Mythology: অর্জুন একাই ভীষ্ম-দ্রোন-কর্ণদের হারিয়েছিলেন বিরাট-যুদ্ধে! তারপরেও কেন বাধল কুরুক্ষেত্র
অর্জুনের বীরত্ব নিয়ে প্রথম থেকেই ভয় ছিল দুর্যোধনের মনে। তাই অর্জুনের সমকক্ষ একজনকে সঙ্গে চেয়েছিলেন দুর্যাধন। ভীষ্ম-দ্রোনাচার্যরা থাকলেও তাঁরা সবথেকে বেশি ভালোবাসতেন অর্জুনকে। ফলে কর্ণকে পেয়ে দুর্যোধন একটু আশ্বস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু বিরাট-যুদ্ধে তাদের সম্মিলিত পরাজয়েও শিক্ষা হল না, কুরুক্ষেত্র বাধিয়ে ছাড়লেন কৌরবরা।
বিরাট যুদ্ধে একাই ভীষ্ম-দ্রোন-কর্ণদের মতো মহাবীরদের হারিয়েছিলেন গাণ্ডীবধারী অর্জুন। তারপরও কুরুক্ষেত্র ঘটেছিল। বিরাট-যুদ্ধের পরও কি করে কৌরবরা সাহস পেলেন কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে পাণ্ডবদের মুখোমুখী হওয়ার। মহাভারতের বিরাট পর্বে স্পষ্ট রয়েছে অর্জুন একাই ভীষ্ম, দ্রোনাচার্য, কৃপাচার্য, কর্ণ, অশ্বত্থামা, দুর্যোধন, দুঃশাসন, শকুনিদের হারিয়ে গো-ধন উদ্ধার করেছিলেন।

তারপরও অর্জুনদের বিরুদ্ধে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে নেমেছিলেন দুর্যোধন। কৌরবরা যে অর্জুনকে ভয় পেতেন বা ভয় পেয়েছিলেন, তা বহুভাবে প্রমাণিত, তারপরও শকুনির কূট-পরিকল্পনায় দুর্যোধন ধ্বংসের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন। পাণ্ডবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শামিল না করাতে পারলে কৌরবদের বিনাশ হবে না, যেটা চেয়েছিলেন শকুনি। কৃষ্ণও তা চেয়েছিলেন ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে।
কর্ণ একাধিকবার পরাজিত হয়েও দুর্যোধনকে আশ্বাস দিয়ে গিয়েছেন অর্জুনকে তিনি হারাতে সক্ষম হবেন। কিন্তু দুর্যোধন মনে রাখেননি পাঞ্চাল যুদ্ধে কর্ণের পরাজয়, মনে রাখেননি চিত্রসেনের হাতে বন্দিদশা থেকে কর্ণ তাঁকে রক্ষা করতে পারেননি। কর্ণ পরাজিত হয়ে ফিরে আসার পর অর্জুন ও ভীম যুধিষ্ঠিরের আদেশে দুর্যোধনকে রক্ষা করেন।
আসলে দুর্যোধনের উদ্দেশ্য ছিল, যেকোনওভাবে যুধিষ্ঠিরকে হস্তিনাপুর ও ইন্দ্রপ্রস্থ থেকে সরিয়ে রাখা। সে জন্যই অজ্ঞাতবাস ভাঙতে গিয়েছিলেন তাঁরা। আবার অর্জুনকে কোনওরকমে সরিয়ে যুধিষ্ঠিরকে বন্দি করতে পারলেই কাজ হাসিল। দুর্যোধন কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পথে পা বাড়ানোর পরও দ্রোনাচার্য বারবার বলেছিলেন অর্জুনের উপস্থিতিতে যুধিষ্ঠিরকে বন্দি করতে পারবেন না।
কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে ১৩তম দিনে চক্রব্যুহ রচনা করার গুপ্ত পরিকল্পনা করেছিলেন কৌরবরা। সে জন্য দ্রোনাচার্য বলেছিলেন, অর্জুনকে সরিয়ে না নিয়ে গেলে চক্রব্যুহ রচনা করা বৃথা হয়ে যাবে। এমনকী জয়দ্রথ বধের শপথের পরও অর্জুনকে আটকাতে সমগ্র কৌরববাহিনীকে নিয়োগ করা হয়েছিল। তিনটি ব্যুহ রচনা করেও কোনও ফায়দা হয়নি।
এছাড়া শল্য একাধিকবার অর্জুনের বীরত্ব নিয়ে প্রশংসা করেছিলেন কর্ণের কাছে। তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছিলেন অর্জুনের বীরত্ব দিয়ে ভগবান শিবকে সন্তুষ্ট করার কথা। খাণ্ডব বনে সমস্ত দেবতাকে পরাজিত করার কথা। কর্ণও অর্জুনকে মহান যোদ্ধা হিসেবে মেনে নিয়েছিলেন। তথাপি দুর্যোধনের অহং বোধেই কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ ও কৌরবদের পতন হয়।












Click it and Unblock the Notifications