সুবোধ ভাটি নন, টি২০ দ্বিশতরানে 'অভিষেক' বাঙালি ক্রিকেটারেরই
সুবোধ ভাটি নন, টি২০ দ্বিশতরানে 'অভিষেক' বাঙালি ক্রিকেটারেরই
দিল্লির সুবোধ ভাটিই প্রথম নন। টি২০ ক্রিকেটে প্রথম দ্বিশতরান হাঁকানো ব্যাটসম্যান এক বঙ্গসন্তানই। যাঁর নাম অভিষেক দাস। পরিবর্তে সুবোধ ভাটিকে কৃতিত্ব দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রচার করা হয়েছিল, তা সত্য নয়। তাই ইতিহাসে নাম তোলা ওই বাঙালি ক্রিকেটারের এ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়ে দিতে চাই।

সুবোধ ভাটিই প্রথম নন
গত ৪ জুলাই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছিল যে বিশ্বের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টি২০ ক্রিকেটে দ্বিশতরান হাঁকিয়েছেন দিল্লির সুবোধ ভাটি। এক ক্লাব টুর্নামেন্টে দিল্লি একাদশের হয়ে সিম্বার বিরুদ্ধে ৭৯ বলে ২০৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন ভাটি। ১৭টি চার ও ১৭টি ছক্কা এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকে। যদিও টি২০-তে দ্বিশতরান করা প্রথম ব্যাটসম্যান তিনি নন।

প্রথম বাংলার অভিষেক দাস
টি২০ ক্রিকেটে দ্বিশতরান করা প্রথম ক্রিকেটার দিল্লি সুবোধ ভাটি নন। তাঁর আগে এই নজির রয়েছে বাংলার ব্যাটসম্যান অভিষেক দাসের। যিনি ২০১৪-১৫ মরসুমে ভবানীপুরের হয়ে জেসি মুখার্জী টুর্নামেন্টের ম্যাচে দ্বিশতরান হাঁকিয়েছিলেন। বেঙ্গল পুলিশের বিরুদ্ধে ৬৮ বলে ২০৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেছিলেন অভিষেক। যা বিশ্বের তাবড় ব্যাটসম্যানরা এখনও করে দেখাতে পারেনি।

নিজেই নিজের ফ্যান
কোনও রথী-মহারথী নন, তিনি নিজেই নিজের ফ্যান বলে জানিয়েছেন অভিষেক দাস। বলেছেন যে তিনি নিজের ওয়ার্ক এথিক্স পছন্দ করেন। তিনি যে নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় মোটিভেটর, তাও জানাতে ভোলেননি টি২০ ক্রিকেটে দ্বিশতরান হাঁকানো বিশ্বের প্রথম ব্যাটসম্যান। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে মা-বাবার হাত ধরে কোচিং ক্যাম্পে ভর্তি হয়েছিলেন অভিষেক। শ্যামনগর সবুজ সংঘ থেকে শুরু হয় পথচলা। সেই যাত্রা যে এতটা পথ অতিক্রম করবে, তা ভেবেই গর্বিত অভিষেক দাস।

সংক্ষেপে অভিষেকের কেরিয়ার
মাত্র ১৩ বছর বয়সে দ্বিতীয় ডিভিশন খেলার সুযোগ এসেছিল অভিষেকের কাছে। বহু ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তিনি ২০১০ সালে ভবানীপুরে সই করেছিলেন। যদিও ওই মরসুমে পর প্রথম তিন ম্যাচে অভিষেকের ব্যাটে রান ছিল না। পরের মরসুমে পোর্ট ট্রাস্টের বিরুদ্ধে দু-দিনের ম্যাচে ৩১২ রান করেছিলেন অভিষেক। দীর্ঘদিন পর ঘরোয়া ক্রিকেটের দু-দিনের ম্যাচে ত্রি-শতরান করার রেকর্ড হয়েছিল সেদিন। ভবানীপুরে নিজের দ্বিতীয় মরসুমে ১১০০ রান করেছিলেন অভিষেক। সেই বছর-ই সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে বাংলা দলে সুযোগ পেয়েছিলেন মারকুটে ব্যাটসম্যান। ভবানীপুরে নিজের তৃতীয় বছরে চারটে সেঞ্চুরি করেছিলেন অভিষেক। চতুর্থ বছরে ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২০৪ রান করেছিলেন অভিষেক। সেই মরসুমেই মোট ৮৫টা ছয় মেরেছিলেন অভিষেক। সেটাও একটা রেকর্ড। দু-দিনের ম্যাচের দ্রুততম ২৫০ রানের রেকর্ড করা অভিষেকের ঝুলিতে এক ওভারে ৬টি ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ডও রয়েছে। ২০১৪ সালে বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয়েছিল অভিষেকের। প্রথম ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৯ রান করেছিলেন অভিষেক। যদিও বাংলা সেবার এলিট গ্রুপেই থেকে গিয়েছিল। ২০১৫-১৬ মরশুমে বাংলা দল থেকে বাদ পড়েছিলেন অভিষেক। এরপর থেকে আরও পরিশ্রম করতে শুরু করেছিলেন বাংলার ব্যাটসম্যান। ২০১৯-২০ মরশুমে টি-টোয়েন্টিতে ২৮ বলে সেঞ্চুরি করা অভিষেক টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির নজির গড়েছিলেন। গত দশ বছরে ভবানীপুরের হয়ে ১১ হাজার রান করা ক্রিকেটার ৩০টি সেঞ্চুরি করেছেন। বাংলা দলে প্রত্যাবর্তন ঘটানোই তাঁর লক্ষ্য।












Click it and Unblock the Notifications