মমতার জন্য দুয়ার বন্ধ করবে মিত্রশক্তিরাই! জট কংগ্রেস-বিনা বিরোধী ঐক্যের ভাবনায়
মমতার জন্য দুয়ার বন্ধ করবে মিত্রশক্তিরাই! জট কংগ্রেস-বিনা বিরোধী ঐক্যের ভাবনায়
মিশন ২০২৪-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির মোকাবিলায় নতুন ফ্রন্ট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদী সরকারকে উৎখাত করতে কংগ্রেসকে ছাড়াই নতুন শক্তিশালী বিরোধী ফ্রন্টের ডাক দিয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তাঁর ডাকে সাড়া দেবেন কি কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ-র শরিকরা?

কংগ্রেস ছাড়া মমতা, মিলছে না তেমন সাড়া
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ভাঙানোর পাশাপাশি কংগ্রেসি-মিত্রদেরও ভাঙাতে আসরে নেমেছেন। কংগ্রেস ভেঙে তিনি ত্রিপুরা, গোয়া ও মেঘালয়ে অগ্রসর হয়েছেন। তাঁর নজরে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, বিহারের মতো রাজ্যও। আবার তিনি কংগ্রেসের মিত্রদের ছিনিয়ে নিতে বিভিন্ন রাজ্যে শরিকদের উসকাচ্ছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও সাড়া পাননি তিনি।

কংগ্রেসকে ছাড়া বিজেপি-বিরোধী জোট অর্থহীন
সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে গিয়ে তিনি বিজেপি বিরোধী প্রবীণ মুখ এনসিপি সুপ্রিমো শারদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক করতে চেয়েছিলেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গেও। কিন্তু তিনি অসুস্থ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। তাই উদ্ধব-পুত্র আদিত্য ঠাকরে ও শিবসেনার মুখপাত্র সাংসদ সঞ্জয় রাউতের সঙ্গে বৈঠক করেন। কিন্তু শিবসেনার তরফে তাদের মুখপত্রে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, কংগ্রেসকে ছাড়া বিজেপি-বিরোধী জোট অর্থহীন। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে ছাড়াই চলতে চাইছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধারণার বিপরীত মত পোষণ
শুধু শিবসেনা নয়, এনসিপি প্রধান শারদ পাওয়ারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসকে ছাড়া বিরোধী শক্তিশালী জোট গড়ার পরিকল্পনা ভালোভাবে নেননি বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কেননা তাঁর কাছ থেকে তেমন কোনও সমর্থনসূচ ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যৌথ সাংবাদিক বৈঠকের সময়। ইউপিএ-মিত্ররা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই ধারণার বিপরীত মত পোষণ করছেন।

মমতার ভাবনা বিজেপিকে সহায়তা করবে
অধিকাংশ ইউপিএ-মিত্রশক্তি মনে করছে, যে ইউপিএ-র সমান্তরাল বিরোধীদের একটি নতুন রাজনৈতিক ফ্রন্ট গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবে রূপান্তরিত হলে আসন্ন ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে সহায়তা করবে। বিজেপির জয়ের পথ সুগম হয়ে যাবে। তৃণমূলের এই পদক্ষেপে চূড়ান্তরূপে উপকৃত হবে মোদী-শাহের দল। সেটা কংগ্রেস-মিত্ররা কেউই হতে দিতে চায় না।

মোদীর বিকল্প মুখ হয়ে উঠতে মমতার অবস্থান বদল
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে সাম্প্রতিক বিজয়লাভরে পর তৃণমূল উচ্ছ্বসিত হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের উত্থানের স্বার্থে নতুন রাজনৈতিক কৌশল নিয়েছে। তারা কংগ্রেসকে ছেড়ে বিজেপির প্রধান বিরোধী হয়ে উঠতে চাইছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিকল্প মুখ হয়ে উঠতে। ফলে অন্যান্য রাজ্যেও তাঁর রাজনৈতিক উপস্থিতি জানান দিতে তিনি কংগ্রেস ভেঙে সংগঠন গড়ে তুলতে ব্যস্ত।

মমতার ভোলবদল ভালো চোখে দেখছে না ইউপিএ-মিত্ররা
তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই অবস্থানও ইউপিএ-মিত্ররা ভালো চোখে দেখছে না। সম্প্রতি দিল্লি এবং মুম্বইয়ে গিয়ে বিজেপি-বিরোধী অনেক নেতার সঙ্গে দেখা করেছেন। কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের একটি নতুন রাজনৈতিক ফ্রন্ট গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তিনি সরব হয়েছেন। চেষ্টা করছেন আস্থা অর্জনের। কিন্তু কংগ্রেস জোটের এনসিপি বা শিবসেনা কারও কাছ থেকেই তেমন সাড়া পাননি।

কংগ্রেস ভিন্ন বিজেপিকে সরানোর ভাবনা অকল্পনীয়
মমতা চাইছেন, নতুন বিরোধী ফ্রন্ট তৈরির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে। তাই তিনি ইউপিএ-কে অস্তিত্বহীন বলে অভিহিত করেছেন। নাম না করে কংগ্রেসের নেতৃত্বহীনতাকে দায়ী করেছেন। রাহুলের বিদেশযাত্রাকে কটাক্ষ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিবসেনার প্রবীণ নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত জানিয়েছেন, বিরোধীদের কোনও রাজনৈতিক ফ্রন্ট কংগ্রেস পার্টি ছাড়া ক্ষমতাসীন বিজেপিকে পরাজিত করতে সফল হতে পারে না। কারণ কেবলমাত্র কংগ্রেসেরই দেশের অধিকাংশ রাজ্যে রাজনৈতিক উপস্থিতি রয়েছে। জাতীয় দল কংগ্রেস ভিন্ন বিজেপিকে সরানোর চিন্তা আশাব্যঞ্জক নয়।

বিরোধী দুটি ফ্রন্ট কখনই স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা নয়
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্বশীল এবং শ্রদ্ধাশীল রাজনীতিবিদ হিসাবে বর্ণনা করে সঞ্জয় রাউত বলেন, কংগ্রেসকে ছাড়া বিজেপিকে হারানোর পরিকল্পনা তাঁর নিজস্ব চিন্তাভাবনা বা উপলব্ধি হতে পারে। কিন্তু শিবসেনা চায় সমস্ত বিরোধী দল একসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করুক। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, কেন্দ্রের শাসক বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের ঐক্যের জন্য বিরোধী দুটি ফ্রন্ট কখনই স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা নয়।

তৃণমূলের থেকে কংগ্রেসকেই আগে বেছে নেবেন অনেকে
বিহারের আরজেডি কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ-র অন্যতম বড় শরিক। কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদের একটি নতুন রাজনৈতিক ফ্রন্ট গঠন করা হলে তাঁরা যোগ দিতে চাইবেন কি না তাও সন্দেহ। আবার ঝাড়খণ্ডের জেএমএম সুপ্রিমো হেমন্ত সোরেনও তৃণমূলের থেকে কংগ্রেসকেই আগে বেছে নেবেন এমন ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ইতিমধ্যেই।

ইউপিএ-র মিত্রদের কাছে মমতার ভাবনা বিস্ময় ঠেকেছে
আরজেডি বা জেএমএম একপ্রকার জানিয়েই দিয়েছেন, কংগ্রেসকে বাদ দেওয়ার বা কংগ্রেস পার্টি ছাড়া গঠিত বিরোধীদের নতুন রাজনৈতিক ফ্রন্টে যাওয়ার কথা আমরা এখনই ভাবছি না। কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে কীভাবে বিজেপি-বিরোধী ফ্রন্ট করা যেতে পারে, যেখানে দেশের ২০০টিরও বেশি লোকসভা আসনে বিজেপির সঙ্গে তাদের সরাসরি লড়াই? ইউপিএ-র মিত্রদের কাছে এটি বিস্ময় ঠেকেছে।

কংগ্রেস ছাড়া বিরোধীদের কোনও যুক্তফ্রন্ট হয় না
আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদবও বলেছিলেন, বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্যকে শক্তিশালী করার জন্য সোনিয়া গান্ধীকে সমস্ত বিরোধী নেতাদের বৈঠক ডাকতে অনুরোধ করেছিলেন। শারদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি ইতিমধ্যেই কংগ্রেস ছাড়া বিরোধীদের একটি নতুন ফ্রন্ট গঠনের ধারণা খারিজ করে দিয়েছে। এনসিপির জাতীয় মুখপাত্র নবাব মালিক সম্প্রতি জানিয়েছেন, কংগ্রেস পার্টির প্যান-ইন্ডিয়া উপস্থিতি রয়েছে এবং বিরোধীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফলে কংগ্রেস ছাড়া বিরোধীদের কোনও যুক্তফ্রন্ট গঠন করা যায় না।












Click it and Unblock the Notifications