মুঘল–ই–আজম থেকে দেবদাস, ৬ দশক ধরে বলিউড দাপিয়েছেন দিলীপ কুমার
বলিউডে একসময় তিনি রাজ করতেন। পরিচালক থেকে প্রযোজক সকলেই তাঁদের সিনেমায় দিলীপ কুমার ছাড়া আর কোনও অভিনেতাকে নেওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারতেন না। আর হবে নাই বা কেন, যে কোনও চরিত্রের মধ্যে তাঁর গভীরভাবে ডুবে যাওয়া, গভীর বিরতির পর সংলাপ বলা এবং চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলা এই সব কিছুই দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। গত ৬ দশক ধরে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি, থেমেছেন ৫৮ বছর বয়সে। ভারতীয় রূপোলি পর্দায় তাঁর কিছু অসাধরণ সিনেমা ও না ভোলা কিছু মুহূর্ত দর্শকদের মণিকোঠায় আজও জ্বলজ্বল করছে।

১৯৪৪–১৯৬০
মহম্মদ ইউসুফ খান ওরফে দিলীপ কুমারের প্রথম ছবি জোয়ার ভাঁটা (১৯৪৪) সেভাবে দর্শকদের নজরে পড়েনি। কিন্তু এর ঠিক তিন বছর পর তাঁর অভিনীত জুগনি বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলে। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি দিলীপ কুমারকে। মেলা (১৯৪৮), আন্দাজ (১৯৪৯), দিদার (১৯৫১) পরপর হিট ছবি উপাহার দিয়েছেন দর্শকদের। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'দেবদাস' অবলম্বনে তৈরি সিনেমায় পি সি বরুয়ার পর দিলাপ কুমার দ্বিতীয় অভিনেতা যিনি দেবগাসের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন এবং দর্শকদের মনে ছাপ ফেলে দিয়েছিলেন। পঞ্চাশের দশকে দিলীপ কুমারকে বলিউডের 'ট্র্যাজেডি কিং' তকমা দেওয়া হয়, একমাত্র অভিনেতা যিনি রাজ কাপুর ও দেব আনন্দের সময় সমান দক্ষতা দেখিয়ে কাজ করে গিয়েছিলেন। তবে ট্র্যাজিক চরিত্রে দিলীপ কুমারের সমকক্ষ কেউই নেই ইন্ডাস্ট্রিতে। তবে এরপর তাঁর মনোবিদের পরামর্শে তিনি হাল্কা চরিত্রে অভিনয় করতে শুরু করে দেন। আন (১৯৫২), আজাদ (১৯৫৫) ও কোহিনুর (১৯৬০)-এর মতো সিনেমাতেও বাজিমাত করেন দিলীপ কুমার।

১৯৬০–১৯৭০
এই সময়কালটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে ঐতিহাসিক সিনেমা মুঘল-ই-আজম-এর জন্য, যেখানে সলিম চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন দিলীপ কুমার এবং তা ব্লকবাস্টার হিট হয়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই ছবিটি বলিউডের ইতিহাসে সর্বাধিক দ্বিতীয় লাভজনক ছবি হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। দিলীপ কুমারের প্রথম ও একমাত্র প্রযোজিত ইনেমা গঙ্গা যমুনা (১৯৬১)-তে তাঁকে এবং তাঁর ভাই নাসির খানকে প্রথমবার একসঙ্গে নাম ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যায়। সেই সময় মাত্র কিছুজন অভিনেতাদের মধ্যে দিলীপ কুমার একজন ছিলেন যাঁকে আন্তর্জাতিক প্রজেক্টের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে ব্রিটিশ পরিচালক ডেভিড লিন লরেন্স অফ আরাবিয়া (১৯৬২) ছবির জন্য শেরিফ আলির চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। যদিও দিলীপ কুমার এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। ১৯৬৭ সালে রাম অউর শ্যাম সিনেমায় দিলীপ কুমার প্রথমবার দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করেন, যা দারুণ হিট হয়।

১৯৭০–১৯৮০
দিলীপ কুমারের জন্য ৭০ দশক খুব একটা ভালো সময় ছিল না। কারণ এই সময় একাধিক নতুন ও তরুণ অভিনেতারা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করেন। সেই কারণে তাঁর কর্মজীবন একটু হলেও তলানিতে ঠেকেছিল। দাস্তান (১৯৭০) ও বৈরাগ (১৯৭৬)-এর মতো ছবিতে তিনি নিজেকে অন্য ধরনের চরিত্রে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছিলেন, এমনকী তিনি ত্রয় চরিত্রেও অভিনয় করেছিলেন কিন্তু সেই সিনেমা সেভাবে হিট হয়নি। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত তিনি অভিনয় থেকে বিরতি নেবেন বলে সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৮০–১৯৯০
পাঁচ বছর পর ১৯৮১ সালে দিলীপ কুমার পুনরায় ফিরে আসেন বড় পর্দায় সুপার হিট ছবি ক্রান্তি নিয়ে এবং তিনি প্রমাণ করেন যে একজন সুপারস্টার বড় পর্দায় সবসময়ই নিজের দক্ষতা দেখাতে সফল হন। এরপর তিনি শুধুমাত্র গুণগত চরিত্রেই অভিনয় করার জন্য সিনেমা করতেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য শক্তি (১৯৮২), বিধাতা (১৯৮২), মশাল (১৯৮৪) ও কর্মা (১৯৮৬), এই সব ছবিই হিট হয়েছিল।

১৯৯০–২০০০
১৯৯১ সালে সৌদাগর ছবিতে দিলীপ কুমারের সঙ্গে আরও এক কিংবদন্তী অভিনেতা রাজ কুমারকে অভিনয় করতে দেখা যায়। এই ছবি বক্স অফিসে হিট হলেও দিলীপ কুমার ও রাজ কাপুরের ব্যক্তিগত সম্পর্ক মোটেও ভালো ছিল না। ইন্ডাস্ট্রিতে ৫০ বছর কাটিয়ে দেওয়ার জন্য ১৯৯৩ সালে দিলীপ কুমারকে প্রথমবার আজীবন সম্মান দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালে দিলীপ কুমার একটি ছবি কলিঙ্গ পরিচালনা করার চেষ্টা করেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা ফ্লপ হয়। দিলীপ কুমারের শেষ ছবি ১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া কিলা।
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications