মঙ্গলে প্রবল ধূলিঝড়ের মুখে নাসার রোবটিক ল্যান্ডার, দিন কাটছে একপ্রকার ‘অনাহারে’
মঙ্গলে এখন ধূলিঝড় চলছে। তার ফলে নাসার মঙ্গলযান পড়েছে গভীর বিপাকে। নাসার মার্স ল্যান্ডার মঙ্গলের বুকে ধূলিঝড়ে আটকে পড়ে ‘অনাহারে’ দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
মঙ্গলে এখন ধূলিঝড় চলছে। তার ফলে নাসার মঙ্গলযান পড়েছে গভীর বিপাকে। নাসার মার্স ল্যান্ডার মঙ্গলের বুকে ধূলিঝড়ে আটকে পড়ে 'অনাহারে' দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলের বুকে পাঠানো ইনসাইট হল একটি রোবটিক ল্যান্ডার, যা সৌরশক্তি নির্ভর একটি যান। তা রেড প্ল্যানেটে পাড়ি দিয়ে এখন প্রবল ঝড়ের মুখে পড়ছে।

মঙ্গলে শুরু হয়েছে ধূলিঝড়
মঙ্গলে আবহাওয়া ধূলিময় হয়ে রয়েছে। ৭ জানুয়ারি থেকে লাল গ্রহ মঙ্গলে শুরু হয়েছে ধূলিঝড়। সেই ধূলিঝড়ে আটকে পড়ে নাসার ইনসাইটের খুবই খারাপ অবস্থায। ২০১৮ সাল থেকে ইনসাইট মঙ্গলের বাসিন্দা হয়েছে। কিন্তু এমন সংকটে আগে কোনওদিনও পড়েনি। ধূলিঝড়ের প্রকোপে আলো পাচ্ছে না ইনসাইট। ফলে ইনসাইটের সৌরশক্তি অকেজো হয়ে রয়েছে।

সূর্যের আলো থেকে শক্তি সঞ্চয় বন্ধ
বিজ্ঞানীরা বলেন, ৭ জানুয়ারি থেকে মঙ্গলের একটি অঞ্চলে ধূলিঝড় শুরু হয়েছে। আর নাসার ইনসাইটটি সেই অঞ্চলেই রয়েছে। এর ফলে সূর্যের আলো না পেয়ে সেফ মোডে যেতে বাধ্য হয়েছে ইনসাটটি। মাঝে নাসার সঙ্গে যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ফের যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু ধূলিঝড়ের প্রভাবে সূর্যের আলো থেকে শক্তি সঞ্চয় করতে পারছে না ইনসাইট। একপ্রকার 'অনাহারে' দিন কাটছে তার।

নাসার মঙ্গলযান ইনসাইটকে নিয়ে স্বস্তি
নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ১০ জানুয়ারি ইনসাইটের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। এখনও স্থিতিশীল রয়েছে ইনসাইটের বিদ্যুৎ সরবরার। ক্ষমতা কমে এলেও ব্যাটারি সম্পূর্ণ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই এখন। এটাই যা স্বস্তির খবর নাসার মঙ্গলযান ইনসাইটকে নিয়ে।

ইনসাইটের সোলার প্যানেল ধূলিময়
মঙ্গলের এই ধূলিঝড়ে এর আগেও বিপদে পড়েছে নাসার রোভার ও ল্যান্ডার রোবটগুলি। ২০১৮ সালে মঙ্গলগ্রহে এমন ধূলিঝড় প্রবল রূপ নিয়েছিল। তার জেরে থমকে গিয়েছিলেন নাসার 'অপরচুনিটি' রোভারের অভিযান। ধূলিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিন ইনসাইটের সোলার প্যানেলও। ইনসাইটের সোলার প্যানেল ধূলিময় হয়ে উঠেছিল।

ধূলিঝড় ইনসাইটের জন্য শাপে বর!
তবে নাসার বিজ্ঞানীরা পৃথিবীতে বসেই সোলার প্যানেল থেকে ধূল পরিষ্কারের অভিনব এক পন্থা আবিষ্কার করে ফেলে। তার জেরে ইনসাইট মঙ্গল গ্রহে প্রায় চার বছর ধরে কাজ চালিয়ে যেতে পারছে। এবারও ইনসাইটের সোলার প্যানেলে আরও ধূলিকণা জমে বিপত্তি বাঁধতে পারে। প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট সিনেট জানিয়েছে, এখনও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না কী হয়েছে পরিস্থিতি। তবে এই ধূলিঝড় ইনসাইটের জন্য শাপে বরও হতে পারে।

নাসা গবেষণার কাজে ফিরিয়ে আনবে ইনসাইটকে
নাসার বিজ্ঞানীদের কথায়, স্পিরিট ও অপরচুনিটি রোভারের ক্ষেত্রে সোনার প্যানেলের উপর জমা ধূলো পরিষ্কারে সহযোগিতা করেছে ঘূর্ণিঝড় ও দমকা হাওয়া। ইনসাইটের আবহাওয়াবিষয়ক সেন্সরগুলো দমকা হাওয়া চিহ্নিত করলেও, এর কোনওটিই সোলার প্যানেল থেকে ধূলো পরিষ্কার করেনি এখনও। আপাতত সূর্যরশ্মির অভাবে গবেষণার কাছ বন্ধ রেখে ইনসাইট মঙ্গলের বুকে ধূলিঝড়ের সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছে। এই মিশন চলবে ২০২২ পর্যন্ত। এখন দেখার নাসা কীভাবে ফের গবেষণার কাজে ফিরিয়ে আনতে পারে ইনসাইটকে।












Click it and Unblock the Notifications