পার্কিনসনস রোগ কী, কারা এই রোগে আক্রান্ত হন, জানুন লক্ষণ, ঝুঁকি কমবে কোন উপায়ে

পার্কিনসনস রোগটি সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। এটি কিন্তু মূলত স্নায়ুতন্ত্রের রোগ। এই রোগ যাদের হয় তাঁদের স্মৃতিভ্রংশ হয়। মানসিক সমস্যা হয়। প্রতি বছর ১১ এপ্রিল বিশ্ব পার্কিনসনস দিবস পালিত হয়। আচমকাই যদি দেখেন হাতের আঙ্গুল হালকা হালকা কাপছে। ঠিকমতো পেন বা পেন্সিল ধরতে পারছেন না। হাতের গতি কমে আসছে। তাহলে বুঝবেন আপনি এই রোগে আক্রান্ত। পার্কিনসনস রোগ কী

চিকিৎসকের মতে, এই পার্কিনসনস রোগ হল একটি প্রগতি মূলক নার্ভাস সিস্টেম ডিসঅর্ডার বা স্নায়ুতন্ত্রের রোগ বলা চলে। শরীরের নাড়াচড়া মানে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের নাড়াচাড়ার উপরেও বিশেষ প্রভাব পড়ে এর। এটি হলে আপনার মস্তিষ্কের একটি অংশের ক্ষতি হবে। WHO-এর মতে এই রোগ হলে মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়। সেই সঙ্গে মানসিক চাপ বাড়ে। ঘুম ভালোভাবে হবে না। শারীরিক নানান সমস্যা দেখা দেবে।

Parkinson

  • লক্ষণ

রোগীর হাত-পা সব সময় কাপবে। হাঁটতে কষ্ট হবে। ঘুম ভালো হবে না। কোনও কাজ করলে সেটি আপনি খুব ধীরগতিতে করবেন। হাঁটাচলা, নড়াচড়া খুব আসতে করতে হবে। সেই সঙ্গে আপনার কথাবার্তা চিন্তাভাবনা, আচার-আচরণের উপর একটা খারাপ প্রভাব পড়বে।

পার্কিনসনস রোগের চিকিৎসা কিন্তু তেমন ভাবে হয় না। পুরোপুরি এই রোগ কিন্তু কমেও না। তবে জীবন যাত্রার কিছু পরিবর্তন আনলেই রোগের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।

  • কীভাবে কমবে ঝুঁকি

১) শারীরিকভাবে আপনাকে একটু বেশি কাজ করতে হবে। তাহলে আপনারা এই রোগের ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমবে।

২) নিত্যদিন আপনাকে দৌড়াতে হবে, হাঁটতে হবে, সাঁতার কাটা, নাচার মতন কাজ করলে এই রোগ থেকে আপনি অনেকটাই মুক্তি পাবেন।

৩) এই রোগে আক্রান্ত থাকলে এড়িয়ে চলুন চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া। চিনি কম খাবেন। যাতে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।

৪) মানসিক চাপ কমে ও মস্তিষ্ক আরোও সচল থাকে তেমন খেলা খেলুন। কোনও ধরনের গেম খেলুন। ধাঁধার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করুন। তাহলে পার্কিনসনস রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৫) আপনি যখন ঘরের বাইরে বেরোবেন তখন সাবধানে হাঁটাচলা করবেন। বাইক চালালে যাতে আপনি পড়ে না জান সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। হেলমেট পড়বেন।


৬) বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা এই রোগে আক্রান্ত তাদের ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। তাহলে এই রোগের ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমতে পারে।

৭) চিনি, নুন জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। তার জায়গায় বেশি করে শাক-সবজি, ফল, শস্যজাতীয় খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

8) অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি রয়েছে এমন খাদ্য নিত্যদিন খাদ্য তালিকায় রাখুন। যেমন- ফল, সবজি ইত্যাদি।

  • কাদের এই রোগের ঝুঁকি বেশি

এই রোগ মূলত ষাট বছরের বেশি ব্যক্তিদেরই হয়ে থাকে। তরুণ তরুণীদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি অতটা নেই বললেই চলে। তবুও প্রত্যেকের সতর্ক থাকা উচিত। শরীরের কোনও অংশ যদি অসাড় হয় বা কোন পেশি সঠিকভাবে কাজ না করে বা হাঁটতে চলতে অসুবিধা হয় বা ঘুমের সমস্যা হয় তবে তা কিন্তু পার্কিনসনস রোগের লক্ষণ। যা দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+