Lok sabha Election 2024: তিন নেতার পথ মেলাতে হবে, সমন্বয়ের ফর্মুলা খুঁজে চলেছে বিজেপি
বিজেপিতে এখন ত্রিধারা। তিন প্রধান নেতা তিন দিকে চলেন, এমন অভিযোগ বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবক্ষকদের কাছে বারবার গিয়েছে। তাঁরা বারবার চেষ্টা করেছেন তিন নেতার পথ মেলাত। কিন্তু পারেননি তাঁরা। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে ফরে বিজেপির পর্যবেক্ষকরা সমন্বয়ের ফর্মুলা খুঁজতে ব্যস্ত।
শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ ও সুকান্ত মজুমদার-এই তিন নেতাই যথেষ্ট জনপ্রিয়। এই তিন নেতার পথ মেলানোই এখন বিজেপির কাছে চ্যালেঞ্জ। বিজেপির পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল ও মঙ্গল পাণ্ডেরা সেই গুরুদায়িত্বই এখন নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। বিজেপি জানে তিন নেতাকে এক করতে না পারলে বাংলায় তাদের আশা ক্ষীণ।

সুনীল বনসল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেখছেন, তিন নেতার মধ্যে কোনও সহমিল নেই। তিনজন তিন রাস্তায় চলছেন। তাদেরকে কোনওভাবেই এক রাস্তায় ফেলা যাচ্ছে না। কতিপয় অনুষ্ঠানে তাঁরা একাসনে এলেও তাঁদের মধ্যে কোনও তালমিল নেই। সম্প্রতি বিশেষ কয়েকটি কর্মসূচিতে তাঁদের একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দলের অন্দরে উল্টো সুর উঠতে শুরু করেছে।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তিনজনকে এক হয়ে কাজ করতে বললেও রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তাদের দূরত্ব আরও বেড়েছে। সম্প্রতি যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে তাঁদের তিনজনেরই একসঙ্গে ব়্যাগিং বিরোধী মিছিলে হাঁটার কথা ছিল। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী ছাড়া আর কেউ উপস্থিত হননি। গরহাজির ছিলেন দিলীপ ঘোষ ও সুকান্ত মজুমদার।
যেখানে বঙ্গ বিজেপির তিন নেতাকে এক ফ্রেমে দেখার কথা ছিল, সেখানে শুভেন্দু একা হাঁটলেন এক পাশে অগ্নিমিত্রা পাল, অন্য পাশে অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে। ফলে এই কর্মসূচির তাল কেটে যায় বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। এরপর ছন্দপতন হতে দেখা গিয়েছে ধূপগুড়ি উপনির্বাচনের প্রচারেও।
ধূপগুড়িতেও শুভেন্দু-দিলীপ-সুকান্তকে নিয়ে রোড শো করার পরিকল্পনা করেছলি জেলা নেতৃত্ব। কিন্তু তিনজনকে একসঙ্গে পাওয়াই যাচ্ছে না। বারবার এই ধরনের অভিযোগ উঠতে থাকায় লোকসভা নির্বাচনের আগে বিব্রত বিজেপির পর্যবেক্ষকরাও। তারা কিছুতেই এক সূত্রে বাঁধতে পারছেন না বঙ্গ বিজেপিকে।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছেন সুনীল বনসল ও মঙ্গল পাণ্ডেরা। খুব শীঘ্রই তাঁরা চাইছেন রাজ্য বিজেপির তিন শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসতে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সমন্বয়ের ফর্মুলা খোঁজার চেষ্টা চালাবেন পর্যবেক্ষকরা। রাজনৈতিক মহলের ধারণা ইগোর লড়াইয়ে বিজেপির আন্দোলন দানা বাঁধছে না।
তৃণমূল বিরোধিতায় তিনজন এককাট্টা হলেও তাঁরা নিজেদেরকেই দলের শেষ কথা ভাবছেন। ফলে তাঁদের সহযোদ্ধা লাগছে না কখনই। তাঁরা এক একজন সেনানায়ক হয়ে উঠতে চাইছেন। কিন্তু বিজেপির পর্যবেক্ষকরা ভালোই বুঝতে পারছেন, তিন নেতাকে এক সূত্রে গাঁথতে না পারলে লোকসভা নির্বাচনে খেসারত দিতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications