১.৮ কিলোমিটারের প্রকাণ্ড গ্রহাণু বিপজ্জনকভাবে ধেয়ে আসছে, সতর্ক করল নাসা
১.৮ কিলোমিটারের প্রকাণ্ড গ্রহাণু বিপজ্জনকভাবে ধেয়ে আসছে, সতর্ক করল নাসা
আবার এক দৈত্যাকার গ্রহাণু ধেয়ে আসছে পৃথিবী অভিমুখে। কয়েকদিন আগে এক গ্রহাণু পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়েছিল। আবারও এক গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আছড়ে পড়ার। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মে মাসেই ওই গ্রহাণু পৃথিবীর কাছে আসছে। বিধ্বংসী গতিতে তা এগিয়ে আসছে। কী বিপদ লুকিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হতে পারে।

গ্রহাণুটি পৃথিবী অভিমুখে ধেয়ে আসছে বিধ্বংসী গতিতে
একটি ১.৮ কিলোমিটার প্রশস্ত সম্ভাব্য বিপজ্জনক গ্রহাণু সূর্যের চারপাশে তার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতেই পৃথিবীর কাছাকাছি আসতে চলেছে। মাসের শেষের দিকে তার পৃথিবীর কাছে আসবে। গ্রহাণুটি ঘণ্টায় ৪৭২৯৬ কিলোমিটার বেগে বিস্ময়কর গতিতে অতিক্রম করে চলেছে। তবে এক্ষেত্রে গ্রহাণুটি পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা কম বলেই জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

গ্রহাণুটি কোনও ক্ষতি ছাড়াই পৃথিবী অতিক্রম করবে!
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রহাণুটি কোনও ক্ষতি ছাড়াই পৃথিবীর পাশ দিয়ে চলে যাবে।, নাসা এখনও ওই গ্রহাণুটিকে সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করছে না। ১৯৮৯ সালে পালোমার অবজারভেটরিতে আবিষ্কৃত ১৯৮৯জেএ নামের বস্তুটিকে একটি বাইনোকুলারের সাহায্যে দেখেছে। কারণ এটি গ্রহের কক্ষপথের কাছাকাছি আসে।

গ্রহাণুর কোনও অংশ বিপদ ঘটাতে পারে
নাসা জানিয়েছে, গ্রহাণুটি পৃথিবীর ৪০,২৪,১৮২ কিলোমিটারের কাছাকাছি আসবে। এর ফলে ওই গ্রহাণ থেকে কোনও বস্তু উড়ে আসতে পারে পৃথিবীতে। গ্রহাণুটি পৃথিবীতে আছড়ে না পড়লেও তা বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি আসবে। কিন্তু গ্রহাণুর কোনও অংশ বিপদ ঘটাতে পারে। শেষবার এটি পৃথিবীর এত কাছে এসেছিল ১৯৯৬ সালে। তখন গ্রহাণুটি মাত্র চার মিলিয়ন কিলোমিটার দূরত্ব থেকে গ্রহটি অতিক্রম করেছিল।

সূর্যের চারপাশে বছরব্যাপী নিজের কক্ষপথে ঘুরবে
পৃথিবী অতিক্রম করার পর সূর্যের চারপাশে বছরব্যাপী নিজের কক্ষপথে ঘুরবে। একটি অ্যাপোলো গ্রহাণু হিসেবে চিহ্নিত এই বস্তু ২৯ মে ফ্লাইবাইয়ের পর পৃথিবীর সঙ্গে এর পরবর্তী সাক্ষাৎ হবে ২০২৯-এর সেপ্টেম্বরে। এটি ২০৫৫ এবং ২০৬২ সালে দুটি অতিরিক্ত ফ্লাইবাই তৈরি করবে। এবং তখনও পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসবে।

গ্রহাণুকে পৃথিবীর কাছাকাছি বস্তু হিসাবে কখন ধরা হয়
গ্রহাণুগুলি হল প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন বছর আগে সৌরজগতের গঠন থেকে সৃষ্ট অবশিষ্ট পাথুরে টুকরো। নাসা জয়েন্ট প্রপালশন ল্যাবরেটরি (জেপিএল)এই গ্রহাণুর গতিবিধি ট্র্যাক করে তা জানিয়েছে। একটি গ্রহাণুকে পৃথিবীর কাছাকাছি বস্তু হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, যখন আমাদের গ্রহ থেকে এর দূরত্ব পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের ১.৩ গুণের কম হয়। অর্থাৎ প্রায় ৯৩ মিলিয়ন মাইল হয়।

৪০০ দিনের কম সময়ে কক্ষপথ সম্পূর্ণ করে গ্রহাণু
পৃথিবীর কাছাকাছি আসা শেষ এত বড় গ্রহাণুটি ছিল ১৩৮৯৭১ ২০০১ সিবি২১, যা ১.৩ কিলোমিটার প্রশস্ত ছিল এবং ৪ মার্চ পৃথিবীর কাছাকাছি এসেছিল। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব ছিল ৪৯,১১,২৯৮ দূলে কিলোমিটার। পৃথিবীর কাছ দিয়ে উড়ে যাওয়ার পরে বস্তুটি তার কক্ষপথে ঘুরে চলেছে। ৪০০ দিনের কম সময়ে তার কক্ষপথ সম্পূর্ণ করে ওই গ্রহাণু।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে টুকরো টুকরো
২০২২-এর এপ্রিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির আকাশে একটি উল্কা বিস্ফোরিত হয়েছিল, যখন আরকানসাসে মানুষ লুইসিয়ানা স্ট্রিকিং ফায়ারবল দেখেছিল। যাকে বিজ্ঞানীরা বোলাইড নামে অভিহিত করেছেন। ৫৫ হাজার মাইল প্রতি ঘন্টা বেগে দক্ষিণ-পশ্চিমে চলে গেছে, এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications