কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিজেপি বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ জানালেন শারদ, হতাশ হবেন মমতা
কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিজেপি বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ জানালেন শারদ, হতাশ হবেন মমতা
কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিজেপি বিরোধী জোটের কোনও অর্থ হয় না। যে কথা শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বলেছিলেন আগে, সেই একই কথার পুনরাবৃত্তি হল এনসিপি সুপ্রিমো শারদ পাওয়ারের মুখে। তবে শুধু এ কথা বলেই ক্ষান্ত নন তিনি। তিনি এবার নিজে উদ্যোগী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য আঞ্চলিক দলের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে।

কংগ্রেস এখন দেশের সেকেন্ড লার্জেস্ট পার্টি
শারদ পাওয়ার চান, কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিজেপি বিরোধী জোট হোক। জোট হোক সার্বিকভাবে। তিনি নিজে এ ব্যাপারে কথা বলবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্যান্য আঞ্চলিক দলের নেতাদের সঙ্গে। বোঝাবেন, বিজেপিকে হারাতে কী কেন দরকার কংগ্রেসকে। তাঁর কথায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা হতাশ হলেও এটাই দেশের মানুষের দাবি। কেননা কংগ্রেস এখন দেশের সেকেন্ড লার্জেস্ট পার্টি।

কংগ্রেস ছাড়া তৃতীয় ফ্রন্ট হবে নিষ্ফলা!
শারদ পাওয়ারের কথায়, 'এখনও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হল কংগ্রেস' | বিজেপির বিরুদ্ধে জোট প্রসঙ্গে তাই এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ারের সাফ কথা, 'কংগ্রেস ছাড়া তৃতীয় মোর্চা গড়ে আদতে কোনও লাভ হবে না।' বিজেপি বিরোধী দলগুলি কংগ্রেস ছাড়া তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের চেষ্টা করছে। কিন্তু জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি বা এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার সাফ জানিয়েছেন কংগ্রেস ছাড়া তৃতীয় ফ্রন্ট হবে নিষ্ফলা।

শারদ-মন্তব্যে হতাশা মমতা-কেসিআরের
এনসিপি সুপ্রিমোর কথায়, কংগ্রেস দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল। এই সত্য অস্বীকার করে উপায় নেই। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দলকে সঙ্গে না নিয়ে কী করে সম্ভব বিজেপিকে হারানো। গুরুত্বপূর্ণ সেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন শরদ পাওয়ার। তাঁর এই বার্তা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখরের কাছে হতাশাব্যাঞ্জক।

বিরোধী দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবেদন
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও-সহ একাধিক বিরোধী নেতা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের জন্য বিরোধী ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। তা নিয়ে এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার আলোচনাও করেছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবেদন জানান মমতা।

বিজেপির বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ জোটের লক্ষ্যে
শুধু মমতা নন, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও বলেছিলেন, তিনি জাতিকে নতুন দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য সমমনা দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করছেন। তিনি জোর দিয়েছিলেন আঞ্চলিক দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করার। রাজনৈতিক দলগুলিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন বিজেপি-বিরোধী ফ্রন্ট গঠনের জন্য। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী নেতাদের সাথে দেখা করার জন্য দেশজুড়ে ভ্রমণ করছেন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ জোট গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কংগ্রেস ছাড়া বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা বৃথা
কিন্তু শারদ পাওয়ার তাঁদের চেষ্টায় একটা কিন্তু যোগ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কংগ্রেস এখনও দেশের সেকেন্ড লার্জেস্ট পার্টি। সেই পার্টিতে উপেক্ষা করে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা বৃথা। কংগ্রেসকে সঙ্গে না নিলে জোট মূল্যহীন হয়ে যাবে। এনসিপি সুপ্রিমো শারদ পাওয়ার, শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত, ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন সবাই-ই কংগ্রেসের পক্ষে সওয়াল করেছেন।

কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিম
এদিকে আবার কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিএম। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) কংগ্রেসের সঙ্গে জাতীয় জোট গঠন না করার সিদ্ধান্তের পরে শরদ পাওয়ারের এই বিবৃতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি ২৩তম পার্টি কংগ্রেসের বৈঠকে সিপিএমের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও ধরনের জোট গঠন না করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এটা একটা অবাস্তব সিদ্ধান্ত, মনে করেন কুরিয়ান
কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের জোট না করার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে রাজ্যসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার কুরিয়েন বলেন, "তারা কীভাবে একা লড়াই করতে পারে? কীভাবে তারা কংগ্রেসকে ছাড়া লড়াই করতে পারে? আমরা উত্তরপ্রদেশে নির্বাচনে হেরেছি কিন্তু আমাদের উপস্থিতি রয়েছে। অনেক রাজ্যে সিপিএমের পক্ষে একা নির্বাচনে অংশ নেওয়াও অসম্ভব। এটা একটা অবাস্তব সিদ্ধান্ত বলেই মনে করি।

আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে জোট!
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যে, কেরলের রাজনীতিতে সিপিএম এবং পরস্পরের কংগ্রেস প্রতিদ্বন্দ্বী। অনেক সিপিএম নেতা জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না করার সিদ্ধান্তের একমত হয়েছিলেন। আবার অনেকে হননি। যাইহোক, সিপিএম রাজ্য ইউনিটগুলিকে আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

জাতীয় স্তরে এগিয়ে আসছেন আঞ্চলিক নেতারা
যেহেতু কংগ্রেস একের পর এক নির্বাচনে খারাপ পারফরম্যান্স করে চলেছে, সেখানে বেশ কয়েকটি রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলি বেশ ভালো ফল করছে। এর ফলে তাদের মধ্যে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব বাড়িয়ে তোলার আকাঙ্খা তৈরি হয়েছে। নতুন আঞ্চলিক নেতাদের জাতীয় স্তরে আবির্ভাব ঘটছে। এই ধরনের নেতাদের মধ্যে রয়েছে আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং টিআরএস-এর কে চন্দ্রশেখর রাও। এ বছর পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ব্যর্থতায় তৃতীয় ফ্রন্টের সম্ভাবনা জোরালো হতে শুরু করেছে। তবে ঐক্যবদ্ধ বিরোধী দল বা তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের কথা এখনও হয়নি।












Click it and Unblock the Notifications