Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস কীভাবে হলেন রয়? ব্রুক ও লরার সঙ্গে সম্পর্ক থেকে অবসরের 'আসল' কারণ জানুন

অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রয়াত হয়েছেন। শোকাহত ক্রিকেটবিশ্ব। মাত্র ৪৬ বছরেই শেষ বর্ণময় জীবনের পথ চলা। মাঠের মধ্যে সাইমন্ডসকে কখনও ব্যাট, কখনও বল বা ফিল্ডিংয়ে দেখা গিয়েছে আগ্রাসী মেজাজে। কিন্তু মাঠের বাইরের সাইমন্ডস কেমন ছিলেন। সেদিকে আলোকপাত করা যাক।

দত্তক পুত্র

অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের জন্ম ১৯৭৫ সালের ৯ জুন। তবে আসল বাবা-মায়ের সঙ্গে কখনও দেখা হয়নি সাইমন্ডসের, যাঁদের একজন ছিলেন আফ্রো ক্যারিবিয়ান ও অপরজন ইউরোপীয়। সাইমন্ডসকে দত্তক নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের শিক্ষক দম্পতি কেনেথ ওয়াল্টার সাইমন্ডস ও বারবারা সাইমন্ডস। তাঁদের সঙ্গেই মাত্র ১৮ বছর বয়সে সাইমন্ডস চলে গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়। গত মাসে ব্রেট লি পডকাস্টে সাইমন্ডস বলেছিলেন, আমি দত্তক পুত্র। ফলে জানি না আমার আসল বাবা-মা কে। তাঁদের সঙ্গে কখনও দেখা হয়নি। আমার যখন ছয় সপ্তাহ বয়স তখন একটি ক্লিনিকে গিয়ে আমার বাবা-মা (যাঁরা দত্তক নেন) শিশু দত্তক নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। তখনকার নিয়মমতো তাঁরা আমাকে এক সপ্তাহের জন্য তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যান। অনেকটা টেস্ট ড্রাইভের মতো। সপ্তাহখানেক পর বাবা-মা ক্লিনিকে যান। সেখানে জানতে চাওয়া হয় আমাকে নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট কিনা। মা বলেছিলেন, "ও দেবদূত, পারফেক্ট, আমরা ওকে রেখে দিতে চাই।" এরপর কাগজপত্র তৈরি হতেই আমি অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস হয়ে গেলাম।

রয় কেন?

অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের ডাকনাম 'রয়'। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও লেখা রয়েছে অ্যান্ড্রু রয় সাইমন্ডস। এই ডাকনামটি দিয়েছিলেন একজন জুনিয়র স্পোর্টস কোচ। সাইমন্ডসের সঙ্গে বাস্কেটবল খেলোয়াড় লেরয় লগিনসের মিল থাকায়। ১৯৮৮ সাল থেকে সাইমন্ডসরা থাকতে শুরু করেন গোল্ড কোস্টে। সেখানে কেন সাইমন্ডস অল সেইন্টসে ডেপুটি হেডমাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ব্রুকের সঙ্গে প্রেম, বিয়ে

ছোটবেলায় অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের সঙ্গে অ্যাঙ্গলিকান স্কুলে (Anglican School) আলাপ হয় ব্রুক মার্শালের সঙ্গে। ১১ বছর পর ২০০৪ সালের ২৪ এপ্রিল ব্রিসবেনের সেন্ট জন্স অ্যাঙ্গলিকান ক্যাথিড্রালে তাঁকে বিয়ে করেন অ্যান্ড্রু। বাইরে থেকে দেখে রুক্ষ মনে হলেও সাইমন্ডসের অন্তর যে কোমল সে কথা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন ব্রুক। কিন্তু এক বছরের কিছু সময়ের বেশি এই বিয়ে টেকেনি। তাঁদের সম্পর্ক ছিন্ন হয় ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে। যদিও পরে সাইমন্ডস জানিয়েছিলেন, বিয়ে টিকিয়ে রাখতে ক্রিকেট ছাড়ার কথাও তাঁর ভাবনায় এসেছিল।

জীবনে এলেন লরা

অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস লরাকে বিয়ে করেন ২০১৪ সালে তাঁদের পুত্রসন্তানের জন্মের এক বছর পর। ২০০৪ সালে সাইমন্ডসের সঙ্গে লরার আলাপ। ব্যাচেলর অব এক্সারসাইজ অ্যান্ড মুভমেন্ট সায়ান্স নিয়ে কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনার সময় কাজের অভিজ্ঞতার জন্য কুইন্সল্যান্ড বুলসে স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং বিভাগে যোগ দেন লরা। সাইমন্ডসের সঙ্গে আলাপ গড়ায় বন্ধুত্বে। এরই মধ্যে বিষয়টি অন্য মাত্রায় পৌঁছে যায় ২০০৯ সালের মেলবোর্ন ডে-তে। এই দিনে অস্ট্রেলিয়ায় বাৎসরিক ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতা হয়। সাইমন্ডস লরাকে মেসেজ করে জানতে চান, তাঁর কোনও পরামর্শ রয়েছে কিনা। এরপর সাইমন্ডসের পছন্দের ঘোড়া জেতার পর লরাকে ব্রিসবেনের বাড়িতে ডিনারে আমন্ত্রণ জানান সাইমন্ডস।

ডিনারেই মন জয়

লরা অস্ট্রেলিয়ার এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, সাইমন্ডস প্রচুর কাঁকড়া ও মাছ ধরে ডিনার টেবিলে রকমারি সি-ফুড সাজিয়ে রেখেছিলেন। তখনও অবধি সি-ফুড খাননি লরা। ফলে কীভাবে এগুলি খাবেন তা নিয়েই চিন্তায় পড়ে যান। সেই থেকেই লরার মন জিতে নেন সাইমন্ডস, সেই সম্পর্ক অটুট রইল আমৃত্যু। লরা ওই সাক্ষাৎকারেই জানিয়েছিলেন, কোনও সতীর্থ বা রাজনীতির মতো নেতিবাচক বিষয় নয়। আমি যখন অন্তঃস্বত্ত্বা ছিলাম, কন্যাসন্তানের জন্মের আগে আমার পাশে থাকার জন্যই আইপিএলের ষষ্ঠ মরশুম চলাকালীন অবসর নিয়ে সাইমন্ডস টাউন্সভিলের বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। এটাই তাঁর কাছে স্বর্গ ছিল। উল্লেখ্য, সেই টাউন্সভিলেই চিরবিদায় নিলেন সাইমন্ডস। লরা সিডনি থেকে টাউন্সভিলে রওনা হয়ে গিয়েছেন শোকসংবাদ পেয়েই। তিনি শুধু বলেছেন, আমি ভাবছি সন্তানদের কী হবে? খুবই সাধারণ জীবনযাপন করতে দেখেছি। কোনও কিছুতেই হতোদ্যম হতেন না। বাস্তবোচিতভাবে ঠাণ্ডা মাথায় সব কিছু সামলাতে পারতেন।

স্পটলাইট থেকে দূরে

সন্তানদের মধ্যে সাইমন্ডসের অনেক চারিত্রিক গুণ পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে লরাকে উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে অজি সংবাদমাধ্যম। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক অ্যালান বর্ডার বলেছেন, খুব সহজ সরল জীবনযাপন করতে ভালোবাসতেন। চাইতেন স্পটলাইট থেকে দূরে থেকে জীবনকে উপভোগ করতে। গবাদি পশুদের নিয়ে সময় কাটানো থেকে মাছ ধরা, এ সবই ছিল তাঁর পছন্দের। ক্রিকেট থেকে দূরে স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে অন্য পর্যায়ের জীবন উপভোগের কথা সাইমন্ডসও জানিয়েছিলেন নানা সময়। যদিও তা থেমে গেল অকালেই।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+