মমতাকে দিয়ে বিজেপির স্বপ্নপূরণ! কংগ্রেস-মুক্ত ভারত গড়তে কৌশলী প্রশান্ত কিশোর
মমতাকে দিয়ে বিজেপির স্বপ্নপূরণ! কংগ্রেস-মুক্ত ভারত গড়তে কৌশলী প্রশান্ত কিশোর
বিজেপির পর কি কংগ্রেস-মুক্ত ভারত গড়তে চাইছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে দিয়ে কি তিনি সেই কাজে ব্রতী হয়েছেন? একুশের কুরুক্ষেত্রে বাংলায় বিজেপিকে হারানোর পর হঠাৎ করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌশল বদলে উঠে পড়েছে বহু আকাঙ্খিত সেই প্রশ্ন।

কংগ্রেস-মুক্ত ভারত গড়ার প্রয়াস যখন সফল হয়নি বিজেপির
২০১৪ সালে কংগ্রেসকে হারিয়ে ক্ষমতায় আসার পর মোদী-শাহরা দেশের সমস্ত রাজ্য নিজেদের দখলে আনার খেলায় মেতে উঠেছিল। ক্ষমতায় এসেই তাঁরা ডাক দিয়েছিল কংগ্রেস-মুক্ত ভারত গড়ার। সেই লক্ষ্যে ধাপে ধাপে এগিয়েও গিয়েছিল। দেশের দুই তৃতীয়াংশের বেশি রাজ্যে শাসন কায়েম করেছিল বিজেপি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের সেই অভিযান সফল হয়নি। তবে চেষ্টা এখনও জারি রয়েছে।

বিজেপির অসম্পূর্ণ কাজ কি সম্পূর্ণ করতে চাইছে তৃণমূল
এখন বিজেপির সেই অসম্পূর্ণ কাজ কি তৃণমূল করতে চাইছে বা তৃণমূলকে দিয়ে সেই অসম্পূর্ণ কাজ করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, সেই প্রশ্ন উঠে পড়েছে তৃণমূলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান বদলে। বিশেষ করে জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি যেরূপ অবস্থান নিয়েছে, তাতে কংগ্রেসকে হারানোই যেন বিভিন্ন রাজ্যে তাঁদের লক্ষ্য তা প্রতিপণ্ন হচ্ছে।

মমতার মিশন ২৪-এ নিশানা থেকে বাদ যায়নি কংগ্রেসও
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারিয়ে জয়লাভের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের জন্য তাংর দাবি জোরলো করতে শুরু করেছেন। মমতার এই মিশনে তৃণমূলের নিশানা থেকে বাদ যায়নি কংগ্রেসও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক কংগ্রেসের বড় নেতাদের ভাঙিয়ে এনে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করিয়েছেন। এবং সারা দেশে কংগ্রেসের সমান্তরাল ভিত্তি গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নিরন্তর।

বহু কংগ্রেস নেতার তৃণমূলে যোগদান একুশের নির্বাচনের পরে
ইতিমধ্যে জাতীয়স্তরের বহু কংগ্রেস নেতা যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানকারী কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম হলেন মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী সুস্মিতা দেব। তারপর রয়েছেন গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা লুইজিনহো ফেলেইরো, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছেলে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়, ললিতেশপতি ত্রিপাঠী। ললিতেশপতি প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কমলাপতি ত্রিপাঠীর নাতি। এর মধ্যে সুস্মিতা ও ফেলরিওকে রাজ্যসভার সাংসদও করেছে তৃণমূল। এছাড়া অনেক দ্বিতীয় সারির নেতা রয়েছেন, যাঁরা কংগ্রেস ছেড়ে ইতিমধ্যে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।

মমতার সফরে দিল্লিতে দুই কংগ্রেস নেতার তৃণমূলে যোগ!
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দিল্লি সফরে বহু জাতীয় কংগ্রেস নেতাকে ভাঙাতে পারেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কংগ্রেস দল ভাঙার এই প্রক্রিয়া তিনি চালিয়েই যাচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। কংগ্রেস নেতা কীর্তি আজাদ ও প্রাক্তন হরিয়ানা কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ অশোক তানওয়ার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে। অশোক তানওয়ার রাহুল গান্ধী ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এরই মধ্যে প্রাক্তন বিজেপি নেতা সুধীন্দ্র কুলকার্নি ও প্রাক্তন জেডিইউ নেতা পবন বর্মা যোগ দেন তৃণমূলে।

প্রশান্ত কিশোর মমতার মিশন ২০২৪-এর পরিচালক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাঁর মিশন ২০২৪-এ কৌশলী উপদেষ্টা হিসেবে প্রশান্ত কিশোরকে পেয়েছেন। তিনি বাংলার নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রভূত সাফল্য এনে দিয়েছেন। বিজেপিকে হারিয়ে তিনি মমতার পক্ষে জাতীয় রাজনীতিতে কাজ শুরু করেছেন বলেন রাজনৈতিক মহলের অভিমত। দেশের সব আঞ্চলিক দলের নেতাদের নিয়ে তিনি কাজ করছেন। এ প্রসঙ্গে দিল্লিতে শারদ পাওয়ারের বাড়িতে একাধিক বৈঠকও করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। সেখানে শারদ পাওয়ার, যশবন্ত সিনহা থেকে শুরু করে বহু আঞ্চলিক দলের নেতারা ছিলেন।

মমতা নিজেকে মোদী-বিরোধী প্রধান মুখ মনে করেন
প্রকৃতপক্ষে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে ২০২৪ সালের নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলের সবথেকে গ্রহণযোগ্য মুখ বলে মনে করেন। আর তাঁর পথে সবথেকে বড় বাধা হল কংগ্রেস। কারণ কংগ্রেস তাঁকে বিরোধীদের প্রধান মুখ হিসেবে 'ট্যাগ' দিতে চায় না। এই কারণেই তিনি কংগ্রেসকে ভেঙে দেশের বিজেপি বিরোধী প্রধান দলকে দুর্বল করতে চাইছেন বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এখন প্রশ্ন হল- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি কংগ্রেসকে দুর্বল করে বিরোধীদের মুখ হয়ে উঠতে সফল হবেন? প্রশান্ত কিশোর কি সফল হবেন মমতাকে মোদী-বিরোধী প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরতে? সময়ই বলে দেবে তা। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মমতা ও পিকে-কে দিয়ে কংগ্রেস-মুক্ত ভারত গড়ছে বিজেপি!
তবে এর পাশাপাশি কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ করা হচ্ছে, কংগ্রেস-মুক্ত ভারত গড়তে পারেনি বিজেপি। বিজেপি এখন সেই কাজ করতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোরকে দিয়ে। প্রশান্ত কিশোর ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উভয়েরই পুরনো যোগসূত্র রয়েছে বিজেপির সঙ্গে। তাদেরকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসকে দুর্বল করে বিজেপি রাজ্যে রাজ্যে ক্ষমতা নিশ্চিত করতে চাইছে। এমনকী ২০২৪-এও টিকে থাকতে কংগ্রেসকে দুর্বল করা তাদের লক্ষ্য। প্রশান্ত কিশোর ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে তা করে চলেছেন অবলীলায়।












Click it and Unblock the Notifications