বাংলা সিনেমার পাশে রাজ্য সরকার, সিনেমা হলে প্রাইম টাইম শো দিতেই হবে, জারি নয়া নির্দেশিকা
বাংলা সিনেমার পাশে দাঁড়ানোর ফের একবার প্রয়াস করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নতিকল্পে একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করল। রাজ্যে অবস্থিত সমস্ত সিঙ্গল-স্ক্রিন এবং মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হলগুলির জন্য একটি বাধ্যতামূলক নিয়ম ঘোষণা করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে সারা বছর ধরে প্রতিদিন প্রতিটি স্ক্রিনে একটি নির্দিষ্ট সময়ে অর্থাৎ প্রাইম টাইমে একটি বাংলা ছবি প্রদর্শন করতে হবে।
টলিউড বেশ কিছু দিন ধরে এক কঠিন সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। অভিযোগ ছিল যে, বড় বাজেটের হিন্দি বা অন্যান্য ভাষার ছবিগুলোর চাপে বাংলা ছবিগুলো সঠিক সময়ে, বিশেষ করে প্রাইম টাইমে, প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছিল না। অনেক সময় দেখা যেত, একটি নতুন বাংলা ছবি রিলিজ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কারণ বলিউড ছবির ব্যাপক চাহিদা। এতে বাংলা ছবির প্রযোজক, পরিচালক এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন।

এই সমস্যার সমাধানে টলিউডের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি অভিযোগ জানানো হয়। এরপরই রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, শ্রীকান্ত মোহতার মতো একাধিক জনের উপস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের ফলস্বরূপই নতুন এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সারা বছর ধরে প্রতিদিন প্রতিটি স্ক্রিনে একটি করে বাংলা ছবি প্রাইম টাইমে দেখানো বাধ্যতামূলক। প্রাইম টাইম বলতে বিকেল ৩টে থেকে রাত ৯টার মধ্যে যেকোনও একটি শো-কে বোঝানো হয়েছে। এই নিয়মটি রাজ্যের সমস্ত প্রেক্ষাগৃহের জন্য প্রযোজ্য হবে।
এই পদক্ষেপের ফলে বাংলা ছবিগুলি এখন থেকে নিজেদের প্রাপ্য সুযোগ পাবে এবং দর্শকও বাংলা ছবি দেখার জন্য উৎসাহিত হবে। অভিনেতা দেবের মতো শিল্পীরা অতীতে তাদের ছবির সময় এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি জানান, এই ধরনের সমস্যা কেবল পশ্চিমবঙ্গে দেখা যায়, অন্য রাজ্যে বিরল।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে টলিউড স্বাগত জানিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে বাংলা ছবিগুলি এখন আর প্রদর্শনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না। এটি টলিউডের জন্য একটি বড় সাফল্য এবং বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের পুনরুজ্জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নতুন নিয়মটি বাংলা ছবির বাজারকে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রযোজকদের নতুন নতুন বাংলা ছবি তৈরি করতে উৎসাহিত করবে। এর ফলে, স্থানীয় চলচ্চিত্র শিল্প নতুন প্রাণ পাবে এবং দর্শকও আরও বেশি করে বাংলা ছবির প্রতি আকৃষ্ট হবে।












Click it and Unblock the Notifications