মোদী-সাক্ষাতের হ্যাটট্রিক করলেন মমতা, এবার দিল্লি সফর থেকে জুটল কী প্রাপ্তি
মোদী-সাক্ষাতের হ্যাটট্রিক করলেন মমতা, এবার দিল্লি সফর থেকে জুটল কী প্রাপ্তি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার দিল্লি সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের হ্যাটট্রিক করেছেন। যা সচরাচর দেখা যায় না, এমনই এক কীর্তি গড়ে তিনি ফিরছেন দিল্লি সফর থেকে। বিরোধী ঐক্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই তাঁর ফিরে আসা কীসের বার্তা দিচ্ছে? তবে কি আরও বড় কিছু প্রাপ্তি হয়েছে এবার সফরে, যে কারণে তিনি বিরোধী ঐক্যকে তুড়ি মেরে ফিরে এলেন কলকাতায়!

মমতা-মোদী সাক্ষাৎকে সেটিং বা ম্যানেজের বৈঠক বলে কটাক্ষ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি সফরে যাবেন, তা স্থির ছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার তিনদিন আগেই দিল্লিতে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক সেরেছেন। একান্ত এই বৈঠক নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। রাজ্যের বিরোধী দল সিপিএম এবং কংগ্রেসও এই সাক্ষাৎকে সেটিং বা ম্যানেজের বৈঠক বলে অভিহিত করেছেন। তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলেও।

মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের হ্যাটট্রিক, বিরোধীদের নো পাত্তা মমতার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চার দিনের দিল্লি সফরে গিয়েছেন। এই চারদিনে তিনবার তিনি সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। কিন্তু দিল্লিতে যখন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে, বিজেপির সরকারের জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ হচ্ছে, সেই বৈঠকে তিনি শামিল হলেন না। এমনকী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে বিরোধীদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলেও প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধীরা, সেখানেও গরহাজির থাকলেন মমতা। উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যখন বিরোধীরা এককাট্টা, সেখানে তিনি ঢুঁও মারলেন না। ভোট না দেন বিরোধী ঐক্যের বার্তা দিতে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার প্রয়োজন মনে করলেন না। তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে গেলেন।

২০২৪-এ বিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরাবে মমতার অবস্থান
বিরোধীদের নৈশভোজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গরহাজির থাকা রাজনৈতিক মহলের একাংশ অন্য মানে করছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা এবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি সফরে এসেছিলেন একেবারে অন্য এক উদ্দেশ্য নিয়ে। গভীর স্বার্থ ছিল এর মধ্যে। সে কারণেই তিনি বিরোধীদের এবার গুরুত্বই দেননি তিনি। সোনিয়া গান্ধী তো দূর অস্ত ভাই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে পর্যন্ত সাক্ষাৎ করেননি। তাঁর এই অবস্থান ২০২৪-এ বিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরাবে বলেই মত একাংশের।

মমতার কাছে অগ্রাধিকার পেয়েছেন মোদীর সাক্ষাৎ, কেন
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হানায় জেরবার বাংলার তৃণমূল। তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ডম্যান মহাসচিব তথা রাজ্যের ডাকসাইটে মন্ত্রীকে পর্যন্ত গ্রেফতার হতে হয়েছে। তারপর তিনি অপসারিত হয়েছেন সমস্ত পদ থেকে, সদ্য প্রাক্তন হয়েছেন, কিন্তু তিনি তো তৃণমূলের নম্বর টু ছিলেন। শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি ও অন্যান্য দুর্নীতির তদন্তে তৃণমূলের এখন ছুঁচো গেলার অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে তিনি সব কিছু ছেড়ে দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেই দিল্লি সফরে এসেছেন বলে কংগ্রেস-সিপিএমসহ বিরোধীদের একাংশের দাবি।

মোদীর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ, জোড়া সাক্ষাৎ রাষ্ট্রপতি ভবনে
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞমহল মনে করছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবারের দিল্লি সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগেভাগে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে একান্ত সাক্ষাৎকারের মধ্যে দিয়েই প্রস্ফুটিত হয়েছে। এবারের দিল্লি সফরে মমতার কর্মসূচি মানেই মোদী-সাক্ষাৎ। একান্ত সাক্ষাৎকারের পর রাষ্ট্রপতি ভবনে দুদিনই সরকারি অনুষ্ঠান। শনিবার মোদী-মমতা সাক্ষাৎ হয় স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে। আর রবিবার নীতি আয়োগের বৈঠকেও তাঁদের সাক্ষাৎ হল। স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে বৈঠকে তিনি কিছু বলার সুযোগ না পেলেও, নীতি আয়োগের বৈঠকে বললেন মমতা। কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ও যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো অটুট রাখরা কথা উঠে এল তাঁর বক্তব্যে।

মমতার দিল্লি সফরে নয়া অবস্থানে ক্ষুব্ধ বিরোধীরা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এক সফরে সাক্ষাৎকারের হ্যাটট্রিক করলেও কেন বিরোধীদের পাত্তা দিলেন না, তা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মার্গারেট আলভা থেকে শুরু করে অধীর চৌধুরী, মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তীরা সরব হয়েছেন। ভালোভাবে নেননি শারদ পাওয়ার-সহ অন্যান্য বিরোধীরাও। দিল্লিতে গিয়েও বিরোধী নেতৃত্বের সঙ্গে একবার কেন সাক্ষাৎ করলেন না মমতা, তা নিয়ে সবাই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এর ফলে ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে বিরোধী ঐক্য ধাক্কা খেতে বাধ্য হবে বলে অভিমত পোষণও করেছে।

বিরোধী ঐক্যের জলাঞ্জলি দিয়ে স্বার্থপূরণের অভিযোগ
বিরোধীদের একাংশ তো খুল্লামুল্লা অভিযোগ করতে শুরু করে দিয়েছে যে, দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে দিল্লি গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার দিল্লিতে গিয়ে তাই বিরোধী ঐক্যে শান না দিয়ে সলতে পাকিয়েছেন সেটিংয়ের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ম্যানেজ করে কোনওরকমে বাঁচাই তৃণমূল সুপ্রিমোর উদ্দেশ্য ছিল এবার। সিপিএমের পক্ষ থেকে সুজন চক্রবর্তী তো সরাসরি বলেছেন, তিনি অফিসিয়ালি কোনও বৈঠকে যান না বা মন্ত্রীদের পাঠান না। দরকরা পড়লে নিজে একান্ত বৈঠকে ছুটে যান দিল্লি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি এসেছেন প্রধানমন্ত্রীকে ম্যানেজ করতে। প্রধানমন্ত্রী যা বলবেন, যেমনটা করতে বলবেন, এবার তিনি তাই করবেন। করবেন নিজে বাঁচতে, দলকে বাঁচাতে। তাই এবার বিরোধী ঐক্যের জলাঞ্জলি দিয়ে তিনি ব্যস্ত থেকেছেন ম্যানেজ-বৈঠকে।

মোদী-মমতা একান্তে বৈঠকের পর যে আশঙ্কা বিরোধীদের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এর আগেও এমন ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন বিরোধীরা। বিরোধীরা বারবার সারদা-নারদ মামলায় তদন্তের কথা উদাহারণ স্বরূপ তুলে ধরেন। এবারও শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তও সেই পথে হাঁটতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে এবং ২০২৪-এ জেতার রাস্তা মসৃণ করতে তৃণমূল একটু সুবিধা পাইয়ে দিতেই পারে। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একান্তে বৈঠকের পর সেই আশঙ্কা বিরোধীদের।












Click it and Unblock the Notifications