বাংলার বরোদা বধ, ৩৫০ রান তাড়া করে জয় চার উইকেটে
বাংলার বরোদা বধ, ৩৫০ রান তাড়া করে জয় চার উইকেটে
চতুর্থ ইনিংসে দুর্দান্ত কামব্যাক! টানটান উত্তেজনার ম্যাচে বরোদাকে ৪ উইকেটে হারাল বাংলা। ঐতিহাসিক ছাড়া এই জয় ব্যাখ্যা সম্ভব নয়।
কারণ বাংলার সামনে লক্ষ্য ছিল ৩৫০। ১৭৫ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে হারের স্ক্রিপ্ট লেখা শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকেই দুরন্ত কামব্যাক করে বরোদাকে বাংলা হারালো ৪ উইকেটে। দারুন ব্যাট করলেন অধিনায়ক ইস্বরণ(৭৯),মন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি (৩৭) ও দুই তরুণ তুর্কি শেহবাজ অপরাজিত ৭১ ও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা অভিষেক পোড়েল অপরাজিত ৫৩। ম্যাচের সেরা শাহবাজ আহমেদ।

প্রথম ইনিংসে মাত্র ৮৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর অতি বড় সমর্থক আশা করেননি এই দলটি দ্বিতীয়বার ব্যাট করার সময় শুধু পাল্টা প্রত্যাঘাত করবে না,হারতে থাকা ম্যাচ নিয়ে যাবে নিজেদের দিকে৷ রঞ্জি ট্রফিতে বরোদার বিরুদ্ধে বাংলার জয় কে অবিষ্মরণীয় বললে হয়ত অনেক কম কথা বলা হয়! নেভিল কার্ডাস ক্রিকেটের স্কোর বোর্ডকে গাধা বলেছিলেন,কারণ স্কোর বোর্ড কখনও ম্যাচের আক্ষরিক স্কিল,লড়াই,পাল্টা প্রত্যাঘাতের ছবি সেই ভাবে দেখাতে পারে না৷
বরোদার বিরুদ্ধে চতুর্থ ইনিংসে অবিষ্মরণীয় লড়াইয়ে জয় হাসিল করল বাংলা। বারাবাটি স্টেডিয়ামে যেভাবে লড়াই দেখাল বাংলা, তাকে কুর্ণিশ না করতেই হয়। শুরুটা করেছিলেন অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ ১১৬ বলে ৭৯ রান,লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে আসেননি অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার মনোজ তিওয়ারি ও অনুষ্টুপ মজুমদার৷ এরপর সেই রূপকথার ক্রিকেট। শাহবাজ আহমেদের ৭১ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস,সঙ্গে অভিষেক পোড়েল৷ অপরাজিত ১০৮ রানের পার্টনারশিপ,বাংলা বরোদাকে হারালো ৪ উইকেটে৷ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন নিঃসন্দেহে এই জয় রঞ্জি ট্রফিতে বাংলাকে অন্য ম্যাচগুলিতে ভাল খেলার অনুপ্রেরণা জোগাবে৷
প্রথম ইনিংসে মাত্র ৮৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচ জিততে দ্বিতীয় ইনিংসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪৯ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে পাহাড় প্রমাণ রান তাড়া করতে নেমে প্রথমে অভিমন্যু ঈশ্বরণ এবং সুদীপ ঘরামীর জুটি ভালো শুরু করলেও মিডল অর্ডার ফের ব্যর্থ হাওয়ায় বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলা। সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে প্রথমে অভিজ্ঞ মনোজ তিওয়ারির সঙ্গে জুটি বেঁধে এবং পরে নবাগত অভিষেক পোড়েলকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাকে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে দিলেন বর্তমান সময়ে বাংলার অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার শাহবাজ আহমেদ।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা এও বলছেন, ইতিহাসে লেখা থাকবে এই ম্যাচ । বাংলার সেরা ম্যাচ এর মধ্যে একটা তো অবশ্যই । হার কে জয় এ পরিণত করতে গেলে দম লাগে । প্রথম ইনিংসে ৮৮ তে অলআউট হয়ে , ৩৫০ চেস করে জেতা সত্যিই অবিশ্বাস্য ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বরদা:১৮১/১০ ও ২৫৫/১০
বাংলা:৮৮/১০ ও ৩৫০/৬












Click it and Unblock the Notifications