প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়, ৮৩-তেই নিভল জীবনদীপ
বাংলার সঙ্গীত জগতে ফের নক্ষত্র পতন। প্রয়াত সঙ্গীত শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়। এসএসকেএম হাসপাতালে বেশ কিছুদিন ধরে ভর্তি ছিলেন তিনি। আর আজ সকালে সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়।
তারপর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে SSKM হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। তিনি হাসপাতালে ভর্তি হতেই টেলিফোনে তাঁর খবর নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি তাঁকে হাসপাতালে দেখতেও যান মুখ্যমন্ত্রী। আর আজ সকালে সেই সঙ্গীত শিল্পীই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সঙ্গীত জগতে।

বাংলা গানের ইতিহাসে এক অনন্য নাম ছিলেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়। তাঁর সুরেলা কণ্ঠে 'আমি বাংলায় গান গাই' গানটি শুধু একটি সংগীত নয়, বরং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল। বাংলাকে এই ভাবে বর্ণনা করা সচারচর কোনও গানে মেলেনি। ২৫ জুন ১৯৪২ সালে অবিভক্ত বাংলার বরিশালে জন্ম নিয়েছিলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
দেশভাগের পর প্রতুলের পরিবার চলে আসে এপার বাংলায়। চুঁচুড়ায় বসবাস শুরু করেন মা-বাবার সঙ্গে। ছোটবেলা থেকেই কবিতায় সুর বসানোর প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। কবি মঙ্গলচরণ চট্টোপাধ্যায়ের 'আমি ধান কাটার গান গাই' কবিতায় প্রথম সুর দেন তিনি। তবে কোনও প্রথাগত সংগীত শিক্ষা তিনি কখনোই নেননি। নিজের হৃদয়ের আবেগকে সুর ও কথার মেলবন্ধনে বেঁধেই তিনি সংগীত জগতে অমরত্ব লাভ করেছেন।
প্রতুলের গানের মধ্যে ছিল স্বতঃস্ফূর্ততা ও গভীর দার্শনিকতা। তিনি বাংলা আধুনিক গান, জাপানি গান এমনকি হিন্দি ছবির গান থেকেও অনুপ্রেরণা নিয়ে নিজের মতো করে সৃষ্টি করতেন।
প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের প্রথম অ্যালবাম 'পাথরে পাথরে নাচে আগুন' (১৯৮৮), যদিও এটি একক অ্যালবাম ছিল না। তবে ১৯৯৪ সালে তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম 'যেতে হবে' প্রকাশিত হয়। আর ২০২২ সালে শেষ প্রকাশিত হয় 'ভোর' অ্যালবামটি। যেখানে সংকলিত হয়েছিল শিল্পীর বেশ কিছু অপ্রকাশিত গান।
প্রতুল মুখোপাধ্যায় শুধু একজন গায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার ও এক অনন্য চেতনাসম্পন্ন শিল্পী। তাঁর জনপ্রিয় গানের তালিকায় রয়েছে - 'আমি বাংলায় গান গাই', 'আলু বেচো', 'ছোকরা চাঁদ', 'তোমার কি কোনও তুলনা হয়', 'সেই মেয়েটি', 'ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ'।
তবে এইসব গানের মাঝে 'আমি বাংলায় গান গাই' গানটি তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ফুটে উঠেছে এই গানে।
প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের গানগুলো ছিল অসাধারণ কথার বুননে মোড়ানো। তিনি কখনোই গান গাওয়ার সময় অতিরিক্ত বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারে আগ্রহী ছিলেন না। তাঁর কণ্ঠের গভীরতা ও আবেগই ছিল গানগুলোর প্রধান আকর্ষণ।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও চিকিৎসকদের 'আমি বাংলায় গান গাই' শুনিয়েছেন তিনি। প্রতুল মুখোপাধ্যায় গেয়েছেন, সুর দিয়েছেন, লিখেছেন অনেক গান। তবে অমর হয়ে থাকবেন 'আমি বাংলায় গান গাই' গানের জন্য। বিবিসি বাংলার বিচারে এই গণসঙ্গীতটি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাংলা গানগুলির মধ্যে অন্যতম হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন নিজের ফেসবুক পেজে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, "কয়েকদিন আগেই হাসপাতালে গিয়ে আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করে এসেছিলাম। প্রতুলদার মৃত্যু বাংলা গানের জগতেঅপূরণীয় ক্ষতি। যতদিন বাংলা গান থাকবে, 'আমি বাংলায় গান গাই' বাঙালির মুখে মুখে ফিরবে। আমি গর্বিত, এমন গুণী মানুষকে আমাদের সরকার তাঁর যোগ্য সম্মাননা জানাতে পেরেছিল। রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান 'বঙ্গবিভূষণ' থেকে শুরু করে 'সঙ্গীত সম্মান', 'সঙ্গীত মহাসম্মান', 'নজরুল স্মৃতি পুরস্কার' - সবই তিনি পেয়েছেন। আমি প্রতুলদার পরিবার, বন্ধুবান্ধব ওঅগণিত গুণগ্রাহীকে আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই"।
যা জানা যাচ্ছে, এই মুহুর্তে সঙ্গীর শিল্পীর মরদেহ রবীন্দ্র সদনে শায়িত রয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পীরা সবাই সেখানে এসে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। বিকেল ৪টে পর্যন্ত সেখানেই শায়িত থাকবে সঙ্গীত শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের দেহ। বিকেল ৪টে নাগাদ রবীন্দ্র সদনে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী, সেখানেই শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধাজানাবেন তিনি। তারপর গান স্যালুটের মাধ্যমে তাঁকে জানান হবে বিশেষ শ্রদ্ধা। যেহেতু প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের দেহ এসএসকেএমে দান করা হয়েছে, তাই শ্রদ্ধার্ঘ্য পর্ব শেষে তাঁকে আবার এসএসকেএমের অ্যানাটমি বিভাগেই ফিরিয়ে আনা হবে।
এক কিংবদন্তির জীবনাবসান হলেও তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি বাংলা ও বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। যতদিন বাংলা থাকবে, যতদিন বাংলা গান থাকবে, প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের গান অনুরণিত হবে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে। যেখানে 'আমি বাংলার গান গাই'-ও থাকবে আর থেকে যাবেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়ও।
-
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
ভবানীপুরে আজ শক্তি প্রদর্শনে বিজেপি, শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী অমিত শাহ -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
'খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ করব'! ইরান ইস্যুতে কড়া বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের, কী বললেন? -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
মালদহের অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলল মমতা, সুতির সভা থেকে শান্তির বার্তা -
বসন্তের শেষে বাড়ছে পারদ! গরমে কী নাজেহাল হবে শহরবাসী? কী জানাচ্ছে হাওয়া অফিস? জানুন -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ












Click it and Unblock the Notifications