'জবাব না দিয়ে সেই রাতে মা ফিরতে বারণ করেছিলেন', অভিনেতা সায়ক তুলে ধরলেন এক অনুপ্রেরণার কাহিনি
দুর্গাপুজো ঘিরে আত্মধ্যাত্মিক চেতনা কোথাও গিয়ে মিশে যায় শক্তির আরাধনায়। শুধু কি মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হলেই সেখানে খুঁজে পাওয়া যায় মা দূর্গাকে! দূর্গাশক্তির বিভিন্ন রূপ হয়তো আমাদের আশপাশেও কারোর
দুর্গাপুজো ঘিরে আত্মধ্যাত্মিক চেতনা কোথাও গিয়ে মিশে যায় শক্তির আরাধনায়। শুধু কি মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হলেই সেখানে খুঁজে পাওয়া যায় মা দূর্গাকে! দূর্গাশক্তির বিভিন্ন রূপ হয়তো আমাদের আশপাশেও কারোর মধ্যে সুপ্ত থাকে। আমাদের চেতনার রঙে তাঁরাই হয়ে ওঠেন আমাদের চোখে 'দুর্গা'। 'ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা' -র 'আমার দুর্গা' বিভাগে তুলে ধরা হচ্ছে এমনই কিছু ব্যক্তিত্বের কথা। আজ শুনে নেব অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীর কথা। 'মহাপ্রভু ' থেকে 'গোয়েন্দা গিন্নি'তে টিভির পর্দায় আপনারা সায়ককে দেখেছেন। কিছুদিন আগে গড়িয়া বাজারে মারধরের ঘটনায় সায়কের প্রতিবাদী রূপও খবরের শিরোনামে উঠে আসে। আজ.. জেনে নেওয়া যাক সায়কের 'দূর্গা'-কথা..

সায়ক, তুমি দুর্গা হিসাবে কাকে বেছে নেবে?
অবশ্যই আমার মা ,..রেখা চক্রবর্তী।

কিভাবে তিনি তোমার চোখে দুর্গা হয়ে উঠলেন সেই কাহিনিটা শুনব ...
ছোটবেলা থেকেই দেখেছি মায়ের অস্বাভাবিক স্ট্রাগল। আমাদের একটা সময় আর্থিক অবস্থা খুব একটা স্বচ্ছল ছিলনা। সেই সময় মা যেভাবে লড়াই করেছেন ...মা তখনও যেভাবে সঞ্চয় করে যেতেন, মা আজও একই রকম আছেন। সবচেয়ে বড় কথা, আজ যখন আমরা সকলে স্টেবল, পরিবারের দুঃসময়টা কেটেছে, এখনও মা একই রকম আছেন। এই ব্যাপারটা আমাকে খুব ছুঁয়ে যায়...আজও তিনি ঘরে -বাইরে সমান তালে সামলে চলেন।

সেই 'ঘরে-বাইরের লড়াই'য়ের কথা যদি শেয়ার কর..
লড়াই বলতে, মা এখনও পড়ান। ছোটদের পড়ান, যেমন আগেও পড়াতেন। তবে পুরোটাই অবৈতনিক। ছোটবেলাতেও যেমন মাকে দেখেছি পড়াতে আজও সমান উৎসাহে তিনি পড়ান।

গড়িয়া বাজারে কিছু মাস আগে তোমাকে মারধর করা হয় অকথ্যভাবে। সেই সময়টায় মা কী বলেছিলেন?
আমি যে পরিস্থিতিটা ফেস করেছিলাম, সেই সময় আমার সঙ্গে আমার এক বন্ধু ছিল। ও বলেছিল, ঝামেলার মধ্যে না থেকে বাড়ি ফিরে যেতে। ..তো আমি ফিরেই আসছিলাম, কিন্তু তখন মাকে ফোন করি। মা বলেন, 'ওখানে যা... যতক্ষণ না পুলিশ আসে ততক্ষণ ওখানেই থাকবি।' জবাব না দিয়ে ফিরতে বারণ করেছিলেন সেদিন। আর বাকিটা তো জানেনই সবাই... তো পুরো ঘটনাতেই মা আমায় খুব উদ্বুদ্ধ করেন।

এবার আসি একটু পুজোর কথায় । মায়ের সঙ্গে দূর্গাপুজো কাটানোর কোন বিশেষ স্মৃতি তোমায় ছুঁয়ে যায়?
ছোটবেলায় পুজোয় আমরা মামার বাড়ি যেতাম। সেখানের কালিমন্দিরে কলাপাতায় দূর্গা-নাম লিখতে হত, আর যতদিন ছোট ছিলাম , মা হাতে ধরিয়ে সেটা লিখিয়ে দিতেন.. খুব মিস করি সেই দিনগুলো।

এখন মায়ের সঙ্গে দূর্গাপুজো কিভাবে কাটে?
এখন তো পরিক্রমা থাকে... তবে সব দিক সামলে এখন একটা দিন আমি মাকে নিয়ে বের হই। একটা দিন মাকে নিজের হাতে সাজিয়ে , সঙ্গে নিয়ে ঠাকুর দেখতে যাই।

মাকে যদি এই দূর্গাপুজোয় কোনও জিনিস ফিরিয়ে দিতে পারলে ভালো হয়.. তাহলে সেটা কোন জিনিস?
মাকে যদি এই দূর্গাপুজোয় কোনও জিনিস ফিরিয়ে দিতে পারলে ভালো হয়.. তাহলে সেটা কোন জিনিস?

মায়ের কোন মেসেজটা তোমায় ভীষণভাবে প্রভাবিত করে?
মা চিরকাল শিখিয়েছেন , 'তুমি যাঁদের ভালোবাস তাঁদের জন্য তুমি নিজের সমস্তটা ঢেলে দিতে কার্পণ্য করনা।' মা নিজেও সেটা করে দেখিয়েছেন, আর আমি নিজেও সেটা মেনে চলি।

...মাকে ছেড়ে আর কাউকে দূর্গা হিসাবে বেছে নিতে বললে কার নাম প্রথমে মাথায় আসে?
(একটু থেমে) রাজনীতি যদি বাদ দাও, তাহলে বলব মানুষ হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমার খুব ভালোলাগে।












Click it and Unblock the Notifications