পহেলগাঁও হামলার জের, ভারতে পাকিস্তানি তারকাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্লক, তালিকায় রয়েছেন হানিয়া-মাহিরা
বুধবার সন্ধ্যায় ভারত সরকার হানিয়া আমির, মাহিরা খান এবং আলী জাফর সহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট পাকিস্তানি অভিনেতার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্লক করেছে। এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। সম্প্রতি, কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলায় ২৬ জন মানুষ নিহত হওয়ার পর ভারতের এই পদক্ষেপ। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তান থেকে মদতপুষ্ট সীমান্ত সন্ত্রাসবাদকে দায়ী করেছে।
এই ঘটনার পর, ভারত পাকিস্তানের ১৬টি ইউটিউব চ্যানেলও ব্লক করেছে। এই চ্যানেলগুলির বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। ব্লক হওয়া তারকাদের মধ্যে হানিয়া আমিরও রয়েছেন, যিনি মেরে হামসফর এবং কাভি ম্যায় কাভি তুম-এর মতো জনপ্রিয় পাকিস্তানি নাটকে অভিনয়ের জন্য ভারতীয় দর্শকদের কাছে সুপরিচিত।

পহেলগাঁওয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর, হানিয়া আমির সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, "যে কোনও জায়গায় ট্র্যাজেডি সকলের জন্য ট্র্যাজেডি। সাম্প্রতিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিরীহ মানুষের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা... শোকের ভাষা একটাই। আসুন, আমরা সবসময় মানবতাকে বেছে নিই।"
২০১৭ সালে শাহরুখ খানের বিপরীতে 'রইস' ছবিতে বলিউডে অভিষেক করা মাহিরা খান এবং জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা আলী জাফরও এই নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছেন। তবে, ফাওয়াদ খান এবং আতিফ আসলামের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল এখনও ভারতের ব্যবহারকারীরা দেখতে পারছেন। তবে ফাওয়াদ খানের "আবির গুলাল" ছবির মাধ্যমে বলিউডে প্রত্যাবর্তনের কথা ছিল, কিন্তু ভারতে ছবিটির মুক্তি বাতিল করা হয়েছে।
২০১৬ সালে উরিতে ভারতীয় সেনা ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলার পর থেকেই কোনো পাকিস্তানি অভিনেতা ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে কাজ করেননি। এর আগেও, ভারত সরকার বেশ কয়েকটি পাকিস্তানি ইউটিউব চ্যানেল নিষিদ্ধ করেছিল। পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর জঙ্গি হামলার পর ভারত সরকারের নেওয়া ধারাবাহিক প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই ডিজিটাল নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলেই খবর।
এই হামলার পর, ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা করেছে, আটারি স্থল সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে এবং পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করেছে। উল্টোদিকে পাকিস্তানও ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে এবং তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পরোক্ষ বাণিজ্যসহ সকল প্রকার বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে।
এছাড়া, পাকিস্তান ভারতের জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে যেকোনও প্রকার জলপ্রবাহে বাধা দেওয়াকে "যুদ্ধের ঘোষণা" বলে অভিহিত করেছে। এদিকে এই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং শিল্পীদের কাজের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অনেক ভারতীয় দর্শক পাকিস্তানি অভিনেতাদের কাজ পছন্দ করেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের অনুসরণ করেন। এই অ্যাকাউন্টগুলি ব্লক করার ফলে সেই সংযোগে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications