নায়িকা থেকে গায়িকা! নাইটিঙ্গেল' লতা মঙ্গেশকর কীভাবে অভিনেত্রী থেকে গায়িকা হলেন, জেনে নিন
লতা মঙ্গেশকর কীভাবে অভিনেত্রী থেকে গায়িকা হলেন
সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি সঙ্গীত থেকে বলিউড ইন্ডাস্ট্রি। তাঁর মৃতুতে চোখে জল দেশবাসীর। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি তাঁর গানের কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। তিনি শুধু বিখ্যাত গায়কাই ছিলেন না। গায়িকা ছাড়াও তিনি একজন নায়িকাও ছিলেন।

মারাঠি নাটক ‘সংগীত নাটক’ প্রথম করেছিলেন
গায়িকার আগে নাম ছিল হেমা। কিন্তু তাঁর পিতার দীননাথ মঙ্গেশকরের 'ভাব বন্ধন' নাটকে 'লতিকার' চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সেখান থেকেই তিনি 'লতাজি' নামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। 'সত্যম শিবম সুন্দরম'- চিত্রনাট্য নাটকে রাজকাপুর লতাজিকে অভিনয়ের জন্য ডেকে ছিলেন। কিন্তু সেসময় তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। বয়স যখন মাত্র ৫ তখন তিনি মারাঠি নাটক 'সংগীত নাটক' -এ বাবার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

বেশি আগ্রহী ছিলেন না অভিনয়ে
লতা মঙ্গেশকরের অভিনয়ের জন্য তেমনভাবে প্রথম থেকে আগ্রহী ছিলেন না। যখন তাঁর মাত্র ১৩ বছর বয়স তখন তাঁর পিতার মৃত্যু হয়। তখন তাঁকে কয়েকটি মারাঠি ও হিন্দি ছবিতে কাজ করতে হয়েছিল। ১৯৪২ সালে 'পাহিলি মঙ্গলা-গৌর' নামে একটি ছবিতে তিনি অভিনয় করেন। জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্নেহপ্রভা প্রধানের ছোট বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

কী কী মুভি তিনি করেছেন
১৯৪৫ সালে মাস্টার বিনায়কের পরিচালিত ছবি 'বাদি মা' ছবিতে অভিনয় করেছিলেন গায়িকা লতাজি। সেই ছবিতে তাঁর বোন আশা ভোঁসলেও অভিনয় করেছিলেন। লতাজি 'মাঝে বল, 'চিমকুলা সংসার' (১৯৪৩), 'গজভাউ' (১৯৪৪) সালে অভিনয় করেছিলেন। 'জীবনযাত্রা' (১৯৪৬), 'মান' (১৯৪৮) এবং 'ছত্রপতি শিবাজি' (১৯৫২) সালে অভিনয় করেছিলেন ও জনপ্রিয় হয়েছিলেন।

৩৬টি আঞ্চলিক ভাষাতে গান একমাত্র তিনিই গেয়েছেন
সুর সম্রাজ্ঞী এক হাজারেরও বেশি হিন্দি ছবিতে গান গেয়েছেন। তিনি ভারতের একজন স্বনামধন্য গায়িকা ছিলেন। তিনি গানে রেকর্ড গড়ে ছিলেন। ভারতের ৩৬টি আঞ্চলিক ভাষাতে ও বিদেশি ভাষায় গান একমাত্র তিনিই গেয়েছিলেন।

কী কী পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি
ঠিক ৮০ বছর আগে শুরু হয়েছিল লতাজির গানের সফর। তিনি গান গেয়ে ভারতরত্ন (২০০১), পদ্মবিভূষণ (১৯৯৯), দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার (১৯৮৯), মহারাষ্ট্রভূষণ পুরস্কার (১৯৯৭), এনটিআর জাতীয় পুরস্কার (১৯৯৯), পদ্মভূষণ (১৯৬৯) সালে পেয়েছিলেন। তাঁর সুন্দর গানে মুগ্ধ শ্রোতা।

শোকস্তব্ধ সঙ্গীতমহল
সুর সম্রাজ্ঞী জীবনে প্রথম নাম ছিল হেমা। কিন্তু তাঁর পিতার আয়োজিত 'ভাব বন্ধন' নাটকে 'লতিকার' চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তারপর থেকে তাঁর নাম হেমার পরিবর্তে রাখা হয় লতা। আর সেই নামেই তিনি জনপ্রিয় হতে শুরু করেন। জীবনে প্রথম বার মঞ্চে গান গাওয়ার জন্য তিনি মাত্র ২৫ টাকা উপার্জন করেছিলেন। মারাঠি ছবি 'কিটি হাসাল'-এ ১৯৪৪ সালে গান গেয়েছিলেন। তাঁর ভাই ও বোনেরা সকলেই সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত। গায়িকার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সঙ্গীতমহল থেকে সকলে।
ছবি সৌজন্য:লতা মঙ্গেশকর /ফেসবুক পেজ












Click it and Unblock the Notifications