সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরে সুরেলা কণ্ঠে বুঁদ বিশ্ববাসী! কীভাবে হেমা থেকে লতা হলেন তিনি
সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরে সুরেলা কণ্ঠে বুঁদ বিশ্ববাসী
২৭ দিনের লড়াইয়ে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর। কোভিড আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রীচ ক্যান্ডি হাসপাতালে গত ৮ জানুয়ারি ভর্তি হয়েছিলেন গায়িকা লতা মঙ্গেশকর। শনিবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আবার আইসিইউতে রাখা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাও করা হচ্ছিল। কিন্তু রবিবার তিনি প্রয়াত হন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। সুর সম্রাজ্ঞীর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া। শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী-সহ দেশের অগনিত ভক্ত।

২৮ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশে জন্মগ্রহন কেন গায়িকা
সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের জন্ম ১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের মধ্যপ্রদেশে। পিতার নাম দ্বীননাথ মঙ্গেশকর ও মাতার নাম শিবন্তী মঙ্গেশকর। বিখ্যাত গায়িকা আশা ভোঁসলে গায়িকার ছোট বোন। তাছাড়াও তাঁর দুই বোন ও এক ভাই রয়েছেন।

পিতা ছিলেন মারাঠি ও কোঙ্কিণী সঙ্গীতজ্ঞ
গায়িকার পিতা দ্বীননাথ মঙ্গেশকর একজন মারাঠি ও কোঙ্কিণী সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি একজন অভিনেতাও ছিলেন। গায়িকার বাবা চাইতেন মেয়ে শুধু ধ্রপদী গান করুক। তাই ছেলেবেলায় বাড়িতে কে এল সায়গল ছাড়া আর কোন গান গাওয়ার অনুমতি তাঁর মেলেনি।

১৮ বছর বয়সে গায়িকার রেডিও কেনার সামর্থ্য হয়
গায়িকার বয়স যখন ১৮ বছর, তখন তাঁর রেডিও কেনার সামর্থ্য হল। কিন্তু রেডিওটি কেনার পর তাঁর কাছে আর রেডিওটা রাখা হয়নি। কারণ, রেডিও খোলার পর প্রথম যে খবরটি তিনি শুনেছিলেন সেটি হল কে. এল. সায়গল আর বেঁচে নেই। আর এটি শুনে তিনি খুব মর্মাহত হয়েছিলেন। আর তাই সেই সঙ্গেই রেডিওটা ফেরত দিয়ে দিয়েছিলেন।

৩৬টি আঞ্চলিক ভাষাতে গান একমাত্র তিনিই গেয়েছেন
সুর সম্রাজ্ঞী এক হাজারেরও বেশি হিন্দি ছবিতে গান গেয়েছেন। তিনি ভারতের একজন স্বনামধন্য গায়িকা ছিলেন। তিনি গানে রেকর্ড গড়ে ছিলেন। ভারতের ৩৬টি আঞ্চলিক ভাষাতে ও বিদেশি ভাষায় গান একমাত্র তিনিই গেয়েছিলেন।

গানের সফর শুরু করেছিলেন ৮০ বছর আগে
ঠিক ৮০ বছর আগে শুরু হয়েছিল লতাজির গানের সফর। তিনি গান গেয়ে ভারতরত্ন (২০০১), পদ্মবিভূষণ (১৯৯৯), দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (১৯৮৯), মহারাষ্ট্রভূষণ পুরস্কার (১৯৯৭), এনটিআর জাতীয় পুরস্কার (১৯৯৯), পদ্মভূষণ (১৯৬৯) সালে পেয়েছিলেন। তাঁর সুন্দর গানে মুগ্ধ শ্রোতা।

তাঁর কোকিলকণ্ঠীর কণ্ঠে বুঁদ থাকত সকলে
মিষ্টি মধুর কন্ঠী লতার গলার কণ্ঠে যেন বুঁদ হয়ে যেত আসমুদ্র থেকে হিমাচল। সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর একজন কোকিলকণ্ঠী ছিলেন। তাঁর গান দেশের বাইরেও প্রচলিত আছে। তাঁর গানে লাখো লাখ মানুষ পছন্দ করেন।

কীভাবে হেমা থেকে লতা হলেন তিনি!
সুর সম্রাজ্ঞী জীবনে প্রথম নাম ছিল হেমা। কিন্তু তাঁর পিতার আয়োজিত 'ভাব বন্ধন' নাটকে 'লতিকার' চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তারপর থেকে তাঁর নাম হেমার পরিবর্তে রাখা হয় লতা। আর সেই নামেই তিনি জনপ্রিয় হতে শুরু করেন। জীবনে প্রথম বার মঞ্চে গান গাওয়ার জন্য তিনি মাত্র ২৫ টাকা উপার্জন করেছিলেন। মারাঠি ছবি 'কিটি হাসাল'-এ১ ১৯৪৪ সালে গান গেয়েছিলেন। তাঁর ভাই ও বোনেরা সকলেই সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত। গায়িকার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সঙ্গীতমহল থেকে সকলে।












Click it and Unblock the Notifications