বলরাম বধ করতে চেয়েছিলেন অর্জুনকে, সুভদ্রাকে বিয়ে করতে গিয়ে ঘটেছিল হুলুস্থূল-কাণ্ড
বলরামের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়েছিলেন দুর্যোধন এবং ভীম। গদা যুদ্ধ শিক্ষার দুর্যোধনের পারদর্শিতা দেখে বলরামের চেয়েছিলেন বোন সুভদ্রার সঙ্গে তাঁর বিয়ে দিতে। এদিকে সুভদ্রা মন দিয়ে বসেছেন বীর অর্জুনকে।
বলরামের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়েছিলেন দুর্যোধন এবং ভীম। গদা যুদ্ধ শিক্ষার দুর্যোধনের পারদর্শিতা দেখে বলরামের চেয়েছিলেন বোন সুভদ্রার সঙ্গে তাঁর বিয়ে দিতে। এদিকে সুভদ্রা মন দিয়ে বসেছেন বীর অর্জুনকে। অর্জুনের প্রশংসা দাদা কৃষ্ণের মুখে শুনে সুভদ্রা তাঁকে না দেখেই ভালোবেসে ফেলেছিলেন।

এদিকে কৃষ্ণও চান না দুষ্ট দুর্যোধনের সঙ্গে তাঁর বোনের বিয়ে হোক। তাই পরিকল্পনা করেই ডেকে এনেছিলেন সখা পার্থকে। আর অর্জুনও দ্বারকায় এসে সুভদ্রাকে দেখে মন দিয়ে ফেলেন। শুরু হয়ে যায় অর্জুন-সুভ্রদ্রার প্রেম। বলরাম তো বোনের সম্বন্ধ প্রায় পাকা করে ফেলেছেন দুর্যোধনের সঙ্গে। কিন্তু কৃষ্ণ নিশ্চুপ।
সুভদ্রা তো দাদা বলরামের কথার উপর কিছু বলতে না পেরে কৃষ্ণের শরণাপন্ন হয়েছেন। কৃষ্ণই ফন্দি এঁটে দুর্যোধনের সঙ্গে সুভদ্রার বিয়ে ভেস্তে দিয়েছিলেন। অর্জুনকে বলেছিলেন, সুভদ্রাকে অপহরণ করতে। যখন বলরাম খবর পেয়েছিলেন সুভদ্রাকে অপরহরণ করেছে অর্জুন, তখন অর্জুনকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিলেন বলরাম।
বোনকে অপহরণের কথা শুনেই তিনি যাদব সৈন্যকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যুদ্ধের জন্য তৈরি হতে। কিন্তু যুদ্ধের জন্য তৈরি হওয়ার কথা বলতেও কৃষ্ণ ছিলেন নিশ্চল, অদ্ভুতরকম শান্ত। তা দেখে বলরামের অস্বাভাবাবিক লেগেছিল। বলরাম বুঝেছিল, এ সবই জানতেন কৃষ্ণ। তারপর কৃষ্ণ বলরামকে বুঝিয়ে বলেছিলেন সব।
কৃষ্ণ কখনই চাননি দুর্যোধনের সঙ্গে বিয়ে হোক তাঁদের প্রিয় বোন সুভদ্রার। কারণ হিসেবে কৃষ্ণ প্রথমে বলেছিলেন, সুভদ্রা চায়নি দুর্যোধনকে স্বামী হিসেবে পেতে। সে যাকে চেয়েছিল, তার সঙ্গেই সে চলে গিয়েছে। অর্জুন অপহরণ করেছে, একথা ঠিক নয়। সুভদ্রাই অর্জুনের সঙ্গে চলে গিয়েছে। তারা পরস্পরকে ভালোবাসে। আর সুভদ্রা তার যোগ্য বর পেয়েছে।
বলরাম তো কিছুতেই বুঝতে চাইছেন না সে কথা। তিনি শুধু বলছেন অর্জুন আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এই প্রতারণার শাস্তি তাঁকে পেতেই হবে। এবার শ্রীকৃষ্ণ বলরামকে বলেন, দাদা, তুমি এখন খুব রেগে আছো। তাই বুঝতে পারছো না। তুমি যদি এখন অর্জুনকে হত্যা করো, তো তোমার বোন বিধবা হয়ে যাবে। আর অর্জুন কিন্তু কম বীর নয়, সাধারণ যোদ্ধা সে নয়।
আর বোন বা কন্যার বর বাছাই করার সময় অবশ্যই বর্তমান ও অতীতের পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা মাথায় রাখতে হয়। তুমি দুর্যোধনকে পছন্দ করো, তাই তাঁকে আমাদের বোনের বর নির্বাচন করেছিলে। কিন্তু ভেবে দেখেছো কি দুর্যোধনের ভবিষ্যৎ ভালো নয়, কারণ সে অহংকারী এবং অধার্মিক। আর সুভদ্রা যাঁকে পছন্দ করেছে, সেই অর্জুন ধর্মের পথে চলা একজন বীর যোদ্ধা। তাই আমাদের খুশি হওয়া উচিত যে সুভদ্রা উপযুক্ত একজনকে স্বামী হিসেবে বেছে নিয়েছে। শ্রীকৃষ্ণের মুখে সেই কথা শোনার পর বলরাম শান্ত হন। ক্রোধ সংবরণ করে অর্জুন-সুভদ্রার বিয়ে দেন।












Click it and Unblock the Notifications