জঙ্গলমহল কমছে মাওবাদীদের করাল থাবা! ঝাড়গ্রামে উন্নয়নেই রাজ্যসরকারের খরচ ২০০০ কোটিরও বেশি

ঝাড়গ্রামে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের খরচ ২,০০০ কোটিরও বেশি

উন্নয়নের ক্ষেত্রে চিরকালই বাদের খাতায় থেকে এসেছে জঙ্গলমহল। কিন্তু বর্তমানে ঝাড়গ্রামে উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের খরচের বহর দেখে অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ। সূত্রের খবর, গত ৯ বছরে জঙ্গলমহল অধ্যুষিত ঝাড়গ্রামে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার খরচ করেছে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকারও বেশি। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মতে, এর আগে উন্নয়নের কাজে জঙ্গলমহলের একাংশ বাধার সৃষ্টি হলেও বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সেই সমস্যা অনেকটাই কেটেছ।

ক্ষমতায় আসার আগেই জঙ্গলমহলের উন্নতিতে একাধিক প্রতিশ্রুতি মমতার

ক্ষমতায় আসার আগেই জঙ্গলমহলের উন্নতিতে একাধিক প্রতিশ্রুতি মমতার

২০১১-এ ক্ষমতায় আসার আগেই জঙ্গলমহলের উন্নতিতে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যায় মমতা বন্দোপাধ্যায়কে। সেইসময় কার্যত মাওবাদীদের পীঠস্থানে পরিণত হয়েছিল এই ঝাড়গ্রাম। তারপরেই ‘সন্ত্রাস' দমন করে ঝাড়গ্রামের উন্নতির কর্মযজ্ঞে সামিল হন মমতা। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক জানান, "২০১৭ সালে ঝাড়গ্রাম একক জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও গত ৯ বছর ধরে শুধু ঝাড়গ্রামের উন্নতিপ্রকল্পে ২,০০০ কোটিরও বেশি খরচ হয়েছে। যার সর্বাধিক সুফল দেখা গেছে আদিবাসী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে।"

জঙ্গলমহলের অর্থনীতিকে এগিয়ে দেবে পর্যটন

জঙ্গলমহলের অর্থনীতিকে এগিয়ে দেবে পর্যটন

পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, "জঙ্গলমহলের সন্ত্রাসময় আবহ কেটে গিয়ে বর্তমানে রাস্তা তৈরি হয়েছে বিস্তর। ফলত সবুজে ঘেরা পরিবেশে ছুটি কাটাতে আসছেন অনেকেই। পর্যটন হয়ে উঠছে উন্নত।" গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিক জানিয়েছেন, "খাকরাঝোড়ে পর্যটকদের জন্য অতিথিশালাও তৈরির পথে। ডাকাই গ্রামে রাস্তা, জঙ্গলকন্যা সেতু ও আমতলা সেতু তৈরি হয়েছে। এছাড়া মসলিন, শালপাতা ও সাবাইয়ের বিভিন্ন দ্রব্য প্রস্তুতির মাধ্যমে কর্মসংস্থান হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ৯.২ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে শবর ও লোধার মত সম্প্রদায়ের উন্নতির স্বার্থে।"

 অন্যান্য ক্ষেত্রেও পরিকাঠামোগত উন্নতির উপর জোর

অন্যান্য ক্ষেত্রেও পরিকাঠামোগত উন্নতির উপর জোর

সূত্রের খবর অনুযায়ী, অন্যান্য ক্ষেত্রেও সমপরিমাণ জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। পানীয় জল সরবরাহ, শিক্ষার পরিকাঠামোর উন্নতি ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়গুলোতে অতিরিক্ত শ্রেণীকক্ষ তৈরি, কৃষিক্ষেত্র এবং ঝাড়গ্রামে শবর লোধাদের জন্য বাড়ি তৈরি বাবদ প্রায় ৯কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। বর্তমানে ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। শবর শিশুদের জন্য ফ্রি-স্কুল হোক বা অভুক্তদের জন্য খাদ্যের সংস্থান, সবেতেই এগিয়ে আসছে কলকাতার নামীদামী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি।

উন্নয়নের লক্ষ্যে আঁটোসাঁটো হয়েছে নিরাপত্তা

উন্নয়নের লক্ষ্যে আঁটোসাঁটো হয়েছে নিরাপত্তা

জঙ্গলমহল অধ্যুষিত ঝাড়গ্রামে উন্নয়নের কাজে অহেতুক বাধাবিঘ্ন এড়ানোর লক্ষ্যে আঁটোসাঁটো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এমনটাই খবর পুলিশ সূত্রে। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী শান্তিলাল মাহাতো জানিয়েছেন, "মুখ্যমন্ত্রী জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ফলে বিরোধীরা উন্নয়ন থমকে দেওয়ার চক্রান্ত করছে।" অন্যদিকে সন্ত্রাসের কালো মেঘ কাটিয়ে বেশিরভাগ মানুষের কাছে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে সুবিধা পাইয়ে দিতে বদ্ধপরিকর ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আয়েশা রানী।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+