রিপোর্ট কার্ড নেই, রেট কার্ড রয়েছে তৃণমূলের! রামকৃষ্ণ মিশনকে মমতার 'অপমানে' জীবনের কথা শোনালেন মোদী
Lok Sabha Election 2024: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধু-সন্ন্যাসীদের যেভাবে আক্রমণ করেছেন তা বাংলার মানুষ সহ্য করবেন না। ঝাড়গ্রামের সভায় বললেন নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার খারাপ আবহাওয়ার কারণে হলদিয়ায় নামতে পারেননি। ঝাড়গ্রামের সভা থেকে মোদীর ভাষণ ভার্চুয়ালি দেখানো হয় হলদিয়ার সভায়।

নরেন্দ্র মোদী বলেন, বাংলায় তৃণমূল আর ইন্ডিয়া জোট পঞ্চম দফার পর পরাস্ত হয়ে গিয়েছে। ৪ জুন তাদের সমাপ্ত হতে দেখা যাবে। ইন্ডি জোটের ছিন্নবিচ্ছিন্ন হওয়ার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। পরাজয় নিশ্চিত বুঝে টিএমসির আক্রোশ চরমে উঠেছে। বিজেপিকে গালি দিচ্ছে, বাংলার মানুষক ধমক দিচ্ছে।
মোদী বলেন, গতকাল অবধিও কংগ্রেসকে টিএমসি গালি দিচ্ছিল। এখন বলছে তারা ইন্ডিয়া জোটের অংশ। কংগ্রেস তো ডুবে যাওয়া জাহাজ। টিএমসির জাহাজও ফুটো হয়ে গিয়েছে। দুটোই ডুববে, ফলে একটা ছেড়ে আরেকটাতে গেলেও লাভ হবে না।
নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে মোদী বলেন, কেন্দ্র তার রিপোর্ট কার্ড জনগণের কাছে পেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলায় টিএমসির রিপোর্ট কার্ড নেই। রেট কার্ড রয়েছে। বাংলায় চাকরি বিক্রির রেট কার্ডও লাগিয়ে রেখেছে। টাকা দাও, চাকরি নাও। স্কুল শিক্ষার মন্দির, তাকেও ছাড়েনি।
মোদীর কথায়, মন্ত্রীরা খুল্লমখুল্লা চাকরি বিক্রি করেছেন। নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে। এখানে দুর্নীতি, দুর্নীতিবাজদের বাঁচানো, সিবিআইয়ের কাজে বাধা দিচ্ছে টিএমসি। তৃণমূল বাংলার মানুষের কাছে বিপদ, ভাবমূর্তিও বিপন্ন। বাংলার এই হাল দেখে গোটা দেশ চিন্তিত।
মোদী বলেন, আমি এপ্রিল মাসে বলেছিলাম দলিত, আদিবাসী, পিছিয়ে থাকা জনজাতি-সহ অন্য কোনও সংরক্ষণ কেড়ে তারা মুসলিমদের সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবে না তা লিখিত জানাক কংগ্রেস। সেটা দিতে পারেনি। শেহজাদে (রাহুল গান্ধী)-র বক্তব্যে স্পষ্ট, কংগ্রেস মুসলিমদের সংরক্ষণ দেবে। আমরা তা হতে দেব না। ইন্ডি জোটে থাকা দলগুলি সাম্প্রদায়িক, সংবিধানের আদর্শের পরিপন্থী, জাতিবাদী এবং পরিবারবাদী।
মোদী বলেন, টিএমসি নেতা রাম মন্দিরকে অপবিত্র বলছেন। মুখ্যমন্ত্রী সাধু-সন্ন্যাসীদের ধমকি দিচ্ছেন। রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, ইস্কনের আধ্যাত্মিক পরিচয় সম্পর্কে সকলেই অবগত। সেই মহান সংস্থাগুলিকে ধমকাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী! এতে টিএমসির গুন্ডাদের সাহস বেড়েছে। গতকাল রাতে জলপাইগুড়িতে রামকৃষ্ণ মিশনে ভাঙচুর চালিয়েছে। কর্মচারীদের মারধর, হুমকি দিয়েছে। বাংলাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে সরকার? রামকৃষ্ণ মিশনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটবে, দেশের মানুষ ভাবতে পেরেছিলেন?
মোদীর কথায়, আমার জীবন গড়ার ক্ষেত্রে রামকৃষ্ণ মিশনের অবদানের কথা গোটা দেশ জানে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও যখনই সময় পেয়েছি রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীদের সঙ্গে গিয়ে থাকি। আর টিএমসি সরকার ভোটব্যাঙ্ককে খুশি রাখতে সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করছে। এই সন্ন্যাসীদের অপমান বাংলার মানুষ সহ্য করবেন না।












Click it and Unblock the Notifications