গরমকালে হার্টকে ভালো রাখতে কোন কোন খাবার খাবেন, দেখুন
এই গরমে নাজেহাল হয়ে উঠেছেন দেশবাসী, সূর্য উঠলেই বাড়ির বাইরে বেরোনো যেন দুর্বিসহ হয়ে উঠছে ভারতবাসীর কাছে। গরমে শরীর ক্রমশক ক্লান্ত হয়ে পড়ছে। প্যাচপ্যাচে ঘাম আর গরমে শরীর যেন অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে। এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা প্রচন্ড পরিমাণে বেড়েছে।
৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে গরম। এই গরমে প্রত্যেকটি মানুষের শরীরের সুস্থ রাখা খুব দরকার। সেই সঙ্গে হার্টকেও খুব ভালো রাখতে হবে। তবে কীভাবে তা রাখবেন জানুন এখান থেকে।

কী জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা
অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গরমের সময় মানুষের শরীর ক্রমশ হাইড্রেট হতে থাকে । তাই এই সময়ে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন অবলম্বন করতে হয়। এই সময় তবেই কিন্তু আপনার শরীর সুস্থ থাকবে । উচ্চ তাপমাত্রা ও শরীরের উপর বর্ধিত চাপের কারণে আপনাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। তাই এসময় আপনার হার্টের হার্টকে সুস্থ রাখা সব থেকে বেশি দরকার।

হার্টকে সুস্থ রাখুন
জানা গিয়েছে, এই গরমকালে মানুষের খাবারের লবণ, চর্বি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার একটু কম খাওয়া দরকার। পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়াম ফাইবার জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া দরকার। গ্রীষ্মকালে ডিহাইড্রেশন এবং হিটস্ট্রোকের কারণে আমাদের হার্টের যত্ন নেওয়ার খুব দরকার।

নুন বেশি খাবেন না
বেশি নুনযুক্ত খাবার খাওয়া শরীরের জন্য একদম ভালো নয়। তাহলে আপনার হার্ট অ্যাটাক হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকবে। শুধু তাই নয় শরীরকে ডিহাইড্রেট রাখতে তিন থেকে চার লিটার জল খান। খাদ্য তালিকায় রাখুন তাজা ফল, শাকসবজি।

তরমুজ খান
এসময় প্রতিটি মানুষেরই প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়া দরকার। সেই সঙ্গে মৌসুমী ফল খাওয়ারও দরকার। তাই প্রচুর পরিমাণে তরমুজ খান। এদিকে ৯২ শতাংশ জল থাকে। এটি পুষ্টিতে ভরপুর। রক্তচাপ কমাতেও খুব সহায়ক। এটি খেলে যত আপনার শরীরে জলের ঘাটতি মিটবে এবং শরীর ডিহাইড্রেট থাকবে হার্টের ওপর থেকে চাপ অনেকটাই কমবে এবং হার্ট অ্যাটাকে সম্ভাবনা অনেকটা কমবে।

স্ট্রবেরি খান
স্ট্রবেরি জাতীয় ফল খাওয়া শরীরের পক্ষে খুব ভালো। গরমকাল এই ধরনের ফল খেলে আপনার শরীরে জলের ঘাটতি মিটবে। সেই সঙ্গে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য খনিজ পদার্থের ঘাটতি শরীরে মিটে যাবে। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমাবে।

পেঁপে খান
যদি পারেন গরমকালে প্রচুর পরিমাণে পেঁপে খান। পেঁপে খেলে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সাইড এবং প্যাপেইন নামক একটি যৌগ থাকে। যা কোলেস্টেরলের মাত্রাকে কমাতে সহায়ক তাছাড়া। পেঁপে খেলে আপনার হার্ট খুব ভালো থাকবে। সেই সঙ্গে রক্তনালিও ভালো থাকবে।

পিচফল রোজ খান
পিচফল প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এটি খুব ভালো উৎস। যা হজমে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে রক্তচাপের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সক্ষম। এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে, এটি সারা বছরেই আপনি খেতে পারেন তবে গরম খালে খেলে শরীরকে সতেজ ও ডিহাইড্রেট করবে না। জলের চাহিদাও মেটাবে অনেকটাই।

সবুজ শাস্কসব্জি খাবেন নিত্যদিন
সবুজ শাকসবজি শরীরের পক্ষে খুব ভালো। এটি সারা বছর আপনি খেতে পারেন। তবে যদি পারেন গরমকালে একটু বেশি করে খাবেন। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে এবং ই থাকে। তাছাড়া ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। নিরামিষাশীদের জন্য প্রতিটি নিরামিষাসী ব্যক্তিদের জন্য এই শাকসবজি খুব দরকার। তার কারণ এতে ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় আপনাদের শরীর অনেক তাজা থাকবে। শরীরটা খুব সুস্থ থাকবে।

শশা
গরমকালে শশা আপনি শুধুও খেতে পারেন। সামান্য লবণ দিয়ে শুধু খেতে পারেন, না হলে শশা আপনার শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করবে। সেই সঙ্গে আপনার শরীরকে হাইড্রেট করতে দেবে না। শরীরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ফাইবারএর যোগান দেবে এই শশা।

চিয়া বীজ
চিয়া বীজ জাতীয় শস্য খাওয়া খুব ভালো। শরীরকে হাইড্রেট হতে দেয় না। হার্টের সমস্যাকে ভালো করে। কারণ এই গুলিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন ই থাকে।

রসুন
আপনি কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হাটকে সুস্থ রাখতে রসুন খেতে পারেন রসুন। এমন একটি যৌগ থাকে যাতে প্রচুর অ্যান্টি কোয়াগুলেন্ট থাকে। যার রক্তকে পাতলা রাখে। খারাপ কোলেস্টেরলকে শরীরে জমাট বাঁধতে দেয় না। এতে আপনার হার্ট কিন্তু খুব ভালো থাকবে।

রেডমিট এড়িয়ে চলুন
প্রত্যেকটি ব্যক্তির গরমকালে শরীরকে হাইড্রেট রাখা দরকার। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে ওজনের প্রতি এক গ্রাম প্রোটিনের প্রয়োজন। তাই ওজন প্রতি ৬০ কেজি হয়, তখন আপনার ৬০ গ্রাম প্রোটিন দরকার। তাই গরমকালে আপনার এই প্রোটিনের উৎস, কিন্তু আপনি আপনার খাদ্য থেকেই যোগান হয়। তাই এই সময় হেডমিট এড়িয়ে চলুন। মুরগির মাংস, স্যামন মাছ, টুনা মাছ এড়িয়ে খাবেন।












Click it and Unblock the Notifications