গিরিশ কারনাড রাজনৈতিক মতামত অত খোলাখুলি না দিলেও বুঝিয়ে দিতেন ঠিক
সোমবার বেঙ্গালুরুতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব গিরিশ কারনাড। অবশ্য, শুধুমাত্র নাট্যব্যক্তিত্ব বললে কারনাড-এর পূর্ণ পরিচয় দেওয়া হয় না।
সোমবার বেঙ্গালুরুতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব গিরিশ কারনাড। অবশ্য, শুধুমাত্র নাট্যব্যক্তিত্ব বললে কারনাড-এর পূর্ণ পরিচয় দেওয়া হয় না। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তাঁর মতো উচ্চশিক্ষিত মানুষ ভারতে খুব কমই আছেন।

১৯৩৮ সালে মহারাষ্ট্রের মাথেরানে জন্মগ্রহণ করেন গিরিশ। পরে কর্ণাটকেই তাঁর বড় হওয়া। মারাঠি এবং হিন্দিতে গিরিশ অভিনয় করলেও লিখেছেন কন্নড় ভাষাতে। রোডস স্কলারশিপ নিয়ে তিনি অক্সফোর্ডে অর্থনীতি, দর্শন এবং রাজনীতির উপরে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। কুড়ির কোঠাতেই গিরিশ তাঁর প্রথম নাটক 'যযাতি' এবং 'তুঘলক' লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। গতবছর, অর্থাৎ ২০১৮তে গিরিশ কারনাড-এর শেষ নাটক 'রাক্ষস টঙ্গোদি' প্রকাশ পায়। ষাটের এবং সত্তরের দশকে বাংলায় বাদল সরকার, মারাঠিতে বিজয় টেন্ডুলকার, হিন্দিতে মোহন রাকেশ এবং কন্নড়ে গিরিশ কারনাড একের পর এক নাট্য রচনা করেছেন যা ছিল নির্ভীক এবং ভারতীয় সমাজ এবং মানবজীবনের নানা জটিলতাকে তা তুলে ধরত সংশয়াতীতভাবে। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি পুনের এফটিটিআই-এর প্রধান হিসেবেও কাজ করেন গিরিশ এবং তাঁর হাত ধরে বেশ কিছু নামী অভিনেতা পায় ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ।
কিন্তু এসবের পাশাপাশি গিরিশের সবচেয়ে বড় খ্যাতি ছিল তাঁর সোজাসাপ্টা কথা বলার ক্ষমতা। মেধাবী তো বটেই, তাঁর তীক্ষ্ন অন্তৰ্দৃষ্টিও এড়াত না কিছুই। সাম্প্রতিক অতীতে শারীরিক অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও গিরিশকে দেখা গিয়েছিল বেঙ্গালুরুতে দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদীদের দৌরাত্ম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভায় সামিল হতে।
পতন ঘটল দেশের উদারবাদী শাখার একটি নক্ষত্রের
গিরিশ কারনাড আজকের দিনে সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতেন ভারতের বর্তমান সমাজ জীবনের প্রতি তা সহজেই বোধগম্য। যদিও গিরিশ তাঁর সমসাময়িক ইউ আর কৃষ্ণমূর্তির মতো রাজনৈতিক মতামত দান খোলাখুলি না করলেও নিজের কাজেকর্মে বুঝিয়ে দিতেন তাঁর অবস্থান। গিরিশের প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের উদারবাদী শাখা তার আরেকটি উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারাল।












Click it and Unblock the Notifications