করোনা সংকটে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে গায়ক-অভিনেতা চ্যাঙের ভিডিও ভাইরাল
করোনা সংকটে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে গায়ক-অভিনেতা চ্যাঙের ভিডিও ভাইরাল
করোনার আতঙ্কময় আবহের মাঝেই বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্যের শিকার হলেন গায়ক ও অভিনেতা মায়াং চ্যাঙ। করোনার উৎসস্থল চিনে অবস্থিত হওয়ার দরুণ ভারতে কিছুদিন ধরেই মঙ্গোলিয়ান মুখাকৃতির মানুষেরা বর্ণবৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। মায়াং চ্যাঙ সেই তালিকায় নবতম সংযোজন।
মায়াং চ্যাঙের ভিডিওর বক্তব্য
বলিউডের কিং খানের বিখ্যাত ডায়লগ "মাই নেম ইজ খান অ্যান্ড আই অ্যাম নট এ টেররিস্ট" -এর ধাঁচে মায়াং চ্যাঙের উক্তি দিয়ে ভিডিওটি শুরু হয় : "নমস্তে, মাই নেম ইজ চ্যাঙ অ্যান্ড আই অ্যাম নট করোনাভাইরাস।" ভিডিওতে মায়াং চ্যাঙকে মানুষের বর্ণবৈষম্যমূলক বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, "এতদিন মোমো, হাক্কা নুডলস এইসব নামে ডাকত মানুষ। এখন নতুন সংযোজন 'করোনাভাইরাস'। আমাদের সাথে এমন কেন করা হয়? আমরা অন্যরকম দেখতে বলে?"
|
ছোট থেকেই বর্ণবৈষম্যের শিকার চ্যাঙ
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে চ্যাঙ আরও জানিয়েছেন যে, পূর্বপুরুষ চিনা হলেও তিনি যে সম্পূর্ণরূপে ভারতীয়, সে ব্যাপারে সন্দেহ করতেন প্রত্যেকে। ছোট থেকেই চিংচং, মোমো,হাক্কা নুডলস-ইত্যাদি নামে ডাকা থেকে শুরু করে 'চোখটা একটু খোল'-এর মত উক্তি চ্যাঙকে বিব্রত করেছে।

প্রতিবাদ ঝরে পড়েছে মায়াং চ্যাঙের গলায়
উক্ত ঘটনা প্রসঙ্গে ভিডিওতে চ্যাঙ বিভিন্ন বর্ণবৈষম্যমূলক ঘটনা তুলে ধরেছেন। উত্তর-পূর্ব ভারতের ছাত্রছাত্রীরা, যাঁদের মুখাবয়ব মঙ্গোলিয়ান ধাঁচের, তাঁরা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে নিগৃহের শিকার হন বা মণিপুর-নাগাল্যান্ড-মিজোরামের মত রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকরা যেভাবে অপদস্থ হন, সে বিষয়ে ভারতবাসীর বর্ণবৈষম্যমূলক চিন্তাভাবনাকে তুলোধনা করেছেন চ্যাঙ।

বর্ণবৈষম্যমূলক উক্তি একেবারেই মজার আওতায় পড়ে না
মায়াং চ্যাঙের ভিডিওতে ভারতের যুবসমাজকে একটু দয়াশীল ও সহনশীল হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ব্রতমনা কঠিন সময়ে দেখনদারীর ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ না করে একসাথে লড়ার কথা জানিয়েছেন চ্যাঙ। তিনি আরও বলেন, "অধিকাংশ মানুষই হয়তো একজন উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের সাথে মজা করতে পারেন, কিন্তু যিনি অপমানিত হচ্ছেন তাঁর কথা কে বুঝবে? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মজাটা শুধু আর মজায় থেমে থাকে না, এমন মজা আমেদাবাদ-মুম্বাইয়ের মত বড় শহরে শেষ হয় একজন মণিপুরনিবাসীকে ঘর থেকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করার মাধ্যমে।"

লকডাউনে বর্ণবৈষম্যের শিকার হচ্ছেন উত্তর-পূর্ব ভারতীয়রা
লকডাউনের সময়কালে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষদের বর্ণবৈষম্যের শিকার হওয়ার ঘটনা বেড়ে চলেছে ক্রামাণ্বয়ে। ৭ই ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫শে মার্চের মধ্যে এমন প্রায় ২২টি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে বিশেষ সূত্রে খবর, যা যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications