Ranji Trophy: ক্লাস টেনের ছাত্রের রঞ্জি অভিষেক! সৌরভের নজির ভাঙলেন বনগাঁর অঙ্কিত
Ranji Trophy: কল্যাণীতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নজির ভাঙলেন অঙ্কিত চট্টোপাধ্যায়। বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক সাফল্যের পর আজ তাঁর রঞ্জি অভিষেক হলো।
অংশুল কম্বোজের বলে দুরন্ত কভার ড্রাইভে খাতা খুললেন বাঁহাতি ওপেনার। প্রথম দিনের শেষে ২০ বলে ৫ রানে অপরাজিত।

অঙ্কিতের রঞ্জি অভিষেক হলো ১৫ বছর ৩৬১ দিনের মাথায়। ১৮৮৯-৯০ মরশুমের রঞ্জি ফাইনাল সৌরভ খেলেছিলেন ১৭ বছর বয়সে। ফলে বাংলার ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া প্লেয়ারদের তালিকায় সৌরভ নামলেন তিনে, অঙ্কিত দখলে নিলেন দ্বিতীয় স্থান।
বাংলার হয়ে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের রেকর্ডটি রইল অম্বর রায়ের দখলেই। ১৯৬০-৬১ মরশুমে অম্বর রায়ের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় ১৫ বছর ১৯৪ দিনের মাথায়। ক্লাস টেনের ছাত্র বনগাঁর অঙ্কিতের হাতে বাংলা দলের টুপি তুলে দেন ঋদ্ধিমান সাহা।
অঙ্কিতের উত্থানের কাহিনীও চমকপ্রদ। ভোর সাড়ে তিনটেয় উঠে চারটে পঁচিশের বনগাঁ-শিয়ালদহ লোকালে চাপা। শিয়ালদহে পৌঁছতে আড়াই ঘণ্টা। আরও আধ ঘণ্টার পথ পেরিয়ে কলকাতা ময়দানে আসতে হয় অঙ্কিতকে। রাতে বাড়ি ফিরতে ৯টা-১০টা। গত তিন বছর ধরে এই রুটিনই মেনে চলেছেন অঙ্কিত।
অভিমন্যু ঈশ্বরণ ক্লাব ক্রিকেটে খেলতে গিয়ে চোট পেয়েছেন। সে কারণে ছিটকে গিয়েছেন বাংলা-হরিয়ানা ম্যাচ থেকে। তাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় অঙ্কিতের রঞ্জি অভিষেক। যদিও বিশাল ভাটির আজ অভিষেক হয়নি।
অঙ্কিতের কথায়, সব কিছুই আমার কাছে স্বাভাবিকই আছে। গতকাল রাতে ভালো ঘুমিয়েছি। আমি আগ্রাসী শট খেলতে যাইনি। বল বুঝে শট খেলেছি। চেন্নাই সুপার কিংসে সুযোগ পাওয়া তথা রঞ্জি ম্যাচে ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডধারী অংশুল কম্বোজের বলে অঙ্কিতের শটই প্রথম দিনে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাবা অনুপ চট্টোপাধ্যায় পেশায় কনট্রাক্টর। ছোটবেলায় ছেলের ক্রিকেটের প্রতি টান দেখে ক্রিকেট ব্যাট-সহ কিটস কিনে দেন। নিজেদের জমিতেই অনুশীলন চালিয়ে যেতে থাকেন অঙ্কিত। সোনালী ক্রিকেট কোচিং সেন্টারে দোলন গোলদারের কাছে নেন ক্রিকেটের পাঠ।
শান্ত স্বভাবের অঙ্কিত মন দিয়ে কোচের কথা শুনে থাকেন। না বলা অবধি প্র্যাকটিস থামাতে চান না। অঙ্কিত নজরে পড়েন বিজয় মার্চেন্ট ট্রফিতে বাংলার অনূর্ধ্ব ১৬ দলের হয়ে সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী হওয়ায়।
এরপরই সুযোগ আসে বাংলার অনূর্ধ্ব ১৯ দলে। যে দলের হেড কোচ সৌরাশিস লাহিড়ী। যিনি সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের কথাতেই এই দলের দায়িত্ব নিয়েছেন। ভিনু মাঁকড় ট্রফিতে বরাবাটি স্টেডিয়ামে অসমের বিরুদ্ধে ৭৫ বলে শতরান হাঁকান অঙ্কিত। এই টুর্নামেন্টেও বাংলার হয়ে সর্বাধিক রান করেছেন, চারশোরও বেশি।
কোচবিহার ট্রফির ম্যাচে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ইডেনে লাঞ্চের আগেই শতরান করার কীর্তি রয়েছে অঙ্কিতের। সৌরাশিস আজ কল্যাণী গিয়েছিলেন অঙ্কিতের অভিষেক দেখতে। তাঁর কথায়, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম শটটাই কভার ড্রাইভ। যা অঙ্কিতের সিগনেচার শট।
নির্ভীক অঙ্কিত বাংলাকে দীর্ঘদিন সেবা করতে পারবেন বলে আশাবাদী সৌরাশিস। অঙ্কিতের ব্যাটে সৌরভের ছায়া দেখা গেলেও বিরাট কোহলির বড় ভক্ত তিনি। আগামী মঙ্গলবার জন্মদিন। তার আগে অভিষেক ম্যাচ স্মরণীয় রাখতে চান অঙ্কিত, সুযোগের সদ্ব্যবহার করে।












Click it and Unblock the Notifications