সচিনের হাফসেঞ্চুরি, তেন্ডুলকর থেকে ক্রিকেট ঈশ্বর হয়ে ওঠার পথটা কেমন ছিল?
সোমবার সচিন পার্বন। ক্রিকেট ঈশ্বরের জন্মদিন। জীবনের ২২ গজে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে চলেছেন সচিন রমেশ তেন্ডুলকর।
সচিন মানে একটা আবেগ, সচিন মানে একটা মন্ত্র, সচিন মানে ভারতবাসীর সর্বকালের সেরা ক্রিকেট আইকন। ১ থেকে ৪৯ পার করে সোমবার ৫০-এ পর্দাপণ করতে চলেছেন মাস্টার ব্লাস্টার। ঈশ্বরের জন্মদিন বলে কথা, তাও হাফসেঞ্চুরি। ঐশ্বরিক আয়োজন নিয়ে সচিন বন্দনায় মাততে তৈরি আসমুদ্র হিমাচল।

পড়াশুনার জন্য ছোট্ট সচিনকে ভর্তি করানো হল সারদাশ্রম স্কুলে। কিন্তু কোঁকড়া চুলের ছোট্ট ছেলেটাকে পড়াশুনার থেকেও খেলার মাঠ যে বেশী টানছিল। শৈশবে ক্রিকেট এবং টেনিস উভয় খেলাতেই সমান আগ্রহ ছিল সচিনের। কিন্তু ক্রিকেট দেবতা যে তাঁর বরপু্ত্রের জন্যই আসন বরাদ্দ করেছেন।
টেনিস র্যানকেট নয়, সচিনের হাতে উঠল কাঠের ব্যাটই। গন্তব্য শিবাজী পার্ক। মুম্বইয়ের ক্রিকেট নক্ষত্রদের আতুঁর ঘর এই শিবাজী। এই মাঠে ব্যাট হাতে এলেন ছোট্ট সচিন। গুরু হিসাবে পেলেন রমাকান্ত আচরেকরকে। জহুরি রত্ন চিনতে ভুল করেনি। তাঁর তালিমেই বেড়ে উঠা শুরু সচিনের। গুরু শিষ্যের এক নীরব সাধনা। ইস্পাত থেকে তরোয়াল হয়ে উঠার প্রক্রিয়াও শুরু শিবাজী পার্কের মাঠ থেকেই।

ঘরোয়া ক্রিকেটের পর এবার আন্তজার্তিক ক্রিকেট দেখল এক বিষ্ময় বালকের উথ্থান। ১৯৮৯ সালে ভারতীয় দলের পাকিস্তান সফরে সুযোগ পেলেন সচিন। করাচির মাঠে ইমরান, ওয়ার্কারদের পেস বোলিংয়ের সামনে অভিষেক হল সচিনের,১৬ বছর ২০৫ দিন বয়সে। সর্ব কনিষ্ঠ ভারতীয় ক্রিকেটার হিসাবে টেস্ট অভিষেক।সেই সিরিজেই শেষ ম্যাচে পাক পেসার ইউনুসের বলে নাকে আঘাত পেলেন,রক্তাত্ব হলেন। কিন্তু মাঠ ছাড়লেন না । আহত অবস্থান অর্ধশতরান করে সচিন বুঝিয়ে দিলেন আধুনিক ক্রিকেট পেয়ে গিয়েছে নতুন ডনকে।
পাকিস্তানের মাটিতেই ১৯৮৯ সালেই একদিনের ক্রিকেটেও অভিষেক হল। কিন্তু মাস্টার ব্লাস্টার সেঞ্চুরির খাতা খুললেন বিলেতের মাটিতে। ১৯৯০ সালের ৯ অগাস্ট ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট শতরান এল সচিনের ব্যাট থেকে। সেই শুরু সেঞ্চুরির যাত্রা। এরপর সচিন যতবার ব্যাট করতে নেমেছেন তা টেস্ট হোক একদিনের ম্যাচে, কিনবা হালফিলের টি টোয়েন্টিতেও গোটা দেশ তাঁর দিকে তাকিয়ে থেকেছে শতরানের প্রত্যাশা নিয়ে।
১ থেকে ১০০। ক্রিকেট কেরিয়ারে ১০০টি শতরান করেছেন। এরমধ্যে টেস্টে করেছেন৫১টি, একদিনের ম্যাচে করেছেন ৪৯টি। দিন এগিয়ে সচিনে ব্যাটও কথা বলেছে। ১৯৯২ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নামলেন সচিন। ব্যক্তিগত নৈপূন্য দেখালেন কিন্তু ট্রফি অধরাই থাকল। চার বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টের মাঝপথেই এল বাবার মৃত্যু সংবাদ। কিন্তু দেশের হয়ে কর্তব্যে অনড় থাকলেন।
এরপর সেই অভিশপ্ত সময় ভারতীয় ক্রিকেটে।গড়াপেটা বিতর্কে বিদ্ধ ভারতীয় ক্রিকেট। দলের হাল ধরলেন সচিন। কিন্তু ব্যাটসম্যান সচিনের মতো সফল হলেন না অধিনায়ক সচিন।ততদিন ভারতীয় ক্রিকেটে উদয় হয়েছে সচিন সৌরভ জুটির। প্রিয় দাদি নিলেন নেতৃত্বের ভার।আর সচিন হলেন তার সেনাপতি। ভারতীয় ক্রিকেটে এক নতুন বিপ্লব।


বিশ্বকাপের পর থেকেই শেষের কবিতা শুরু হয়ে গিয়েছিল সচিনের ক্রিকেট জীবনে। অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ২০১৩ সালে নভেম্বর মাসে নিজের ঘরের মাঠে জীবনের শেষ ম্যাচ খেলতে নামলেন মাস্টার ব্লাস্টার। ২৪ বছররে ক্রিকেটীয় যাত্রা পথ শেষে প্রাক্তন হলেন সচিন।
ক্রিকেট তাঁকে সাফল্য উজার করে দিয়েছে, পদ্মশ্রী থেকে ভারতরত্ন। সম্মান-খেতাবের ঝুলি পরিপূর্ণ। পুত্র অর্জুনও ২২ গজে আত্মপ্রকাশ করেছেন। জীবনের হাফ সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যাওয়ার পালা। শতায়ু ভব সচিন।












Click it and Unblock the Notifications