Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

লকডাউনের নিয়ম ভাঙা নিয়ে ক্ষুব্ধ সলমন খান, ১৫ টি সতর্কীকরণ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে

লকডাউনের নিয়ম ভাঙা নিয়ে ক্ষুব্ধ সলমন খান, ১৫ টি সতর্কীকরণ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে

করোনা সংক্রমণের জেরে দেশজুড়ে চলছে লকডাউনের পরিস্থিতি। সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারংবার ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও অনেকেই রয়েছেন যাঁরা বাড়ি থেকে বেড়িয়ে রাস্তায় জমায়েত করছেন। এতে পুলিশ–প্রশাসনের হয়রানির পাশাপাশি সামাজিক দুরত্বের নিয়মও লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বুধবার এ প্রসঙ্গে সলমন খান তাঁর ইনস্টাতে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। যেখানে তিনি লকডাউনের নিয়ম ভাঙার কারণে ও মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার জন্য অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি তাঁর অনুগামী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যাঁরা রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন কোনও কারণ ছাড়াই তাঁরা আসলে বোকা।

লকডাউনের নিয়ম ভাঙা নিয়ে ক্ষুব্ধ সলমন খান, ১৫ টি সতর্কীকরণ লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে

১০ মিনিটের ভিডিওতে সলমন খান ১৫টি সতর্কীকরণ দিয়েছেন সকলের উদ্দেশ্যে।

১)‌ জীবন যেখানে এখন বিগ বসে পরিণত হয়েছে। কিছু মানুষ নিয়ম ভেঙে অন্য সকলের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। সলমন খান বলেন, '‌জীবনের বিগ বস শুরু হয়ে গিয়েছে। সবাই ঘরে বসে রয়েছে। কিন্তু কিছুজন রয়েছে, যারা নিয়ম ভাঙছে।’‌

২)‌ বাইরে বেড়োনোর সময় মাস্ক পরার ওপর জোর দিয়ে সলমন খান তাঁর এক বন্ধুর একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে তাঁর বন্ধু রেশন নিয়ে নিয়ে এসেছেন সকলের জন্য। সলমন বলেন, '‌পাস ছিল ওর কাছে গাড়ির। সে বেড়িয়েছিল, পুলিশ তাকে থামালো ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলার জন্য আমার বন্ধু মুখ থেকে মাস্ক সরিয়ে নিল। একদমই বোকামোর পরিচয় দিল সে। যেটা করা উচিত নয় সেটাই করেছে। তার মনে হল যে কথা বলার সময় মাস্ক সরিয়ে বলা উচিত। মাথা থেকে এটা বেড়িয়ে গেল, তার এটা করা ঠিক হয়নি।’‌

৩)‌ এই মহামারি চলাকালিন মানুষের মনোবল বাড়ানো খুব দরকার, বিশেষ করে যাঁদের করোনা–পজিটিভ ধরা পড়েছে। তিনি বলেন, '‌যে কোনও অসুখে রিপোর্ট পজিটিভ আসা খুবই দুঃখজনক। কিন্তু কোনও পজিটিভ রোগীর মাথায় কোনও নেতিবাচক চিন্তা আসা, তার অর্থ হল সেই রোগীর সংযম হারিয়ে যাওয়া, আশা হারিয়ে যাও, যা তার থেকেও বড় বিষয়। যারা পজিটিভ রোগী তাদের দুঃখ না বোঝা অমানবিকতা। কিন্তু যারা নেগেটিভ আর কোনও নিয়ম মানছে না তারাও খুব শীঘ্রই পজিটিভ হয়ে যাবে। আর পুরো পরিবারে এই রোগ ছড়িয়ে যাবে। পরিবার থেকে পাড়া আর পাড়া থেকে শহর, তারপর পুরো দেশে।

৪)‌ সলমন খান সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে আর্জি জানিয়েছেন যে সবাই যাতে সরকারের নির্দেশ অনুসরণ করে এবং পরিবার–প্রিয়জনের সঙ্গে বাড়িতেই থাকে। তিনি বলেন, '‌কি বলেছে সরকার?‌ বাইরে যেতে নিষেধ করেছে, জমায়েত করতে বারণ করেছে, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাও।

৫)‌ তিনি জানান যাঁরা প্রার্থনা করতে চান বাড়ির ভেতরে বসে প্রার্থনা করুন ও বাড়ির বাইরে বেড়িয়ে মন্দির–মসজিদে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, '‌নমাজ পড়তে হলে ঘরে পড়ুন, পুজো–পাঠ করেত হলে ঘরে করুন। শৈশবে আমরা শিখেছিলাম যে ভগবান আমাদের ভেতরে রয়েছে। যদি ভগবানের ঘরে বা আল্লার ঘরে যেতে চান তবে বাইরে বেড়োন। মরতে তো একদিন সকলকে হবে, কিন্তু কেউ কি মরতে চান?‌ এখানে এসে এই কথাটা বদলে গেল কি করে?‌

৬)‌ লকডাউনের সময় যারা বাইরে বেড়িয়েছিলেন তাদের প্রতি ক্ষোভ উগরে দেন সলমন। তিনি বলেন, '‌ভারতের জনসংখ্যা কমাতে চাও?‌ নিজের পরিবার দিয়ে শুরু করো।’‌

৭)‌ যারা সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন না এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হাত তুলছেন তাদের দিকে প্রশ্ন তোলেন সলমন খান। তিনি বলেন, '‌আমায় বলুন আপনি কি ঠিক করছেন না ভুল করছেন। যদি আপনার পদক্ষেপ ঠিক হয়। তবে করোনা ভাইরাস ও লকডাউন এক্ষুনি শেষ হয়ে যাওয়া উচিত।’‌ পুলিশকর্মীকে মারধর, লকডাউনের নিয়ম ভাঙা নিয়ে সল্লু মিঞা বলেন, '‌এটা তাঁরা তাঁদের জন্য করছেন না, কিন্তু শুধু আপনার জন্য।’ তিনি আরও বলেন, '‌কে আপনাকে আটকাছে রেশন নেওয়ার জন্য?‌ কে আটকেছে?‌ মাস্ক পরুন, গ্লাভস পরুন এবং একা যান।’‌‌

৮) ‌প্রয়োজনীয় পরিষেবা প্রদানকারীরা শুধুমাত্র দেশবাসীর জন্য অতিরিক্ত সময় অক্লান্ত কাজ করছেন, যাতে সাধারণ মানুষ সমস্যার মুখোমুখি না হয়। তিনি বলেন, '‌পুলিশ কর্মী, নার্স, চিকিৎসক, ব্যাঙ্ককর্মী, ১৮–১৮ ঘণ্টা ধরে কাজ করছেন। তাঁরা এটা করছেন কারণ যাতে করোনা সংক্রমণ না ছড়ায়। এই রোগ উঁচু–নীচু, জাত–পাত কিচ্ছু দেখে না। আপনার কাজ বাড়িতে বসা। দেশের কিছু জায়গায় চিকিৎসকদের ওপর ইঁট–ছোঁড়ার ঘটনায় সলমন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তিনি বলেন, '‌এটা তো ভালো। চিকিৎসক–নার্স আপনার প্রাণ বাঁচানোর জন্য এসেছিলেন আর আপনি তাঁর ওপরই ইঁট ছুড়ছেন।’‌

৯)‌ অভিনেতা এটা দেখে খুবই বিস্ময় প্রকাশ করেন যারা এই লকডাউনের সময়ও বানির বাইরে পা রাখছেন, লকডাউনের সময়ও বেড়োচ্ছেন। তিনি বলেন, '‌এরকম মানুষও রয়েছেন যাঁরা কোনও সময় বাড়ি থেকে বেড়োতেন না, কিন্তু আজ তাঁরাও বেড়োচ্ছেন। খুব অবাক হচ্ছি।’‌

১০)‌ যারা ভাবছে যে কোভিড–১৯ তাদের ছুঁতে পারবে না তাদের উদ্দেশ্যে সলমন বলেন, '‌যাদের মনে হচ্ছে যে তাদের হবে না, তাদের জন্য পুরো ভারতবাসীর মৃত্যু হবে।’‌

১১)‌ যে সব পরিযায়ী শ্রমিকরা খাবার পাচ্ছেন না ও তাঁদের পরিবারের মুখে অন্ন জোগাতে পারছেন না তাঁদের সমর্থন করে সলমন বলেন, '‌আমি বুঝতে পারছি সেইসব মানুষদের অবস্থা যাঁরা পরিবারের মুখে খাবার দিতে পারছেন না। আমি তাঁদের কুর্নিশ জানাই অন্তত তাঁরা এটা বুঝেছেন যে না খাওয়ার চেয়েও বেঁচে থাকা জরুরি।’‌

১২)‌ সরকারের কাজের প্রশংসা ও বিভিন্ন পরিষেবায় মানুষের লিপ্ত হওয়া দেখে তিনি বলেন, '‌খুব ভালো কাজ হচ্ছে ও এমন মনে হচ্ছে যে ভারতবাসী একে–অপরের সঙ্গে মন থেকে যুক্ত রয়েছে।’‌

১৩)‌ সলমন জানিয়েছেন যে মানুষ সরকারের সিদ্ধান্তকে অনুসরণ করছেন না বলেই লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, '‌কিছু জোকারদের জন্য এই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। কিন্তু আপনার পদক্ষেপ এরকম না হলে পুলিশের প্রতিক্রিয়াও এমন হতো না।’‌ তিনি জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে চিন এই সংকট থেকে মুক্ত হয়ে গিয়েছে কিন্তু এই দেশের কিছু মুর্খ মানুষের জন্য দেশবাসীকে ভুগতে হচ্ছে।

১৪)‌ যারা নিজেদেরকে শক্তিশালী মনে করেন তাদের উদ্দেশ্যে সলমন বলেন, '‌মেনে নিলাম আপনি খুব ক্ষমতাশালী, খুব সাহসী আপনি। আপনি এতটাই ক্ষমতাশালী যে আপনার পরিবারের সদস্যরা আপনার সামনে মরছে তা দেখতে পারবেন?‌

১৫)‌ শেষে সলমন খান আর্জি জানিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য প্রদানকারীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, '‌সবাই ধন্যবাদ দিন পুলিশ কর্মী, চিকিৎসক, নার্স ও ব্যাঙ্কে যাঁরা কাজ করছেন তাঁদেরকে। সম্মান দিন যাঁদের এই রোগ হয়েছে।’‌

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+