প্রজাতন্ত্র দিবসে এই ঐতিহাসিক জায়গাগুলিতে পর্যটনের ভিড় লেগে যায়
হাতে গোনা মাত্র আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা, তারপরেই দেশজুড়ে শুরু হবে প্রজাতন্ত্র দিবসের উদযাপন। প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি ভারত জুড়ে এই বিশেষ দিন পালন করেন সকলে। ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসন কাটিয়ে স্বাধীনতা পেয়েছিল ভারত। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হয়েছিল। ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল এবং ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ সালে এটি কার্যকর করা হয়েছিল। দেশ নায়কদের আত্মত্যাগ, বলিদান চিরস্মরণীয়। এই বিশেষ দিনে এই ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভগুলিতে ঘুরে আসতে পারেন আপনি।
দিল্লির লালকেল্লা
দিল্লির লালকেল্লা সম্পর্কে সকলেই প্রায় জানেন। দিল্লির লালকেল্লা ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভের মধ্যে একটি। এই লালকেল্লা 'লাল কিলা’ নামেও পরিচিত। যা হয়তো অনেকেরই জানা। ২০০ বছর ধরে মুঘল সম্রাটদের বাসস্থান ছিল এই লালকেল্লা। ২০০৭ সাল থেকে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসাবে এটি গণ্য হয়েছে। চলতি বছর প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আপনিও কিন্তু এখানে ঘুরে আসতে পারেন।

অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগ
১৯১৯ সালে গণহত্যার সাক্ষী ছিল ভারত। রাওলাট আইনের প্রতিবাদে জালিয়ানওয়ালাবাগ জনসমাবেশে ডাকও দেওয়া হয়েছিল। আর এই সমাবেশ চলাকালীন চারিদিক দিয়ে ব্রিটিশ পুলিশ নিবিচারে গুলি চালিয়ে ছিল। সেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন হাজারেরও বেশি মানুষ। এই স্বাধীনতা লড়াইয়ের সময় আত্মত্যাগের স্মারক হিসাবে জালিয়ানওয়ালা বাগের গুরুত্ব রয়েছে অপরিসীম।
দিল্লির ইন্ডিয়া গেট
জওয়ান ও সেনাদের স্মৃতিতে মোড়া হাজার হাজার প্রতিবাদের সাক্ষী ইন্ডিয়া গেট। বর্তমানে দিল্লির প্রাণকেন্দ্র স্মৃতি সৌধ রাজধানী নতুন দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এটি। এখানে ৯০ হাজার ভারতীয় সেনা জওয়ানদের স্মৃতি নির্মাণ করা রয়েছে। এর চারপাশে রয়েছে বাগান ও ঝর্ণা। প্রজাতন্ত্র দিবসে রাজপথ থেকে যে কুচকাজের আয়োজন করা হয় তা ইন্ডিয়া গেটে গিয়েই শেষ হয়। আপনিও প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করতে পারেন এখানে এসে।
মুম্বইয়ের গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া
১৯১১ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্রিটেনের শাসক রাজা ছিলেন পঞ্চম জর্জ। পঞ্চম জর্জ ও রানি মেরি ভারতে এসেছিলেন। তাদের এই আসাকেই স্মরণীয় করে রাখতে গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়ার নির্মাণ শুরু করা হয়েছিল। আরব সাগরের ধারে নির্মিত এটি। বর্তমানে জনপ্রিয় এটি একটি পর্যটন কেন্দ্র।
গুজরাতের সবরমতী আশ্রম
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর সবরমতী আশ্রমে নাম কমবেশি সকলেই জানেন। শোনা যায়, গান্ধীজির সেবা গ্রাম আশ্রমে যাওয়ার এক দশকের বেশি সময় ধরে অর্থাৎ ১৯১৭ সাল থেকে ১৯৩০ এই সময়ে সবরমতী নদীর তীরে অবস্থিত সবরমতি আশ্রমে থাকতেন তিনি। এখান থেকে তিনি সামাজিক কার্যকলাপ চালাতেন। ১৯৩০ সালের ১২ মার্চ এই আশ্রম থেকেই ডান্ডি অভিযান (ডান্ডি পদযাত্রা) শুরু করেছিলেন তিনি।
যখন গান্ধীজি এই আশ্রমে আসতেন তখন এই সেবা গ্রাম আশ্রম সেখানকার স্থানীয় মানুষেরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখতেন। এখানে বর্তমানে গান্ধীজির একটি মূর্তিও করা রয়েছে সেখানে। প্রতিবছর প্রজাতন্ত্র দিবসের সময়ে এখানে পর্যটকেরা এখানে আসেন। দেশের ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আপনিও এই জায়গা গুলিতে প্রজাতন্ত্র দিবস ঘুরতে আসতে পারেন।












Click it and Unblock the Notifications