মহাভারত পড়ার মতো সময় নেই, এই ৯টি সূত্র জেনে রাখুন জীবনে কাজে লাগবে
মহাভারতের মূল উপজীব্য বিষয় হল কৌরব ও পাণ্ডবদের দ্বন্দ্ব, যার ফল কুরুক্ষেত্রের মহাসংগ্রাম। কিন্তু তার বাইরেও দর্শন ও ভক্তির উপাখ্যান বর্ণিত হয়েছে এই মহাকাব্যে। মহাভারত হল ভরত বংশের মহান উপাখ্যান। ব্যাসদেব প্রথমে ৮৮০০ শ্লোকবিশিষ্ট 'জয়' নামক একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
তারপর ব্যাসদেবের শিষ্য বৈশম্পায়ন সেই গ্রন্থকে ২৪০০০ শ্লোকবিশিষ্ট 'ভারত' গ্রন্থ হিসেবে বর্ধিত করেন। পরে অপর এক শিষ্য 'ভারত' গ্রস্থকে বৃদ্ধি করে এক লক্ষ্য শ্লোক ও দীর্ঘ গদ্যাংশের 'মহাভারত' রচনা করেন বলে প্রচার। এই সুদীর্ঘ মহাকাব্য মহাভারত পড়ার যদি সময় না পান, তাহলে অন্তত জেনে রাখুন ৯টি মূল সূত্র।

এই ৯ মূল সূত্র বা নীতিকথা আপনার জীবনে কার্যকরী ভূমিকা নেবে। জীবনের প্রতি পদক্ষেপে আপনাকে নতুন পথের দিশা দেখাবে। আপনার জীবনের সঙ্কটকে দূরে সরিয়ে দিয়ে আলোর সন্ধান দেবে। মহাকবি ব্যাসদেব রচিত এই মহাকাব্য কে কী ভুল করেছিলেন, তার পরিণতি কী হয়েছিল, তা যদি মেনে চলেন, আপনি ভুলেও সে পথ মাড়াবেন না।
প্রথম কথা, যদি আপনি সময়মতো শিশুদের ভুল দাবি বা জেদ নিয়ন্ত্রণ না করেন, তবে শেষপর্যন্ত আপনি অসহায় হয়ে যাবেন। যেমন হয়েছিল কৌরবেদের ক্ষেত্রে। সেই দায় এড়াতে পারেন না ধৃতরাষ্ট্র বা গান্ধারী।
দ্বিতীয় কথা, আপনি যতই শক্তিশালী হোন না কেন, অধর্মের পথে থাকলে আপনার জ্ঞান, অস্ত্র, শক্তি এবং আশীর্বাদগুলি নিষ্ফল হয়ে যাবে। যেমনটা হয়েছিল কর্ণের। মোক্ষম সময়ে তিনি তাঁর অর্জিত সকল জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।

তৃতীয় কথা, বাড়ির শিশুদের এত উচ্চাভিলাষী করবেন না যার জন্য সে বড় হয়ে জ্ঞানের অপব্যবহার করে। যার জন্য সে নিজেকেই ধ্বংস করে ফেলে। সকলের অমঙ্গল করতেও সে দু-বার ভাবে না। যেমনটা করেছিলেন অশ্বত্থামা। তাঁর পরিণতি হয়েছিল মারাত্মক।
চতুর্থ কথা, কখনই কাউকে এমন প্রতিশ্রুতি দেবেন না যাতে আপনাকে অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয়। যেমন করতে হয়েছিল ভীষ্ম পিতামহকে। তিনি এমনই প্রতিশ্রুতবদ্ধ ছিলেন যে, তাঁকে শেষদিন পর্যন্ত অন্যায়ের সঙ্গে সহবত করতে হয়েছিল।
পঞ্চম কথা, সম্পত্তি, ক্ষমতা, লোভ ও আত্ম অহংকার নিজেকেই ধ্বংস করে দেয়। যেমন তিলে তিলে ধ্বংসের পথে এগিয়ে গিয়েছিলেন দুর্যোধন। ষষ্ঠ কথা, ক্ষমতার লোভ ও অন্ধ পুত্রস্নেহ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। যেমন ধৃতরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

সপ্তম কথা, যদি ব্যক্তি শিক্ষা ও জ্ঞানের দ্বারা আবদ্ধ থাকে, তবে বিজয় অবশ্যই লাভ করা যায়। যেমন, অর্জুন। তিনি তাঁর শিক্ষা বলে নিজেকে অনন্য যোদ্ধায় পরিণত করেছিলেন। বনবাসকালেও জঞান অর্জনের জন্য তিনি তপস্যাব্রতী হয়েছিলেন।
অষ্টম কথা, আপনি প্রতিটি কাজে জলিয়াতি ও কৌশল রচনা করে সফল হতে চাইলে তার ফল হয় মারাত্মক। সর্বদা জালিয়াতি করে জেতা যায় না। যেটা করতে চেয়েছিলেন শকুনি। প্রথম সফল হলেও পরে সমূলে বিনাশ হতে হয়েছিল কৌরবকুলকে।
আর নবম কথা হল আপনি যদি নীতি, ধর্ম এবং কর্ম সফলভাবে অনুসরণ করেন, তবে বিশ্বের কেনো শক্তি আপনাকে পরাস্ত করতে পারবেন। চিরকাল সত্যের পথে থেকে, ধর্মের পথে থেকে তা দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন মহারাজ যুধিষ্ঠির।












Click it and Unblock the Notifications