দুবাইয়ের হোটেলে শ্রীদেবীর রুম ২২০১ -এ ঠিক কী ঘটে ছিল মৃত্যুর দিন!জানাচ্ছেন এই ব্যক্তি
৫৪ বছর বয়সে সুস্থ স্বাভাবিক শ্রীদেবীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত তাঁর পরিবার সহ গোটা দেশ। চোখের জলে প্রিয় 'চাঁদনি' কে বিদায় জানিয়েছেন তাঁর গুণমুগ্ধরা। কিন্তু তাতেও যেন একটা প্রশ্ন বার বার উঠে আসছে।
৫৪ বছর বয়সে সুস্থ স্বাভাবিক শ্রীদেবীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত তাঁর পরিবার সহ গোটা দেশ। চোখের জলে প্রিয় 'চাঁদনি' কে বিদায় জানিয়েছেন তাঁর গুণমুগ্ধরা। কিন্তু তাতেও যেন একটা প্রশ্ন বার বার উঠে আসছে। কী করে ঘটল এই মর্মান্তিক কাণ্ড? সকলেরই কৌতূহল রয়েছে দুবাইতে হোটেলে শ্রীদেবীর রুম ২২০১ -এর ভিতরের ঘটনাবলী নিয়ে। এ সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য জানালেন ফিল্ম বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ কোমাল নাহতা। তিনি তাঁর ব্লগের লেখায় উল্লেখ করেছেন বনি কাপুরের কথা। যাঁর কাছ থেকে সমস্তটা শুনেই এই তথ্য়গুলি তিনি দিয়েছেন। শ্রীদেবীর ডেথ সার্টিফিকেট বলছে 'দুর্ঘটনা' বশত মৃত্যু। কেমনভাবে হয় সেই দুর্ঘটনা , তার বিবরণ দিয়েছেন কোমল নাহতা।

ঘটনার প্রথম পর্ব
বনি কাপুরের বোন পো মোহিত মারওয়ার বিয়ের জন্য দুবাই গিয়েছিলেন বনি কাপুর, সত্রী শ্রীদেবী ও ছোট মেয়ে খুশি। বিয়ের পর্ব মিটলে, বনি ,খুশি সমেত কাপুর পরিবারের বাকি সদস্যরা দেশে ফিরে আসেন। তবে শ্রীদেবী থেকে যান দুবাইতে। তাঁর হোটেলে রুম নম্বর ছিল ২২০১।

২১ ফেব্রুয়ারি শপিং এ বেরোতে চেয়েছিলেন শ্রীদেবী
২১ ফেব্রুয়ারি বড় মেয়ে জাহ্নবী কাপুরের জন্য শপিং করতে চেয়েছিলেন শ্রীদেবী। কী কী কিনবেন তার তালিকাও ছিল শ্রীদেবীর ফোনে। কিন্তু সেই ফোন তিনি ভুলে ফেলে এসেছিলেন মোহিত মারওয়ার বিয়ের জায়গা রাস আল খাই মাহ-তে। ফলে সেদিন আর বেরোননি শপিং-এ। এমনই দাবি কোমল নাহতার।

২২-২৩ ফেব্রুয়ারি কী করেছিলেন?
এরপর ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়রি শ্রীদেবী ছিলেন হোটেল রুমেই। কয়েকজন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন তিনি বলে জানাচ্ছেন কোমল নাহতা। এরপর ফোন করেন স্বামী বনি কাপুরকে। স্বামীকে তিনি 'মিস' করছেন ফোনে সে কথা বনিকে জানান শ্রীদেবী।

বনি-র সারপ্রাইজ!
স্ত্রীর ফোন পেয়ে ছোট মেয়ে খুশির সঙ্গে পরিকল্পনা করে শ্রীদেবীকে সারপ্রাইজ দেওয়ার কথা ভাবেন বনি। ফলে দুবাইয়ের উদ্দেশে তিনি রওনা হন। এর আহে ২২ ফেবরুয়ারি বনি লখনৌতে একটি কাজে এসেছিলেন।

হারিয়ে ফেলা স্বভাব
শ্রীদেবী প্রায়ই জিনিসপত্র হারিয়ে ফেলেন বলে জানাচ্ছেন কোমল নাহতা। আর মায়ের হারিয়ে ফেলার ঘটনা জানতেন বলে, ছোট মেয়ে খুশি বাবা বনিকে বলেন, তিনি যেন মা শ্রীদেবীর কাছে যান। কারণ শ্রীদেবী একলা রয়েছেন দুবাইতে, পাসপোর্ট জাতিয় কিছু হারিয়ে ফেলতে পারেন তিনি। তাই মাকে গিয়ে যেন বাবা বনি সামলে নেন, এটাই চাইছিলেন খুশি কাপুর।

শ্রীদেবীর ফোন কল বনিকে
যেদিন শ্রীদেবীকে সারপ্রাইজ দিতে বনি দুবাই যান, ,সেদিন দুপুরে বনি কাপুরকে ফোন করেন স্ত্রী শ্রীদেবী। বনি জানান, তিনি কয়েকঘণ্টা মিটিং-এ ব্যস্ত থাকবেন, তাই শ্রীদেবী যেন চিন্তা না করেন। মিটিং শেষ হতেই শ্রীদেবীকে ফোন করবেন বনি। আসলে, বিমানে কথা বলা যাবে না বলেই বনি এরকম বলেছিলেন বলে দাবি কোমল নাহতার। কারণ বনি গোটা ব্যাপারটাই সারপ্রাইজ দিতে চাইছিলেন।

হোটেলে কী হয়?
দুবাইয়ের হোটেলে পৌঁছে , 'বেল বয়'দের বনি বলেন, রুমে একটু দেরিতে যেন তাঁর জিনিসপত্র পৌঁছায়। কারণ তিনি দেখতে চান, বনিকে দেখে কতটা সারপ্রাইজ হন শ্রীদেবী। মূলত শ্রীদেবীর খুশি-আনন্দকে দেখতে চেয়েছিলেন বনি। এমনটাই দাবি কোমল নাহতার।

এরপর কী হয়?
শ্রীদেবী স্বভাবতই বনি কাপুরকে দেখে আনন্দ আত্মহারা হয়ে যান। বনি শ্রীদেবীকে চটপট তৈরি হয়ে নিতে বলেন, কারণ তাঁকে সারপ্রাইজ ডিনার ডেট-এ নিয়ে যেতে চান বলে জানান বনি। এরপরই শ্রীদেবী বাথরুমে যান স্নান করে তৈরি হয়ে নিতে। বনি কাপুরকে উদ্ধৃত করে এমনটাই বলেন কোমল নাহতা।

উদ্বিগ্ন বনি
শ্রীদেবী বাথরুমে ঢোকবার পর ১৫ মিনিট ধরে টিভি দেখেন বনি। তারপর দেরি হচ্ছে দেখে বাথরুমের সামনে অনেকবার চেঁচামিচিও করেন বনি। এরপরও কোনও সাড়া না পেয়ে, বাথরুমের দরজায় টোকা দেন তিনি। শোনা যাচিছ্ল তখনও বাথরুমে দল পড়ার আওয়াজ।

বাথরুমের দরজা খোলেন বনি
বাথরুমের দরজা খুলতে বনি দেখেন জলে ডুবে রয়েছেন শ্রীদেবী। বাথটবের জলে শ্রীদেবীকে ডুবন্ত অবস্থায় বনি দেখতে পান বলে জানাচ্ছেন কোমল নাহতা। তবে রহস্য এখনএ কাটছে না। কারণ বাথটবের পাশে কোনও জল পড়ে থাকতে দেখা যায়নি।












Click it and Unblock the Notifications