অভিনেত্রী জিয়া খানের আত্মহত্যা মামলার রায়দান আজ, উদ্বিগ্ন সূরজের পরিবার
২০১৩ সালের ৩ জুন বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল অভিনেত্রী জিয়া খানের দেহ। অভিনেত্রীর মৃত্যু নিয়ে কিন্তু ধোঁয়াশা থেকেই গেছে। সেময়ে জানা গিয়েছিল জিয়া খান আত্মহত্যা করেছিল। কেনই বা আত্মহত্যা করেছিলেন অভিনেত্রী? সেই সময় অভিযোগের তীর উঠে প্রেমিক সূরজ পাঞ্চোলির দিকে। শুক্রবার সেই মামলার রায়দান।
জিয়া খানের মৃত্যুর পর অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলি ও জারিনা ওয়াহাবের ছেলে অভিনেতা সূরজ পাঞ্চোলির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, সূরজ নাকি জিয়া খানকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়েছিলেন। জুহুর বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল অভিনেত্রী জিয়া খানের দেহ। সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছিল ছ’পাতার একটি চিঠি। আর তা থেকেই অভিযোগের তীর উঠে সূরজের বিরুদ্ধে।

সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের কর্মকর্তারা ১০ জুন চিঠিটি উদ্ধার করেছিলেন। চিঠিটি জিয়া খানই লিখেছিলেন, সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর প্রেমিক সূরজ পাঞ্চোলির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সূরজ জিয়াকে মানসিক ও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করতেন। যার জন্যই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার সেই মামলার রায় দানের দিন।

এই মামলার প্রধান সাক্ষী অভিনেত্রী জিয়া খানের মা রাবিয়া খান আদালতে জানিয়েছিলেন, তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন এই ঘটনাটি একটি খুনের ঘটনা, আত্মহত্যার নয়। জিয়া খান আত্মহত্যা করেননি, আমি চাই সত্যি সামনে আসুক। আমরা সত্য ঘটনাটি জানার জন্য ১০ বছর অপেক্ষা করেছি, এখন সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে আদালতই।
সূরজ পাঞ্চোলির পরিবারের এক সদস্যের থেকে জানা গিয়েছে, সূরজ-সহ পরিবারের সকলেই এই মামলার রায়দানের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন। তবে তাঁরা সকলেই মনে করেন, রায় তাঁদের দিকেই থাকবে। পরিবার রায় নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
#WATCH | Sooraj Pancholi reached Mumbai court with mother Zarina Wahab for the verdict in Jiah Khan suicide case pic.twitter.com/zmtMlXbouv
— ANI (@ANI) April 28, 2023
গত বছর বম্বে হাইকোর্ট জিয়া খানের মৃত্যুর মামলার নতুন করে তদন্ত চাওয়াতে তারা সেই আবেদন খারিজ করেছেন। সিবি আই আদালতে অভিনেত্রী জিয়া খানের মা গোপন জবানবন্দি দেওয়ার সময় জানিয়েছিলন, সূরজ জিয়াকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে অত্যাচার করত, সেই সঙ্গে অনেক খারাপ কথাও শোনাত। তবে, তিনি এও অভিযোগ করে জানান, মেয়ে জিয়া যে আত্মহত্যা করেছেন তা প্রমাণ করার জন্য পুলিশ ও সিবি আই কোনও আইনি প্রমাণ সংগ্রহ করেনি।
জানা গিয়েছে, সূরজ আদালতে ৩১৩ পাতার একটি চার্জশিট দাখিল করেছিলেন কিন্তু সেটি মিথ্যা বলে দাবি করছেন অভিনেত্রী জিয়া খানের মা রাবিয়া খান। উল্লেখ্য, ঘটনার পর জিয়ার মা পুলিশকে জানিয়েছিলেন, সূরজ ও তাঁর পরিবার জিয়ার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। সূরজই ওকে আত্মহ্ত্যায় প্ররোচনা দিয়েছে। জিয়ার আত্মহত্যার পরেই গ্রেপ্তার হন সূরজ। পরবর্তীকালে জামিনে ছাড়া পান অভিনেতা।












Click it and Unblock the Notifications