আজ মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে নামছে ভারত, ইতিহাস থেকে আর এক কদম দূরে মিতালিরা
আজকের লড়াই শুধু ক্রিকেট মাঠের নয়। লড়াইটা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটকে সমান সামনে তুলে ধরা, তার প্রতিষ্ঠার লড়াই।
লর্ডসের বুকে ইতিহাস রচনা থেকে আর এক কদম দূরে ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল। বঞ্চিত, অবহেলিত আর বেশিরভাগই নাম না জানা ক্রিকেটারদের ঘিরে আচমকাই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ভারতবাসী। অথচ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে মিতালি রাজ ও ঝুলন গোস্বামী বাদে বাকীদের সেভাবে কেউ চিনতও না। তবে এই বিশ্বকাপে পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়েই নিজেদের পরিচিতি তৈরি করেছেন কোন এক স্মৃতি মন্দানা, রাজেশ্বরী গায়কোয়াড় অথবা হরমনপ্রীত কউররা।

ফলে এই লড়াই শুধু ক্রিকেট মাঠের নয়। লড়াইটা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটকে সমান সামনে তুলে ধরা, তার প্রতিষ্ঠার লড়াই। সেটা ভালোভাবেই করে ফেলতে পেরেছে মিতালি রাজের বাহিনী। এখন শুধু অপেক্ষা ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসের মাটিতে ইতিহাস তৈরি করার।
এর আগে একবারই মাত্র ২০০৫ সালে মেয়েদের ক্রিকেটে ভারত ফাইনালে উঠেছিল। তবে প্রবল প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৯৮ রানে হারতে হয়। সেইসময়ে দলে মিতালি, ঝুলনরা থাকলেও দল সেভাবে জমাট বাঁধেনি। মিতালিদের বয়সও কম ছিল, সেই সঙ্গে অভিজ্ঞতাও। ফলে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার প্রমিলা বাহিনীকে সেভাবে চাপে ফেলতে পারেননি মিতালিরা।
শুধু হারা হলে এক কথা ছিল। সেবার দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল যখন ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরিয়নে খেলছে, সেই ম্যাচ ভারতে সম্প্রচার পর্যন্ত করা হয়নি। কোনও টিভি চ্যানেল সেই ম্যাচ সম্প্রচারের দায়িত্ব নেয়নি। আর আজ এক যুগ বাদে গোটা ভারত এক হয়ে মিতালিদের জন্য শপথ নেবে, জেতার প্রার্থনায় গলা ফাটাবে। এ যে এক বদলে যাওয়ার ইতিহাস। মিতালিরা জিতে ফিরলে এতে শেষ অধ্যায় লেখা শেষ হবে।
সেবারের চেয়ে খেলার প্রেক্ষিতে এবার পরিস্থিতি অন্যরকম। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ডের মতো তাবড় দলকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ভারত। আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় রয়েছেন মিতালি-ঝুলনরা। আর শুধু এই দুজন কেন, স্মৃতি, হরমনপ্রীত, রাজেশ্বরীরা প্রত্যেকেই দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচ জিতিয়েছেন। তাই এই ভারতকে সামলানো ইংল্যান্ডের মতো বড় দলের কাছেও চ্যালেঞ্জ হবে।
মিতালি রাজ ও ঝুলন গোস্বামীর সম্ভবত এটাই শেষ বিশ্বকাপ। একজন একদিনের ক্রিকেটের সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রহকারী, অন্যজন সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন। এই দুইয়ের মিলিত পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। ১৯৮৩-র বিশ্বকাপ জিতে কপিল দেবের দল যেমন গোটা ভারতের ক্রিকেট উন্মাদনাকে পাগলামির পর্যায় নিয়ে যেতে পেরেছিলেন, তেমনই মিতালিরা এদিন লর্ডসের বুকে ভারতের জয়পতাকা উড়িয়ে মহিলা ক্রিকেটের ঝান্ডা উপরে তুলে ধরবেন, এমনটাই আশা করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।












Click it and Unblock the Notifications