নিখিল থেকে যশ, বিতর্কিত সম্পর্কে বারংবার জড়িয়েছেন টলি কুইন নুসরত জাহান
বিতর্কিত সম্পর্কে বারংবার জড়িয়েছেন টলি কুইন নুসরত জাহান
টলিউডের সুন্দরী অভিনেত্রী, সংসদে তৃণমূলের সাংসদ নুসরত জাহানের জীবনে শুধুই বিতর্ক। কখনও সম্পর্কের টানাপোড়েন আবার কখনও বা প্রেমিকের ধর্ষণ কাণ্ডে ফেঁসে যাওয়া অথবা মুসলিম হয়ে সিঁদুর পরা। এ সব কিছু নিয়েই নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন নুসরাত জাহান ওরফে রুহি। সম্প্রতি তাঁর অন্তঃসত্ত্বা ও বিবাহ বিতর্ক নিয়ে সরগরম রাজ্য–রাজনীতি ও টলি পাড়া। নুসরতের সেই বৈচিত্র্যময় জীবন কতটা রঙিন আসুন দেখে নেওয়া যাক।

জন্ম ও পড়াশোনা
১৯৯০ সালের ৮ জানুয়ারি এক মুসলিম পরিবারে জন্ম হয় নুসরতের। এরপর আওয়ার লেডি কুইন অফ দ্যা মিশন স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে তিনি ভবানীপুর এডুকেশন কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। ২০১০ সালে এক সুন্দরী প্রতিযোগিতায় জিতে তিনি মডেলিং জগতে পা রাখেন।

কর্মজীবন
শোনা যায়, একবার ভাবনীপুর কলেজের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন জিৎ। তখনই নুসরতকে তাঁর আগামী ছবি 'শত্রু'র জন্য মনোনিত করেন। পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর এই ছবি দিয়েই নুসরতের বড় পর্দায় প্রবেশ। ব্যাস, তারপর আর পিছনে ফিরে দেখতে হয়নি নুসরতকে। একের পর এক ছবিতে তিনি অভিনয় করে গিয়েছেন। দেব, অঙ্কুশ, যশ সহ অনেকের সঙ্গেই তিনি বড় পর্দায় জুটি বেঁধেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন
নুসরতের সঙ্গে প্রথম জীবনে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিক ছিলেন কাদের খান। কিন্তু পার্কস্ট্রীট ধর্ষণ কাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে কাদের। এমনকী লালবাজার সূত্রে এও খবর ছিল যে কাদেরকে নুসরত তার মুম্বইয়ের ফ্ল্যাটে লুকিয়ে রেখেছে। অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে নুসরতের প্রেমিক কাদের। এরপর আর কারোর সঙ্গে সেভাবে বিশেষ বন্ধুত্ব বা প্রেমের গুজব রটেনি তাঁকে নিয়ে। নিজের ফিল্মি কেরিয়ারেই মন দিতে শুরু করেন নুসরত।

রাজনীতিতে হাতেখড়ি
আচমকাই ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলের যোগ দেন নুসরত এবং ওই বছরের লোকসভা নির্বাচনে বসিরহাট কেন্দ্রের প্রার্থী হন। বিজেপির সায়ন্তন বসুকে সাড়ে ৩ লক্ষ ভোটে হারিয়ে বসিরহাটের সাংসদ হন তিনি।

বিয়ে
সাংসদ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই জুন মাসে তিনি রঙ্গোলি ব্র্যান্ডের মালিক নিখিল জৈনকে তুরস্কে গিয়ে বিয়ে করেন। যেখানে উপস্থিত ছিলেন নুসরতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিমি চক্রবর্তীও। কলকাতায় এসে গ্র্যান্ড রিসেপশনও হয়।

বৈবাহিক জীবন
বিয়ের পর আর পাঁচটা তারকাদের দাম্পত্য জীবনের ন্যায় ভালোই কাটছিল নুরত-নিখিলের বিবাহিত জীবন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একে-অপরের প্রতি ভালোবাসার পোস্ট প্রায়ই নজরে পড়ত নেটিজেনদের। বিয়ের কয়েক মাস পরই শোনা যায় নুসরত হাসপাতালে ভর্তি। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, একসঙ্গে অনেক ওষুধ খাওয়ার জন্য তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাইপাসের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তিও ছিলেন তিনি। তবে নুসরত সুস্থ হয়ে উঠে সব গুজবের অবসান করেন এবং জানান যে তিনি একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এখন সুস্থ আছেন।

নিখিল–নুসরতের সম্পর্কে তিক্ততা
২০২০ সালের অগাস্টে এসওএস কলকাতা শুটিংয়ের সময় থেকেই নুসরত ও নিখিলের সম্পর্ক ভাঙতে থাকে। সেই ছবির শুটিং করতে গিয়েই যশের প্রেমে পড়েন নুসরত জাহান। এর আগে ২০১৭ সালে 'ওয়ান' ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে বন্ধুত্ব হয়েছিল দু'জনের। তবে এসওএস কলকাতার শুটিংয়ে সেই বন্ধুত্ব আরও গাঢ় হয় এবং অন্যদিকে মোড় নেয়।

বাড়ি ছাড়েন নুসরত
২০২০ সালের ৫ নভেম্বর পাকাপাকিভাবে নিখিলের বাড়ি ছেড়ে নুসরত বালিগঞ্জের আবাসনে থাকতে শুরু করেন। এরপর থেকে নুসরতের সঙ্গে নিখিলের তিক্ততা ক্রমেই বাড়তে শুরু করে দেয়।

নুসরত–যশ রসায়ন
নিখিলের সঙ্গে দুরত্ব বাড়ার মাঝেই আলাদা সম্পর্ক তৈরি হয় নুসরত-যশের সঙ্গে। যদিও প্রথম প্রথম এ নিয়ে নুসরত মুখ না খুললেও সম্প্রতি তিনি তাঁর ও যশের সম্পর্ককে শিলমোহর দিয়েছেন। এখন তো গুজব এও রটেছে যে তিনি নাকি অন্তঃসত্ত্বা।

সন্তান আমার নয়, দাবি নিখিলের
নুসরতের মা হওয়ার খবর নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ওঠার পরই নিখিল স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে এই সন্তান তাঁর নয় কারণ তাঁরা আর একসঙ্গে থাকেন না। নিখিল ইতিমধ্যেই নুসরতের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা ও বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেছে।

নুসরতের বিবৃতি
বুধবারই নুসরত বিবৃতি জারি করে বিস্ফোরক দাবি করেছেন যে তাঁর সঙ্গে নিখিলের বিয়ে অবৈধ। তুরস্কের আইনে এই বিয়ের অনুষ্ঠান বেআইনি এবং ভারতের বিশেষ বিবাহ আইনে তাঁদের রেজিস্ট্রি হয়নি। তাই এই বিয়ে অবৈধ, তাঁরা লিভ-ইন করতেন এবং তাই বিচ্ছেদের কোনও প্রশ্ন ওঠে না।












Click it and Unblock the Notifications