কী হয়েছিল 'দঙ্গল' অভিনেত্রী সুহানির, জেনে নিন সেই বিরল রোগের যাবতীয় তথ্য
মাত্র ১৯ বছরে মৃত্যু। খবরটা শোনার পর চমকে গিয়েছিল গোটা বলিউড। আমির খানের ছবি দঙ্গলের ছোট্ট মেয়েটির এই করুন পরিণতি হবে কেউ ভাবতেই পারেননি। পরিবারের লোকেরা যখন জানিয়েছিলেন খবরটা তখন সকলেই জানতে চেয়েছিলেন কী হয়েছিল সুহানি ভটনাগরের।
পরে জানা যায় সুহানি ডার্মাটোমায়োসাইটিস (dermatomyositis) নামে এক বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েছিেলন। ২ মাস আগেই নাকি তাঁর এই বিরল রোগ ধরা পড়ে। সুহানির বাবা জানিয়েছেন, ২ মাস আগে প্রথমে তাঁর হাত খুব ফুলে গিয়েছিল। তারপরে সেই ফোলা গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু কি কারণে এটা হচ্ছে সেটা কিছুতেই ধরা পড়ছিল না। অনেক চিকিৎসার পরেও যখন মেয়ে ভাল হচ্ছে না তখন সুহানির বাবা তাঁকে এইমস হাসপাতালে নিয়ে যান। ১১ দিন আগেই সেখানে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল। এইমসই প্রথম ধরতে পারে রোগটি। তারপর আর তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

- কী এই ডার্মাটোমায়োসাইটিস
ডার্মাটোমায়োসাইটিস হল একটি বিরল রোগ। এই রোগ সাধারণত পেশী এবং ত্বকে হয়ে থাকে। একটি ভাইরাল সংক্রমণে এই রোগটি হয়। তবে কোন ভাইসারে সংক্রমণে এই রোগ হয় বা কী কারণে এর সংক্রমণ মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে তা এখনও স্পষ্ট করে জানা যায়নি। তবে এই রোগ মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধক শক্তি নষ্ট করে দেয়।
- কী করে বুঝবেন ডার্মাটোমায়োসাইটিস আক্রান্ত
এই রোগ বিরল হলেও এটি চিহ্নিত করার বেশ কিছু উপসর্গ রয়েছে। যেমন এই রোগের প্রথম লক্ষ্ণণ দেখা দেয় ত্বকে। ত্বকের রং পরিবর্তন হতে শুরু করে। ত্বক বেগুনি রঙের হয়ে যায়। তার সঙ্গে খসখসে হয়ে ওঠে। ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। বিশেষ করে চোখের চারপাশে এবং পিঠের উরের অংশে, কনুইয়ে ত্বকে এই লক্ষ্মণগুলি দেখা দেয়।
ত্বকের রং বদল বা খসখসে ভাবের সঙ্গে সঙ্গে চুলকানি শুরু হয়। বিশেষ করে মাথার ত্বক রোদের তেজ সহ্য করতে পারে না। ত্বকের পাশাপাসি পেশীর সমস্যাও দেখা দেয় বিশেষ করে নিতম্ব, উরু, বাহু বা ঘাড়ে দুর্বলতা
পা, কাঁধ, বাহু বা ঘাড়ে ব্যাথা শুরু হয়। খাবার গিলতে সমস্যা হয়। কথা বলতে অসুবিধা হয়। হাতের আঙুল এবং পায়ের আঙুলে ব্যথা এবং রঙ পরিবর্তন হতে শুরু করে। ঠান্ডায় গাঁটের ব্যথা বাড়ে। সেই সঙ্গে িনঃশ্বাসেও সমস্যা শুরু হয়।
- কীভাবে রোগ নির্ণয় করা যায়
আপাত দৃষ্টিতে হঠাৎ করে এই রোগ সম্পর্কে ধারনা করা মুশকিল। অধিকাংশ লোকেই প্রাথমিক লক্ষ্মণ দেখে বাত বা আর্থারাইটিসই বলে মনে করবেন। তাই এই রোগ চিহ্নিত করতে হলে সংক্রমণ বা পেশী ক্ষতি এবং প্রদাহের লক্ষণগুলি দেখতে রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
ইলেক্ট্রোমিওগ্রাম (ইএমজি) - পেশী কার্যকলাপ পরীক্ষা
পেশী বায়োপসি - পেশী টিস্যুর পরীক্ষা
ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং ( MRI) বা আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়।
এছাড়াও যে পরীক্ষা গুলি থেকে এই রোগ নিশ্চিত করা যায় সেটি হল
ত্বকের বায়োপসি, ক্যান্সার পরীক্ষা, সিএটি স্ক্যান, ডার্মাটোমায়োসাইটিস প্রায় ১৫ শতাংশষ ক্যান্সারের সঙ্গে যুক্ত












Click it and Unblock the Notifications