সতীশ শাহের কৌতুক অভিনয় যুগে যুগে হাসি ফুটিয়েছে দর্শকদের মুখে
বলিউড অভিনেতা সতীশ শাহ ৭৪ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। কিডনি সংক্রান্ত জটিলতার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে নানা রঙের চরিত্রকে দারুণ অভিনয় দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে বলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সতীশ শাহের ৪০ বছরেরও বেশি সময়ের অভিনয় জীবনে ইন্দ্রবদন সারাবাই, প্রফেসর রসই এবং মিউনিসিপাল কমিশনার ডি’মেলোর মতো অসংখ্য আইকনিক চরিত্রে তাঁর কৌতুকপূর্ণ অভিনয় দর্শক হৃদয়ে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আসুন সতীশের কিছু স্মরণীয় চরিত্রে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।
ইন্দ্রবদন সারাবাই – সারাবাই ভার্সেস সারাবাই
ইন্দ্রবদন সারাবাই চরিত্রে সতীশ শাহের অভিনয় ভারতীয় টেলিভিশনের অন্যতম সেরা কমেডি সৃষ্টি হিসেবে গণ্য হয়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, যখন শোয়ের নির্মাতারা আতিশ কাপাডিয়া এবং জেডি ম্যাথেথিয়া চিত্রনাট্য শোনাতে এসেছিলেন, তখন তিনি তাঁর স্ত্রীকে বলেছিলেন যে তাঁরা তাঁর নিজের জীবনের চরিত্রই বর্ণনা করছেন। তাঁর কৌতুকপূর্ণ বিদ্রূপ, ওয়ান-লাইনার এবং অনবদ্য সময়জ্ঞান তাঁকে অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছিল। মায়া এবং রোশেশের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন আজও দর্শকদের হাসায়।
কারশন ভাই প্যাটেল – কাল হো না হো
কারশন ভাই প্যাটেল চরিত্রে সতীশ শাহ সইফ আলি খানের চরিত্রের ধনী গুজরাতি বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। তাঁর চরিত্রটি ভারত ছেড়ে গেলেও তাঁর শিকড় ছিল এদেশের মাটিতেই। গুজরাতি গানে তাঁর নাচ আজও মানুষের মনে গেঁথে রয়েছে।
প্রফেসর রসই – ম্যায় হুঁ না
ম্যায় হুঁ না ছবিতে সতীশ শাহের প্রফেসর রসই চরিত্রটি তাঁর অনিয়ন্ত্রিত থুতু ফেলার অভ্যাসের জন্য বিশেষ পরিচিতি লাভ করে। তাঁর অভিনয় এতটাই দুর্দান্ত ছিল যে শাহরুখ খান তাঁর সঙ্গে শ্যুটিং করার সময় হাসি চেপে রাখতে পারতেন না।
মিউনিসিপাল কমিশনার ডি’মেলো – জানে ভি দো ইয়ারো
জানে ভি দো ইয়ারো ছবিতে মিউনিসিপাল কমিশনার ডি’মেলো চরিত্রে সতীশ শাহ ভারতীয় সিনেমাকে এক কিংবদন্তি কৌতুক মুহূর্ত উপহার দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি একটি লাশের ভূমিকায় অভিনয় করেন! আইকনিক মহাভারত দৃশ্যে তাঁর প্রাণহীন অথচ হাস্যকর উপস্থিতি এই ছবিটিকে কাল্ট মর্যাদা এনে দিয়েছিল এবং তাঁর অতুলনীয় শারীরিক কমেডির দক্ষতা প্রদর্শন করেছিল।
সুরজ প্রকাশ – মুঝসে শাদি করোগি
মুঝসে শাদি করোগি ছবিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার কাকা সুরজ প্রকাশের চরিত্রে সতীশ শাহ এই অদ্ভুত রোমান্টিক কমেডিতে মুগ্ধতা যোগ করেছিলেন। তাঁর চরিত্রটি তাঁর নামের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল; যেমন সূর্য সন্ধ্যায় অস্ত যায়, তেমনি সেও রাতে জেগে থাকতে পারত না। কিন্তু সালমান খানের চরিত্র তাকে রিসর্টে নাইট ডিউটিতে নিযুক্ত করেছিল।
নজরুল – হাতেম তাই
হাতেম তাই ছবিতে জিতেন্দ্রের চরিত্রের অনুগত অথচ আনাড়ি সহকারি নজরুলের ভূমিকায় অভিনয় করে সতীশ শাহ এই ছবিতে প্রয়োজনীয় হাস্যরস এনেছিলেন। তাঁর অভিব্যক্তি এবং সংলাপ সব বয়সের দর্শকদের জন্য কাহিনীকে বিনোদনমূলক করে তুলেছিল।












Click it and Unblock the Notifications