'পদ্মাবত'-এ কী লিখেছিলেন সুফি কবি জয়সি, যা থেকে অনুপ্রাণিত হয় বনশালীর ছবি
কী লেখা আছে সেই কবিতায় জেনে নেওয়া যাক। উল্লেখ্য, খিলজির মৃত্যুর ২২৪ বছর পর এই কবিতা লেখা হয়।
রাজস্থানের রাজপুতানা ইতিহাসের একটি বড় দিক হল চিতোরগড়র রানি পদ্মিনীর জহরব্রতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে সম্মান বাঁচানোর সাহসী ঘটনা। এই পদ্মিনীর কাহিনিকে নিয়ে ছবি 'পদ্মাবত'। তবে পরিচালক সঞ্জয়লীলা বনশালীর দাবি, তিনি এই ছবি তৈরি করেছেন সুফি কবি মালিক মহম্মদ জয়সির কবিতা 'পদ্মাবত' থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। কী লেখা আছে সেই কবিতায় জেনে নেওয়া যাক। উল্লেখ্য, খিলজির মৃত্যুর ২২৪ বছর পর এই কবিতা লেখা হয়।

কে পদ্মাবতী?
সিংহল রাজকন্যা তথা রাজপুত রানি পদ্মিনীকেই গোটা 'পদ্মাবত' কবিতায় পদ্মাবতীর নাম দেওয়া হয়েছে। আর সেই নাম থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই বনশালীর ছবির প্রথম নাম হয় 'পদ্মাবতী'। তবে বিতর্কের জেরে পরে সেই নাম হয়ে যায় 'পদ্মাবত'।

'পদ্মাবত'এর বৃত্তান্ত
মালিক মহম্মদ জয়সি র লেখা 'পদ্মাবত'-এ রয়েছে যে, নিজের সময়কালের সেরা সুন্দরী ছিলেন পদ্মিনী । সিংহলের রাজকন্য়া ছিলেন তিনি। নিজের টিয়াপাখি হিরামনকে খুবই পছন্দ করতেন পদ্মিনী। হিরমানকে সহ্য করতে পারতেন না পদ্মিনীর বাবা রাজা গন্ধর্ব সেন।

এরপর যা হল পদ্মিনীর সঙ্গে
হিরামনকে মারতে গেলে সে টিয়া পালিয়ে দূর দেশে চলে যায়। ধরা পড়ে এক পাখির ব্যবসায়ীর কাছে। যিনি সেই টিয়াকে বিক্রি করেন রতন সিং এর কাছে।

হিরামন ব্যাক্ত করে পদ্মিনীর রূপ
এরপর হিরামন নামের ওই টিয়াটি রতন সিংকে বর্ণনা করে রানি পদ্মিনীর রূপ। আর পদ্মিনীর রূপের কথা জানতে পেরে, পেয়াদা পাইক নিয়ে সিংহল যান রতন সিং।

খবর যায় পদ্মিনীর কাছে
সিংহলে রাজকন্যা পদ্মিনীর খোঁজে সেখানের এক শিবমন্দিরে রতন সিং পৌঁছে দেখেন সেখান থেকে পদ্মিনী চলে গিয়েছেন। তারপরই দেব আদেশে তিনি সপারিষদ সিংহল রাজমহলে যান। সিংহল রাজ সম্মতি দিয়ে বিয়ে দেন দুজনের।

রতন সিং এর প্রথম পক্ষের স্ত্রী কে ?
পদ্মাবত-এ উল্লেখ রয়েছে রতন সিং এর প্রথম পক্ষের স্ত্রী নাগমতীর। যাঁর ডাকে দ্রুত চিতোর পৌঁছতে গিয়ে ঝড়ের মুখে পড়েন রতন সিং। আর সেই ঝড় থেকে মুক্তি দেয় পদ্মিনীর একাগ্র প্রার্থনা। এরপর রচিতোর ফিরে গেলে, এক পণ্ডিত পদ্মিনীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করলে, তাঁকে রাজ্য থেকে তাড়ান রতন সিং।

আলাউদ্দিন খিলজির আগমণ
এই পণ্ডিত চিতোরগড় থেকে উৎখাত হয়ে সোজা চলে যান, দিল্লির সম্রাট খিলজির কাছে। তাঁরে আশ্রয়ে চিতোর সম্পর্কে বহু কিছু বলার পাশাপাশি খিলজিকে তিনি পদ্মিনীর রূপের বর্ণনা দেন। আর তাতেই লোলুপিত হয়ে, চিতোর আক্রমণ করেন খিলজি। সেখানে গিয়ে চতুরতার সঙ্গে চিতোরের রাজমহলে গিয়ে আয়নায় পদ্মিনীর রূপ দেখে প্রায় ভালোলাগায় উন্মত্ত হয়ে ওঠেন খিলজি। এরপর ধুর্ততার বলে গ্রেফতার করেন পদ্মিনীর স্বামী রতন সিংকে।

পদ্মিনীকে কখনও সামনে পাননি খিলজি
এদিকে, পদ্মিনীর চতুরতায় রাজা রতন সিংকে খিলজির ডেরা থেকে মুক্ত করে আনা হয়। তবে তারপর খিলজি চিতোর আক্রমণ করলে তথনছ হয়ে যায় সব। মারা যান বহু রাজপুত সেনা। 'সতী' প্রথায় জোহরের ব্রত নিয়ে অগ্নিকুণ্ডে ঝাঁপ দেন পদ্মিনী ও নাগমতী।

সুফি কবিতার শেষে যা রয়েছে
মালিক মহম্মদ জায়সির সুফি কবিতা ''পদ্মাবত' -এর শেষে লেখা রয়েছে কেবলমাত্র চিতোরের দূর্গের ইঁট কাঠ বালির ওপর জয় লাভ করেন খিলজি। দূর্গের ইঁট, কাঠকে ইসলাম বানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু 'পদ্মাবতী' তাঁর স্বপ্নই থেকে গিয়েছে...।












Click it and Unblock the Notifications