Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ভগবান বিষ্ণুকে কেন রাম অবতার রূপে জন্মগ্রহণ করতে হয়েছিল, নেপথ্যে কী কারণ

পুরাণ মতে, ভগবান বিষ্ণুকে রাম অবতার রূপে জন্মগ্রহণ করতে হয়েছিল। তিনি অযোধ্যায় দশরথ রাজার ঘর আলো করে জন্মেছিলেন। কিন্তু কী ছিল ভগবান বিষ্ণুর পৃথিবীতে আসার নেপথ্য কারণ। অত্যাচারী রাবণকে বিনাশ করতেই যে তাঁকে আসতে হয়েছিল, এ উত্তর প্রায় সকলেরই জানা। কিন্তু আরও কারণ রয়েছে নেপথ্যে।

রাম হল বিষ্ণুর সপ্তম অবতার। বিষ্ণুর এই রাম অবতারে পৃথিবীকে আবির্ভাবের কারণ ব্রহ্মার এক বরদান। ব্রহ্মার আরাধনা করে রাবণ এক এমন বরপ্রাপ্ত হয়েছিলেন যে, তাঁকে হারানোর ক্ষমতা ভূ-ভারতে কারো ছিল না। তিনি অমরত্বের জন্য সাধনা করেছিলেন। কিন্তু অমরত্ব প্রদান না করলেও ব্রহ্মা এমনই বরদান করেছিলেন যে, রাবণ পেয়েছিলেন প্রায় অমরত্ব।

ভগবান বিষ্ণুর রাম অবতার

ব্রহ্মা রাবণকে বর দিয়েছিলেন দেবতা, গান্ধর্ব্য, যক্ষ এবং রাক্ষসকুলে কেউ তাঁকে বধ করতে পারবে না। আর কোনো মানুষের পক্ষেও মহাবীর রাবণকে নিধন করা সম্ভব ছিল না। এইরূপ অপরাজেয় হয়ে রাবণ অত্যাচার শুরু করেন। তখন ভগবান বিষ্ণুর দ্বারস্থ হন দেবতারা। রাবণের বিনাশের উপায় জানাতে বলেন।

বিষ্ণুকেই ফের পৃথিবীতে যেতে হবে অধর্মের হাত থেকে ধর্মকে রক্ষা করতে। বিষ্ণুকে মানুষ রূপে জন্ম নিতে হবে। তবেই তাঁকে পরাভূত করা সম্ভব। বিষ্ণু তখন কৌশলার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। এবং রাবণকে নিধন করেন। কিন্তু এখানেই গল্পের শেষ নয়। আরও কিছু কারণে রয়েছে রাম অবতার রূপে বিষ্ণুর জন্মগ্রহণের।

নারদ এক সুন্দরী রাজকন্যার প্রেমে পড়েছিলেন। তাঁর স্বয়ংবরের যাওয়ার জন্য বিষ্ণুদেবের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন, প্রভু স্বয়ংবরের সময় যেন তাঁকে তিনি নিজের রূপ দান করেন। সেই আশীর্বাদ পেয়ে দেবর্ষি নারদ স্বয়ংবর সভায় যান। কিন্তু রাজ্যকন্যা তাঁর সামনে এসে হেসে ওঠেন।

ভগবান বিষ্ণুর রাম অবতার

আসলে নারদের মুখে বানরের রূপ বসিয়ে দিয়েছিলেন নারায়ণ। এই ঠাট্টায় ক্ষুব্ধ হয়ে নারদ অভিশাপ দিয়েছিলেন বিষ্ণু নারায়ণও একদিন স্ত্রীকে না পেয়ে দুঃখে কাতর হবে, চিরবিচ্ছেদের জ্বালা ভোগ করবেন। নারায়ণ বলেছিলেন তাই হবে। সেইমতো বিষ্ণু তাঁর রাম অবতারে সীতাকে হারিয়ে বিরহ দশা ভোগ করেছিলেন।

আরও এক কাহিনি লুকিয়ে রয়েছে বিষ্ণু রাম অবতারের নেপথ্যে। জলন্ধর নামে এক রাক্ষসকে শিব বধ করতে পারেননি। বিষ্ণু জানতেন ওঅই রাক্ষসের স্ত্রী বৃন্দার ধর্মনিষ্ঠার কারণে জলন্ধর জয়লাভ করেছে। তখন বিষ্ণু জলন্ধর রূপ নিয়ে বৃন্দার সামনে যান। বৃন্দা স্বামী ভাবে বিষ্ণুকে জড়িয়ে ধরেন।

তারপর বিষ্ণুদেব প্রকট হন। তখন বৃন্দা তাঁকে অভিশাপ দেন তাঁর সতীত্ব হরণের জন্য একদিন তাঁর স্ত্রীও চুরি হয়ে যাবে। সেই অভিশাপ মাথা পেতে নিয়েছিলেন বিষ্ণুদেব। বলেছিলেন, তিনি যখন রাম রূপে জন্মগ্রহণ করবেন, তখন এই অভিশাপ সত্যি হবে। সেইমতো যখন বিষ্ণু রামরূপে জন্ম নিয়েছিলেন, তখন সীতা হরণ হয়েছিল।

ভগবান বিষ্ণুর রাম অবতার

বৈকুণ্ঠে প্রহরারত জয়-বিজয়ের কাছে এসে ব্রহ্মার মানসপুত্র চার ঋ্ষি বিষ্ণুর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। তখন জয় ও বিজয় তাঁদের চিনতে পারেননি। তাঁদের কাছে বাধা পেয়ে ব্রহ্মার মানসপুত্ররা অভিশাপ দেন তাদের। তাদের রাক্ষসকুলে জন্ম হবে।

বিষ্ণু সব জানতে পেরে বলেন এই অভিশাপ খণ্ডনের কোনো উপায় নেই। তারা সাতজন্ম মর্ত্যে জন্মাতে হবে এবং তারা বিষ্ণুর উপাসক থাকবেন। নতুবা তিন জন্ম মর্ত্যে জন্মাতে হবে বিষ্ণুর শত্রুরূপে। বিষ্ণুর অবতারের হাতে বদ্ধ হয়ে তাঁদের মুক্তি ঘটবে।

সেইমতো জয় ও বিজয় রাবণ ও কুম্ভকর্ণ হিসেবে জন্ম নিয়েছিলেন। বিষ্ণুর রাম অবতার রূপে মর্ত্যে আসার নেপথ্যে এটাও একটি কারণ।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+