১৩ বছর বয়সে অভিনেত্রী হিসেবেই যাত্রা শুরু করেছিলেন লতা মঙ্গেশকর, এক নজরে সুরসম্রাজ্ঞীর বলিউড সফরের ইতিহাস
১৩ বছর বয়সে অভিনেত্রী হিসেবেই যাত্রা শুরু করেছিলেন লতা মঙ্গেশকর, এক নজরে সুরসম্রাজ্ঞীর বলিউড সফরের ইতিহাস
বয়স তখন মাত্র ১৩ বছর। সদ্য কৈশরে পা দিয়েছেন। তখনই সংসারের বোঝা কাঁধে এসে পড়ে থিল এক রত্তি মেয়ের। বাবার মৃত্যুর শোক পালন ঠিক মত করে উঠতে পারেননি। তার আগেই সংসারের চিন্তায় বলিউডে কাজ শুরু করেছিলেন মারাঠি কন্যা। তবে সঙ্গীত নয় বলিউডে তাঁর প্রথম যাত্রা শুরু হয়েছিল অভিনয় দিয়েই। মারাঠি ছবি 'পহেলি মঙ্গলা গউর' ছবিতে অভিনয় করেছিলেন লতা মঙ্গেশকর। ছোট্ট একটা রোল। তারপরে ধীরে ধীরে গানের জগতে প্রবেশ।

অভিনয় দিয়েই কেরিয়ার শুরু
১৩ বছর বয়সেই সিনেমা জগতের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল লতা মঙ্গেশকরের। ১৯৪২ সালে তাঁর বাবা মাস্টার বিনায়ক ওরফে বিনায়ক দামোদর কারনাটকি মারা যান হার্ট অ্যাটাকে। যিনি নিজে নভযুগ চিত্রপট মুভি কোম্পানির মালিক ছিলেন। ছোট ছোট ভাইবোনদের নিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছিল তাঁদের। শেষে বাবার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাঁদের দায়িত্ব নেন। তিনিই তা মঙ্গেশকরলে সঙ্গীত এবং অভিনয়ের কেরিয়ার তৈরি করে দেওয়ার জন্য সাহায্য করেছিলেন। তাঁর হাত ধরেই প্রথম মারাঠি ছবিতে গান গেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই গান বাদ পড়ে গিয়েছি শেষ পর্যন্ত। সেই বছরই একটি মারাঠি ছবিতে ছোট্ট চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান তা মঙ্গেশকর। তার বাবার সংস্থা নবযুগ চিত্রপট মুভি কোম্পানির ছবি ছিল সেটি। নাম ছিল পেহেলি মঙ্গলা-গউর। সেই ছবিতেই একটি গান গেয়েছিলেন তিনি দাদা চন্দেকরের সুরে লতা মঙ্গেশকরের প্রথম গাওয়া গান ছিল 'নাটালি চিত্রাচি নাভালাই'।

প্রথম হিন্দি ছবিতে গানের সুযোগ
তারপরে একে একে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। লতা মঙ্গেশকরের প্রথম হিন্দি গান ছিল মারাঠি ছবি গাজাবাবু (১৯৪৩)-তে 'মাতা এক সপুতকে দুনিয়া বদল দে তু'। তাপরে মুম্বইয়ে পাড়িজমান ১৯৪৫ সালে। সেখানেই তাঁর বাবার মুভি কোম্পানি সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। বলিউডের ছবিতে গান গাওয়ার জন্য শুরু হয় তাঁর সঙ্গীতে তালিম। ভাষা মারাঠি হওয়ার কারণে হিন্দু উচ্চারণ তেমন সরগর ছিল না তাঁর। ভিন্দিবাজার ঘরানায় উস্তাদ আমান আলি খানের কাছে গান শিখতে শুরু করেছিলেন িতনি। তারপরে ১৯৪৬ সালে প্রথম হিন্দি ছবিতে গান গাইলেন লতা। সেটিরও সুরকার ছিলেন দত্তা দাভজেকর। লতার গানের উপর সেই ছবিতে নাচ করেছিলেন জনপ্রিয় ধ্রুপদী নৃত্য শিল্পী রোহিনী ভাতে। বাবার মুভি কোম্পানিকে দাঁড় করানোর জন্য কোমর কষেছিলেন দুই বোন লতা এবং আশা। ১৯৪৫ সালে প্রথম হিন্দি ছবি 'বড়ি মা' তৈরি করে মাস্টার বিনায়ক ফিল্ম কোম্পানি। সেই ছবিতে একটি ভজন গেয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকর। সেই গানের রেকর্ডিংয়ের সময়ই সঙ্গীত পরিচালক বসন্ত দেশাইয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় লতাজির।

কার হাত ধরে বলিউডে প্রথম বড় ব্রেক লতার
১৯৪৮ সালে গুলাম হায়দরের হাত ধরে একের পর এক বলিউড হিন্দি ছবিতে গান গাইতে শুরু করেছিলেন লতা মঙ্গেশকর। সেসময় তাঁর পরিচয় হয়েছিল শশধর মুখার্জির সঙ্গে। সেসময় শহিদ ছবির কাজ করছিলেন সঙ্গীত পরিচালক। কিন্তু লতা মঙ্গেশকরের গলা তাঁর পছন্দ হয়নি। তিনি সেই ছবি থেকে তাঁর গান বাদ দিয়ে দিয়েছিলেন। সেই ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গুলাম হায়দর বলেছিলেন একটা সময় আসবে যখন লতার পায়ে পড়বেন বলিউডের তাবর পরিচালক বং সুরকার। এই গুলাম হায়দারের হাত ধরেই প্রথম বড় ব্রেক পান তলা মঙ্গেশকর। ১৯৪৮ সালে মজবুর ছবিতে লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া 'দিল মেরা থোডা, মুঝে কহিকা না ছোড়া' ভীষণ ভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। গুলাম হায়দারকে নিজের গড ফাদার মনে করতেন লতা মঙ্গেশকর।

কার ছায়া ছিল লতার কণ্ঠে
প্রথমে লতা মঙ্গেশকরকে বলা হত নুর জাহান কণ্ঠী। কিন্তু দ্রুত সেই ছায়া থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। নিজের আলাদা অস্তিত্ব তৈরি করেন তিনি। বলিউডের গানে নিজেকে দক্ষ প্রমাণ করতে উর্দুও িশখেছিলেন লতা মঙ্গেশকর।
শফি নামে এক শিক্ষকের কাছে উর্দু শিখতেন তিনি। ধ্রুপদী গানের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক গানেরও চর্চা শুরু করেন িতনি। চরম অধ্যাবসায় আর একাগ্রতার ফল পেতে বেশি দেরি হয়নি। মহল ছবিতে তাঁর গাওয়া আয়েগা আনেওয়ালা গানটি সুপার হিট হয় বক্স অফিসে। মধুবালা লিপ গিয়েছিলেন সেই গানে। তারপরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি লতা মঙ্গেশকরকে। অল্পদিনের মধ্যে তিনি হয়ে ওঠেন সুর সম্রাজ্ঞী।
ছবি সৌজন্য:লতা মঙ্গেশকর /ফেসবুক পেজ












Click it and Unblock the Notifications