছে সিএবির নির্বাচন। সেক্ষেত্রে জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলির ভোট গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সিএবি সভাপতির উপস্থিতিতে রাজ্যের শাসক দলের বিতর্কিত ও প্রভাবশালী এক নেতার সংবর্ধনা গোটা ঘটনায় রাজনীতির রং লাগাল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। রাজ্যের বিরোধী দলগুলিও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
সাংবাদিকদের জন্য সিএবির যে গ্রুপ রয়েছে কিংবা সংস্থার ফেসবুকেও ফাইনালের কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। পোস্ট করা হয়নি অনুব্রতকে সংবর্ধনার ছবিও। ফাইনালে বর্ধমান নদিয়াকে ১৮০ রানে হারিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ওভার পূর্ণ করতে না পারায় বর্ধমান ২৩ রান পেনাল্টি পায়। ২৪৭ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে নদিয়ার ইনিংস গুটিয়ে যায় ৬৬ রানে। সেমিফাইনালের পর ফাইনালেও শতরান করে সেরার পুরস্কার পান নিখিল সিনহা। ফাইনালে তিনি করেন ৬৮ বলে ১৩৪, ১৯টি চার ও চারটি ছয়ের সাহায্যে।












Click it and Unblock the Notifications