থামল সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের সফর, শোকস্তব্ধ গোটা দেশ
থামল সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের সফর, শোকস্তব্ধ গোটা দেশ
'মেরি আওয়াজ হি প্যাহেচান হ্যায়, আগর ইয়াদ র্যাহে', গানের প্রতিটা কথা আজ সত্যি হল। কারন চলে গেলেন ভারতের নাইটঅ্যাঙ্গেল সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। ৯২ বছর বয়সে থেমে গেল কোকিলকণ্ঠীর আওয়াজ। প্রায় ২৭দিনের লাগাতার যুদ্ধ শেষ হল। অবশেষে নয় দশকের
জীবন শেষে অনন্তলোকে পাড়ি দিলেন ভারতের 'জীবন্ত সরস্বতী।'

শোকস্তব্ধ দেশ
চলে গেলেন সকলের প্রিয় লতা দিদি। মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে প্রায় মাস খানেক ভর্তি ছিলেন তিনি। রবিবার অর্থাৎ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন লতা মঙ্গেশকর। আর এই খবর সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শোকের সমুদ্রে ডুবে গিয়েছে গোটা দেশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম লতা মঙ্গেশকর সঙ্গীত ও সাধনার এক প্রেরণা হয়ে থেকেছেন। তান্র সুর, সৃষ্টি সবকিছুতেই নিমজ্জিত থাকত গোটা দেশ। আর এই দিন বোধ হয় সেই সকল উপলব্ধি নিয়েই দুঃখ প্রকাশে গোটা ভারত।

বিশিষ্টদের শোক বার্তা
প্রয়াত হয়েছেন সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর, আর এই খবর প্রকাশ হতেই দেশের প্রতিকোন থেকে শোক বার্তা পাঠাচ্ছেন সকলে। টুইট করে শোক জ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। 'দেশের অপূরণীয় ক্ষতি' বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। পাশাপাশি শোক জ্জ্যাপন করেছেন রাষ্ট্রপতি
রামনাথ কোবিন্দ। লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যু দেশের শিল্প ও সঙ্গীত মহলে অনন্ত ক্ষতির সৃষ্টি করল বলে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতিও। সেই সঙ্গে রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে সকল স্তরের বিশিষ্টরা শোক জ্ঞাপন করছেন।

এক প্যার কা নাগমা
এক প্যার কা নাগমা আর শোনা যাবেনা স্রষ্টার সুরেলা গলায়। কারন চিরদিনের মত না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন লতা মঙ্গেশকর। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হল ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক সোনালী অধ্যায়ের। টানা প্রায় সাত দশক ধরে শত শত গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের মনে হিল্লোল তুলেছেন ভারতের সুর সম্রাজ্ঞী। একের পর এক হীরের মুকুট উঠেছে তাঁর মাথায়। আর অবশেষে ৯২ বছর বয়সে থামল 'জিন্দেগি কে সফর'।

শেষ মুহূর্তে দিদি
দিন ২৭ আগে গত জানুয়ারি মাসে আচমকাই শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পরায় লতা মঙ্গেশকরকে ভর্তি করানো হয়েছিল মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে। নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত হয়েছিলেন লতা দিদি। ের আগেও একাধিকবার তাঁকে অসুস্থতার জন্য ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে। কিন্তু বরাবরই মৃত্যুকে হারিয়ে আবার ভারতের কোলে ফিরেছেন তিনি। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হল না। শনিবার আচমকা তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। ফল তাঁকে রাখা হয় ভেন্টিলেশনে। চিকিতসকরা সব রকম ভাবে চেষ্টা করেছিলেন লতা দিদিকে সুস্থ করে তোলার। কিন্তু সব প্রচেষ্টা থেমে গেল রবিবার সকালে। কাকতালীয় ভাবে গোটা দেশ যখন মত্ত সরস্বতী বন্দনায় তখন দেবীর কাছেই চলে গেলেন তাঁর সবথেকে বড় সাধীকা। রবির দিনে অস্ত গেল ভারতীয় সঙ্গীত জগতের উজ্জ্বলতম রবির।












Click it and Unblock the Notifications