পর পর বুলেটের আঘাতে মুহূর্তে লুটিয়ে পড়েছিলেন, গুলশন কুমারকাণ্ডে '৯৭ এর অভিশপ্ত সকালে ঠিক কী ঘটেছিল
গুলশন কুমার হত্যা মামলায় বম্বে হাইকোর্টের রায়ের দিকে যখন গোটা দেশ তাকিয়ে, তখন বারবার আলোচনায় উঠে আসছে ১৯৯৭ সালের অভিশপ্ত এক সকালের কথা। ১২ অগাস্ট ১৯৯৭ সালে মন্দিরে পূজারত অবস্থাতেই গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে মৃত্যু হয় এই 'মিউজিক মোঘল' এর। বলিউডের বুকে সেই ঘটনা এখনও আর্তনাদের স্মৃতি নিয়ে আসে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন ডনের ত্রাসের মাঝেই বলিউডের এই মর্মান্তিক ঘটনার দিন ঠিক কী হয়েছিল দেখে নেওয়া যাক।

গুলশন কুমার ও সঙ্গীতজগত
গুলশন কুমারের বয়স তখন ৪২ বছর। বলিউডের বুকে সঙ্গীতজগতে ঝড় তোলার স্বপ্ন দেখছেন তখন টি সিরিজের কর্ণধার গুলশন কুমার। ভক্তিগীতিতে তাঁর দ্বিতীয় প্রতিযোগী তখন মুম্বইয়ে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এমন সময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের থাবা এসে পড়ে বলিউডের বুকে। তবুও যাবতীয় ঝড়ঝাপ্টা কাটিয়ে সঙ্গীতকে নিয়ে বুকজোড়া স্বপ্নে নতুন নতুন আইডিয়ায় তখন বিভোর গুলশন কুমার। সেভাবে বুঝে উঠতে পারেননি যে, তাঁর দিকে কোন বিপদ আসতে চলেছে।

ঘটনার দিন ছুটিতে ছিলেন নিরাপত্তা রক্ষী
১২ অগাস্ট গুলশন কুমারের মৃত্যুর দিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন না উত্তর প্রদেশ পুলিশের তরফে থাকা বন্দুকধারী ব্যক্তিটি। গুলশনকে ওই ব্যক্তি জানিয়েছিলেন যে তিনি অসুস্থ। ফলে বেশ কিছুদিন ছুটিতে ছিলেন ওই নিরাপত্তা রক্ষী। এমনই তথ্য উঠে আসে তৎকালীন বহু মিডিয়া রিপোর্টে। সেদিন সেই বন্দুকধারীকে না নিয়েই নিজের মারুতি এস্টিম গাড়িতে চড়ে শিব মন্দিরে সকালে পুজো দেওয়ার উদ্দেশে রওনা হন গুলশন কুমার।

ঘড়ির কাঁটায় তখন ১০:১০ মিনিট..
১২ অগাস্ট ১৯৯৭ সালের সেই রক্তাক্ত ঘটনা এখনও বহুজনের স্মৃতিতে ভাসছে। জনবহুল এলাকায় শিব মন্দিরে সাদা বসন পরে সেদিন ঠিক ১০:১০ মিনিটে প্রবশ করেন গুলশন। এমন সময় তাঁকে মন্দিরে বহু জনই দেখে থাকেন। সেদিনও তাই হয়েছিল। শোনা যায় পুজো দিয়ে বেরিয়ে আসেন ১০:৪০ মিনিট নাগাদ। এরপর কয়েকটি পা হেঁটেই গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন তিনি। নির্মম ঘটনা ঘটে গেল তখনই।

নির্মম ঘটনার মুহূর্তে কী দেখা যায়?
শোনা যায়, গুলশন কুমার যখন সেদিন পুজো দিয়ে গাড়িতে উঠছিলেন তখনই তাঁকে লক্ষ্য করে এক আততায়ী এসে নির্বিচারে গুলি চালাতে থাকে। প্রথম গুলি কপাল লক্ষ্য করে আসে বলে খবর শোনা যায়। পর পর গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে ততক্ষণে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন দেশের তামাম এই সঙ্গীতশিল্পী। দিনের আলোয় মুম্বইয়ের বুকে এই হত্যাকাণ্ড একের পর এক ঝড় তোলে। উঠতে থাকে প্রশ্ন।

নেপথ্যে ষড়যন্ত্রের তত্ত্বে বহু সন্দেহ, প্রশ্ন, জল্পনা
শোনা যায় নামী সঙ্গীত পরিচালক জুটি এই ঘটনার ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত। যে জুটির একজন সেই সময় থেকে দেশ ছেড়ে বেরিয়ে যান। তবে প্রশ্ন উঠতেই থাকে, যে কী এমন ঘটেছিল যার জন্য এই সঙ্গীত শিল্পীকে মৃত্যু মুখে পড়তে হল। উত্তরে শোনা যায়, বিখ্যাত ওই সঙ্গীত পরিচালক জুটির একটি অ্যালবাম ভালোভাবে গুলশনের টি সিরিজ মার্কেট করেনি বলে তাঁরা অভিযোগ তোলেন। এমন তথ্য মিডিয়া রিপোর্টে উঠে আসে। তবে তার সত্যতা জানা যায়নি। এরপর ওই সঙ্গীত পরিচালকরা আন্ডারওয়ের্ল্ডের সংযোগে থাকেন বলে খবর শোনা যায়। পরবর্তী পর্যায়ে গুলশনের কাছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের হুমকির ফোন আসে বলে শোনা যায়। চাওয়া হয় টাকা। একটি বিপুল অঙ্কের টাকা দিতে রাজি হননি গুলশন। এমনই তথ্য় দিচ্ছে মিডিয়া রিপোর্ট। তারপরই গুলশনের মৃত্যু হয়।

গুলশন মামলায় আজ রায়
গুলশন কুমার হত্যাকাণ্ডে ২৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল ওঠে। পুলিশে রেজিস্টার হয় কেস। চলতে শুরু করে মামলা। ২০০১ সালে দাউদ মার্চেন্ট নামের এক ব্যক্তি কলকাতায় এই মামলার অভিযুক্ত হিসাবে ধরা পড়ে। সে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পায়। এরপর আজ বম্বে হাইকোর্ট এই মামলায় কোন রায় দেয় সেদিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।












Click it and Unblock the Notifications