মোদী ভালো বিজেপি খারাপ, কেন এই কৌশলে শাহ-শুভেন্দুদের এক বন্ধনীতে ফেললেন মমতা
মোদী-মমতার সেটিং তত্ত্ব নিয়ে কম চর্চা হয়নি। সিপিএম্ তো কথায় কথায় দিদি-মোদীর সেটিং নিয়ে অভিযোগ করে।
মোদী-মমতার সেটিং তত্ত্ব নিয়ে কম চর্চা হয়নি। সিপিএম্ তো কথায় কথায় দিদি-মোদীর সেটিং নিয়ে অভিযোগ করে। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করা নিয়ে সেটিং নিয়ে নানা চর্চা হয়েছে। তবে তা আমল দেননি মোদী বা দিদি কেউই। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে শোনা গেল মোদীর ভূয়সী প্রশংসা। পাশাপাশি তিনি বিজেপির সমালোচনা করতে ছাড়লেন না। মোদী ভালো বিজেপি খারাপ, এহেন মন্তব্যে তিনি কী বোঝাতে চাইলেন, কোন পথেই বা হাঁটতে চাইলেন বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা শুরু করলেন তরজা।

নরেন্দ্র মোদী ভালো আর অমিত শাহ খারাপ!
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার বিধানসভায় তাঁর ভাষণে রাজ্যে ইডি-সিবিআই নিয়ে তৎপরতা নিয়ে নিন্দা প্রস্তাব পেশ করে জানান, আমি বিশ্বাস করি না যে, এটা নরেন্দ্র মোদী করেছে। এটা বিজেপি নেতাদের কাজ। তিনি বলেন আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন যে, ইডি-সিবিআই আর প্রধানমন্ত্রীর দফতর দেখে না, দেখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। অর্থাৎ তিনি ঘুরিয়ে বুঝিয়েই দিলেন নরেন্দ্র মোদী ভালো আর অমিত শাহ খারাপ। এই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যের নেতাদের মদতেই বিজেপি ইডি-সিবিআইকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে।

মোদীকে প্রশংসার ভরিয়ে দিলেন মমতা, কেন?
শুধু কেন্দ্রের ক্ষেত্রেই নয়, রাজ্য বিজেপির ক্ষেত্রেও তৃণমূল এখন অবস্থান নিয়েছে, দিলীপ ঘোষ ভালো, কিন্তু শুভেন্দু নয়। এভাবেই অমিত শাহ ও শুভেন্দু অধিকারীদের একই বন্ধনীতে রেখে তৃণমূল আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছে। এতদিন দেখা গিয়েছে তৃণমূল পুরো বিজেপিকেই কাঠগড়ায় তুলছে। মোদীকে সর্বাগ্রে নিশানা করছে। কিন্তু এখন হঠাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৌশল বদলে মোদীকে প্রশংসার ভরিয়ে দিলেন? কেন তিনি এই কৌশল নিলেন, সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন!

এটা আসলে একটা কৌশল মমতার
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এটা আসলে একটা কৌশল। ইডি-সিবিআইয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কৌশল। তাঁর দলের নেতা-নেত্রীরা যেভাবে জড়িয়ে পড়ছে, তাঁর সরকারের বিভিন্ন দফতরের বিরুদ্ধে যেভাবে আঙুল উঠছে, তাতে তিনি একটা রাস্তা তৈরি করতে চাইছেন।

মোদী করবেন না, বিজেপি করছে! কারণ
কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কথায় জানিয়েছেন তিনি বিশ্বাস করেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইডি-সিবিআইকে লেলিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের বিরুদ্ধে। কারণ তিনিও মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। সিবিআই-ইডির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। কীভাবে কেন্দ্র এ ব্যাপারে রাজ্যের পিছনে লাগে, তা তাঁর জানা। তাই তিনি করবেন না। কিন্তু বিজেপি করছে। করছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে।

এজেন্সি দিয়ে দমিয়ে রেখে যুদ্ধ জয়ের চেষ্টা
তৃণমূলের অভিযোগ, যখনই ভোট আসে রাজ্যে রাজ্য তৎপর হয় সিবিআই-ইডি। এটা বিজেপির প্রচ্ছন্ন মদতেই হয়। বিরোধীদের বিভিন্ন এজেন্সি দিয়ে দমিয়ে রেখে যুদ্ধ জয় করতে চায় বিজেপি। বিজেপি আদতে কোনও কাজ করে না। দমন-পীড়ন করে ক্ষমতার অলিন্দে থাকাই বিজেপির আসল উদ্দেশ্য। সেই কারণেই পরিকল্পিতভাবে ইডি-সিবিআইকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সিবিআই-ইডি তদন্ত হোক, কিন্তু নিরপেক্ষ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সাফ জানিয়েছেন, ইডি-সিবিআই তদন্তে তাণর আপত্তি নেই। দুর্নীতি হলে সামনে আসুক। কিন্তু তদন্ত হোক নিরপেক্ষ। কেন শুধু তাঁদের দলের নেতা-নেত্রীদের বাড়িতে তল্লাশি চলবে? কেন বিরোধী দলনেতার বাড়িতে তল্লাশি হবে না, কেন বিজেপির অন্যান্য নেতাদের বাড়িতে তল্লাশি হবে না। তিনি বলেন, বিজেপির যে কোনও নেতার বাড়িতে তল্লাশি হলে কোটি কোটি টাকা মিলবে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সি আমাদের নিয়ে তল্লাশি চালাক, কোথা থেকে টাকা বের হয় আমরা দেখিয়ে দেব।

এক ঢিলে দু-পাখি মারতে চেয়েছেন
এ প্রসঙ্গে বিজেপিকে নিশানা করে তৃণমূল সুপ্রিমো আর বলেন, বিজেপি রাজ্যে রাজ্যে সরকার ভাঙতে চায়। মহারাষ্ট্রে সরকার ভেঙেছে, দিল্লি, ঝাড়খণ্ডের সরকার ভাঙতে চেয়েছিল, পারেনি। যেখানে যেখানে বিরোধী সরকার আছে, সেখানেই নানা কলকাঠি নাড়ানো হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বিজেপিকে একহাত নিয়েছেন মমতা। কিন্তু তিনি এবার নরেন্দ্র মোদীকে ক্লিনচিট দিয়ে এক ঢিলে দু-পাখি মারতে চেয়েছেন বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

মোদীর আনুগত্য রেখে বিজেপির সমালোচনা
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে তিনি বিজেপির সমালোচনা করে বিরোধিতা বজায় রাখতে চাইছেন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসা করে আনুগত্য বজায় রাখছেন। বিজেপির প্রধান মুখ মোদী, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত হবে না। এই মুহূর্তে তিনি ছাড়া বিকল্প কোনও নাম নেই বিজেপিতে। ফলে মোদীর আনুগত্য রেখে বিজেপির সমালোচনা করে মাস্টারস্ট্রোক দেওয়ার চেষ্টা করলেন মমতা।

বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেসের মতে
যদিও তা নিয়ে বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে বক্রোক্তি। ফলে জমজমাট তরজা শুরু হয়েছে মমতার মোদী-আনুগত্য নিয়ে। বিজেপি বলছে তদন্তের হাত থেকে বাঁচতেই এই পন্থা নিয়েছেন মমতা। আর সিপিএম বলছে, এটাই সেটিং। কংগ্রেসের কথা, বিজেপির সঙ্গে তো আগে জোট করে লড়েছে তৃণমূল, সেই ইতিহাস তো রয়েছে! তাই এটা আর নতুন কী!












Click it and Unblock the Notifications