সুন্দরবনে ফের বাঘের হামলায় প্রাণ গেল দুই মৎস্যজীবীর
সুন্দরবনে ফের বাঘের হামলায় প্রাণ গেল দুই মৎস্যজীবীর
আবারও সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের হামলায় একই দিনে মৃত্যু হল একই গ্রামের ভিন্ন দুই মৎস্যজীবীর। একজনের নাম জানা গিয়েছে বাবুলাল রপ্তান (৩০) অপরজন মণিরুল গাজী (৩৫)। দুজনেই সুন্দরবনের কুমিরমারি এলাকার বাসিন্দা। মৎস্যজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গ্রামে।

বনদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সুন্দরবনের মরিচঝাঁপির জঙ্গলে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন বছর তিরিশের বাবুলাল রপ্তান। সুন্দরবন কোস্টাল থানার কুমিরমারি গ্রাম থেকে একটি নৌকা নিয়ে কেনারাম মন্ডল এবং বাবুলাল রপ্তান কাঁকড়া ধরতে মরিচঝাঁপির চিলমারী খালে ঢুকেছিলেন।
সেখানে কাঁকড়া ধরার সময় আচমকা জঙ্গল থেকে বেরিয়ে একটি বাঘ বাবুলাল রপ্তানের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাবুলালকে মুখে করে তুলে নিয়ে জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে যায় বাঘটি। বেগতিক দেখে কেনারাম চিৎকার শুরু করলে পাশাপাশি খাঁড়িতে কাঁকড়া ধরতে ব্যস্ত অন্য মৎস্যজীবীরা এগিয়ে আসেন। সবার মিলিত চেষ্টায় বাঘ তাড়িয়ে বাবুরামের মৃতদেহ উদ্ধার করে মৎস্যজীবীরা বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে এদিন ভোর রাতে কাঁকড়া ধরতে রায়মঙ্গল নদী দিয়ে কুমিরমারি জঙ্গলে ঢোকেন কয়েকজন মৎস্যজীবী তাঁদের মধ্যে ছিলেন মনিরুল। মনিরুলের সঙ্গী-সাথীরা জানান, সেখানেই একটি বাঘ মৎস্যজীবী মনিরুলকে ঘাড়ে থাবা মেরে জঙ্গলে টেনে নিয়ে যায়। বেশ কিছুক্ষণ বাঘের সঙ্গে মনিরুলের ধস্তাধস্তি পরেও শেষ রক্ষা হয় না। মৃত্যু হয় ওই মৎস্যজীবীর। এই ঘটনার জেরে বাকিরা আতঙ্কিত হয়ে জঙ্গল ছেড়ে পালিয়ে গ্রামে ফিরে এসে খবর দেয় হেমনগর কোস্টাল থানায়। কোস্টাল থানার পুলিশ আধিকারিক মলয় মন্ডল এর নেতৃত্বের সঙ্গে বনদপ্তরের লোকজন গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হেমনগর কোস্টাল থানার পুলিশ ও বনদপ্তর। এরা অবৈধভাবে জঙ্গলে ঢুকেছিল? না, কাঁকড়া ধরার কোন সরকারি নথিপত্র আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখছে বনদপ্তর ও হেমনগর কোস্টাল থানার পুলিশ।












Click it and Unblock the Notifications