পুনীত রাজকুমার: জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত 'পাওয়ার স্টারের' জীবন সফর একনজরে
পুনীত রাজকুমার: জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত 'পাওয়ার স্টারের' জীবন সফর একনজরে
বেঙ্গালুরু হোক বা মাইসুরু, স্টেশন বা বিমনবন্দর থেকে নেমে যদি আপনি অটো কিম্বা ক্যাব ধরে নেন, তাহলে দেখতে পাবেন কোনও না কোনও অটোর উল্টোদিকে কিম্বা রাস্তায় বড় করে কোনও ফিল্মের পোস্টার। এই পোস্টার গুলির মধ্যে প্রায়সই দেখা গিয়েছে পুনীত রাজকুমারকে। মনোরম বাগিচা শহর বেঙ্গালুরুতে যতই প্রবেশ করবেন স্টেশন কিম্বা বিমানবন্দর থেকে ততই পাবেন যানজট। তবে তারই মাঝে খানিক মনোরঞ্জন দিতে পারে এই ফিল্মের পোস্টারগুলি। যে পোস্টারে হিরোর ভূমিকায় বহুবার দেখা গিয়েছে পুনীততে। সদাহাস্য এক স্টার, যাঁর টিকোলো নাক বলে দিচ্ছে তিনি রাজকুমার বংশের ছেলে। যে রাজকুমারকে গোটা কর্ণাটক কুর্নিশ করে সুপারস্টার হিসাবে। আর তাঁর ছেলে পুনীত ছিলেন কন্নড়বাসীর আদরের 'আপ্পু'। এদিন বেলা সাড়ে ১১ টা নাগাদ আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন পুনীত রাজকুমার।

স্টারকিডের জীবন সফর
পুনীথ চেন্নাইতে দক্ষিণী ম্যাটিনি আইডল রাজকুমার এবং পার্বথাম্মা রাজকুমারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাদের পঞ্চম এবং সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। পুনীত নামকরণের আগে তিনি লোলিত নামে বিখ্যাত ছিলেন। জন্ম চেন্নাইতে হলেও, পুনীতের জন্মের পর তাঁর পরিবার মাইসোরে চলে আসে। তার দশ বছর বয়স পর্যন্ত তার বাবা তাঁকে এবং তাঁর বোন পূর্ণিমাকে তার চলচ্চিত্রের সেটে নিয়ে আসতেন। পুনীত ছাড়াও রাজকুমার পরিবারে তাঁর বড় ভাই শিব রাজকুমার একজন জনপ্রিয় অভিনেতা কান্নাড়া ফিল্ম সোসাইটিতে। এদিকে, বাড়িতে ফিল্মের আলোচনা আর ফিল্মের পরিবেশের মধ্যে বেড়ে উঠতে থাকেন পুনীত।

শিশুশিল্পী হিসাবে জাতীয় পুরস্কার!
শুধুমাত্র যৌবনে এসে ফিল্মে অভিনয়ের ঝোঁক ছিল পুনীতের তা নয়। তিনি ছোট থেকেই পছন্দ করতেন অভিনয়। 'বেত্তাদা হুভু' ছবিতে ছোট্ট রামুর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পীর জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন ছোট্ট পুনীত। এছাড়াও 'চালিসুভা মোদাগালু' ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি কর্ণাটকের রাজ্যস্তরের পুরস্কারে সেরা শিশুশিল্পীর পুরস্কার তিনি জিতে নেন। এছাড়াও আরও বেশ কিছু ছবিতে তিনি ছোটবেলাতেই অভিনয়ের দরুন পেয়েছিলেন পুরস্কার।

'আপ্পু' দিয়ে শুরু
কন্নড় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে জনতার আদরের 'আপ্পু' নিজের নামের মতোই 'আপ্পু' ফিল্ম দিয়ে পা রাখেন লিড রোলের অভিনয়ের দুনিয়ায়। এছাড়াও তারকা হিসাবে তিনি 'আরসু', 'মিলনা', 'ভামসি', 'মৌর্য', 'আকাশ', ' রাম' , 'জ্যাকি' ,'হুদুগারু','রাজকুমারা' ছবিতে অভিনয় করে রীতিমতো ফ্যানকীলের মন জয় করে নেন এই পুনীত রাজকুমার। এছাড়াও কান্নাড়া 'কৌন বনেগা ক্রোড়পতি' তে সঞ্চালকের ভূমিকায় অভিনয় করেন পুনীত রাজকুমার। ২০০৮ সালে এই অভিনেতার দুটি ছবি মুক্তি পায়, ডি. রাজেন্দ্র বাবুর 'বিন্দাস' এবং প্রকাশের 'ভামশি'। পুনীথের ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি ছিল 'রাজ - দ্য শোম্যান'। যদিও ছবিটি (প্রেম পরিচালিত) সমালোচিত হয়েছিল, তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। প্রিয়মনির সাথে তার অন্য ছবি 'রাম', তেলুগু হিট 'রেডি'র রিমেক। এছাড়াও বহু ফিল্মের প্ল্যেব্যাকে গান গেয়েছেন এই স্টার। ২০১২ থেকে টেলিভিশন সঞ্চালনাও করেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবন
বিখ্যাত রাজকুমার পরিবারের সন্তান পুনীতের সঙ্গ অশ্বিনী রেবন্তের বিয়ে হয় ১৯৯৯ সালে। এক বন্ধুর মাধ্যমে আলাপ হয়ে অশ্বিনীর সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের পথে এগিয়ে যান পুনীত। তাঁদের দুই মেয়ে রয়েছে বন্দিতা ও ধৃতি। এদিকে, মাইসুরুতে মায়ের সঙ্গে মিলে একটি শক্তি ধর্ম আশ্রম পরিচালনা করতেন পুনীত। বেঙ্গালুরু প্রিমিয়ারে ফুটসল টিমেরও মালিক তিনি। এছাড়াও তাঁর একাধিক এনডোর্সমেন্ট ও বিজ্ঞাপন রয়েছে। পুনীতের মৃত্যুতে শোকবার্তা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি জানান, 'মৃত্যুর কোনও বয়স হয়না।' এদিকে বেঙ্গালুরুর কান্টি ভিরা স্টেডিয়ামে আগামীকা পুনীতের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। ইতিমধ্যেই সেখানে শেষ কৃত্যের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অল্প বয়সে পুনীতের মৃত্যুকে যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না কেউই। সর্বদা মুখে হাসি লেগে থাকা এই স্টার এভাবে চলে যাবেন তা কেউ মেনে নিতে পারেননি। সিদ্ধার্থ থেকে অনিল কুম্বলে সকলেই পুনীতের মৃত্য়ুতে শোক প্রকাশ করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications