মাদক আইনে নিষিদ্ধ ওষুধ খেতে বলেছিল সুশান্তকে, মৃত অভিনেতার দিদির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের রিয়ার
মাদক আইনে নিষিদ্ধ ওষুধ খেতে বলেছিল সুশান্তকে, মৃত অভিনেতার দিদির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের রিয়ার
নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী এবার মুম্বই পুলিশের কাছে সুশান্ত সিং রাজপুতের দিদি প্রিয়াঙ্কা সিং, রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের ডাঃ তরুণ কুমার সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির জালিয়াতি, এনডিপিএস ও টেলি মেডিসিন প্র্যাকটিস গাইডলাইন ২০২০ অন্তর্গত মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ৮ জুন সুশান্তকে দিল্লির একটি হাসপাতালে বহিরাগত রোগী দেখিয়ে ওই ভুয়ো প্রেসক্রিপশন নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওই সময় সুশান্ত মুম্বইতে ছিলেন। রিয়া এও জানিয়েছেন যে সুশান্তকে যে ওষুধ প্রেসক্রাইব করা হয়েছিল তা এনডিপিএস আইনে সাইকোট্রপিক পদার্থ হিসাবে তালিকাভুক্ত রয়েছে এবং টেলি মেডিক্যাল প্র্যাকটিস গাইডলাইনের ৩,৭ ও ৪ অনুযায়ীর তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, টেলি মেডিক্যাল প্র্যাকটিস গাইডলাইনের অন্তর্গত ৩,৭ ও ৪–কে ভুলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে।

প্রিয়াঙ্কা সিং প্রেসক্রিপশন পাঠান সুশান্তকে
অভিযোগে রিয়া বলেছেন, ‘মৃত সুশান্তের সঙ্গে আমার সম্পর্কের সময়, সুশান্তের বিভিন্ন ধরনের মানসিক রোগের চিকিৎসা চলছিল এবং খ্যাতনামা চিকিৎসকরা সুশান্তের বাইপোলার ডিসঅর্ডারের চিকিৎসা করছিলেন। যদিও মৃত সুশান্ত চিকিৎসা অনুযায়ী চলছিলেন না এং প্রায়ই তিনি তাঁর ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিতেন। আমি এবং চিকিৎসকরা বলা সত্ত্বেও কথা শুনছিলেন না।' রিয়া এও বলেন, ‘৮ জুন সকালে মৃত সুশান্ত অনবরত ফোন ঘেঁটে চলেছিলেন এবং আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম কি হয়েছে, সুশান্ত আমায় তার সঙ্গে তার দিদি প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে হওয়া চ্যাট দেখায়। আমি ওই চ্যাট দেখে অবাক হয়ে যাই কারণ সেখানে প্রিয়াঙ্কা সুশান্তকে ওষুধের তালিকা পাঠিয়েছে খাওয়ার জন্য। আমি সুশান্তকে তাঁর শরীরের অবস্থার গুরুত্ব বুঝিয়ে বলি যে সে ইতিমধ্যেই কয়েক মাস ধরে চলা চিকিৎসকদের প্রেসক্রাইব করা ওষুধ খাচ্ছে, তার আর অন্য কোনও ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে তাঁর দিদির বলা ওষুধ, যাঁর কাছে কোনও মেডিক্যাল ডিগ্রি নেই।'

সুশান্তকে ৮ জুন শেভারের মতো জীবিত দেখেন রিয়া
রিয়ার অভিযোগে এও বলা হয়েছে, ‘এই প্রসঙ্গে আমার ও সুশান্তের মতের অমিল দেখা দেয় এবং সুশান্ত জোর দিয়ে এও জানান যে তার দিদিও দেওয়া ওষুধই তিনি সেবন করবে। এরপর সুশান্ত আমায় চলে যেতে বলে কারণ তার আর এক বোন মিতু সিং মৃত সুশান্তের সঙ্গে থাকতে আসছেন এবং মিতু দিদি তার দেখভাল করবেন। এই কারণেই আমি বান্দ্রার মাউন্ট ব্ল্যাঙ্ক আবাসন ছেড়ে চলে আসি এবং সুশান্তকে শেষবারের মতো জীবিত দেখে আসি।'

সুশান্তকে আউটডোর রোগী হিসাবে দেখানো হয় দিল্লির হাসপাতালে
মুম্বই পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে রিয়া জানিয়েছেন, গত ৮ জুন মুম্বইয়ে ছিলেন সুশান্ত। অথচ সেদিনই সুশান্তকে দিল্লির একটিরাম লোহিয়া মনোহর হাসপাতালের আউটডোর রোগী হিসেবে দেখিয়ে, ওই হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ তরুণ কুমারের দেওয়া সেই ‘ভুয়ো প্রেসক্রিপশন'-এর ওষুধ দেওয়া হয়। রিয়া বলেন, ‘প্রিয়াঙ্কা সিং ও চিকিৎসক-সহ অন্যান্যদের কাজকর্ম তদন্ত করে দেখা আবশ্যিক এবং কেন তাঁরা মৃতকে ওরকম ভুয়ো ও বেআইনি প্রেসক্রিপশন দিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা উচিত।'

নিষিদ্ধ ওষুধ দেওয়া হয় সুশান্তকে
রিয়া আরও বলেন, ‘৮ জুন ডাঃ কুমারের প্রেসক্রাইবড করা ওষুধগুলির মধ্যে নেক্সিটো ৫ এমজি, লিব্রিয়াম ১০ এমজি ও লোনাজ ইপি এমডি ০.৬ এমজি করে সুশান্তকে উদ্বেগের জন্য নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এইসব ওষুধগুলি ‘নার্কোটিক (মাদক) বা সাইকোট্রপিক (মানসিক অসুস্থতা সংক্রান্ত ওষুধ) দ্রব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে যে আইন আছে, তা ভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছিল।'

অভিনেতার মৃত্যু তদন্ত
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্তে নেমেছে ইডি, সিবিআই ও এনসিবি। রিয়া চক্রবর্তীকে দ্বিতীয় দিন এনসিবি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে। শুক্রবার রিয়ার ভাই শৌভিককে গ্রেফতার করে এনসিবি।












Click it and Unblock the Notifications