প্রয়াত সত্যজিৎ রায়ের ‘জন অরণ্য’র সোমনাথ তথা প্রদীপ মুখোপাধ্যায়, শোকের ছায়া টলিউডে
বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বর্ষীয়ান অভিনেতা প্রদীপ মুখোপাধ্যায় প্রয়াত হলেন। সোমবার সকাল ৮টা ১৫ নাগাদ তিনি দমদমের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেপ্টিসেমিয়ার (রক্তে বিষক্রিয়া) সমস্যা ছিল বর্ষীয়ান অভিনেতার। গত কয়েকদিন ধরেই অভিনেতা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সোমবার হাসপাতালেই মারা যান ৭৬ বছরের অভিনেতা। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একাধিক জনপ্রিয় সিনেমা। সত্যজিৎ রায়ের 'জনঅরণ্য' ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসা পেয়েছে।

বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বর্ষীয়ান এই অভিনেতার মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হল চলচ্চিত্র জগতে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিনেতার মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁর প্রয়াণে অভিনয় জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল। অভিনেতার পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানান তিনি। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হয় প্রদীপ মুখোপাধ্যায়ের। আইন নিয়ে পড়াশোনা করলেও তাঁর বরাবরই অভিনয়ের দিকে ঝোঁক ছিল বেশি। থিয়েটার ও আইনের পড়া একযোগে চালিয়ে গিয়েছেন।
নক্ষত্র থিয়েটার গ্রুপের হয়ে নাটক করেছিলেন। আর সেখানেই সত্যজিৎ রায়ের নজরে পড়েছিলেন প্রদীপ মুখোপাধ্যায়। ফল, ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া 'জনঅরণ্য' ছবিতে সোমনাথের চরিত্র। তারপর থেকে একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করেছেন প্রদীপ মুখোপাধ্যায়। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে 'দূরত্ব', 'অশ্লীলতার দায়ে', 'হীরের আংটি', 'শাখা প্রশাখা', 'দহন', 'উৎসব'-এর মতো ছবি। 'জনঅরণ্য' ছাড়া সেভাবে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ কোনওদিন আসেনি। বরাবরই পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করে সকলের মন জয় করেন তিনি।
জানা গিয়েছে, পরিচালক নির্মল চক্রবর্তীর 'দত্তা' ছবির শুটিং করছিলেন তিনি। দু'দিন শুটিং করার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে অভিনেতাকে নাগেরবাজারের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে দমদম ক্যান্টনমেন্টের মিউনিসিপ্যাল হাসপাতালের বেসরকারি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অভিনেতার শারীরিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। শনিবার থেকেই নাকি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন না। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে ফল মেলেনি। সোমবার সকালে হাসপাতালেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান অভিনেতা।












Click it and Unblock the Notifications