লিভার ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গগুলি জানুন, কাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি
ক্যানসার এই রোগটির সঙ্গে আমরা সকলেই প্রায় অবগত। দিন যত এগোচ্ছে এই রোগের প্রবণতাও ঠিক যেন তত বাড়ছে। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রচুর মানুষ মারা গেছেন, তবে এই রোগ থেকে সুস্থ হয়েছেনও কিন্তু অনেকে। শরীরের যে কোন জায়গায় বাসা বাঁধতে পারে এই মারণ রোগ।
যদি প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগ ধরা পড়ে তা থেকে সুস্থ হওয়া যায় দ্রুত, তবে তৃতীয় বা চতুর্থ পর্যায়ে এই রোগ চলে গেলে তা থেকে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা একটু কমই থাকে। লিভার আমাদের শরীরের একটি বিশেষ অঙ্গ। লিভার ক্যানসারে যদি কোন ব্যক্তি আক্রান্ত হন তাহলে তার বাঁচার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে, তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে এবং চিকিৎসাধীন থাকলে সুস্থ হওয়া যায়।

লিভার ক্যানসার হলে দ্রুত ওজন হ্রাস পেতে থাকে। শরীর ক্রমশ ফ্যাকাসে হয়ে যায়। পেট ফুলতে থাকে। পেটে অস্বস্তি ভাব হয়, ফুলে যায় আর খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায় এবং বমি বমি ভাব ক্রমশ বাড়তে থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, অ্যালকোহল খেলেই যে শুধু লিভারের ক্যানসার হয় তা কিন্তু নয়। এমন অনেক ব্যক্তিরা তারা শনাক্ত করেছেন যারা অ্যালকোহল বা তামাক জাতীয় জিনিস খাননা বা ড্রাগ তারা নেন না। তবুও তারা লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হন।

কখন কোনও ব্যক্তির শরীরে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় তখনই কিন্তু তার লিভারে চাপ দেয়। বিলিরুবিন একটি হলুদ রঞ্জক, লিভারে হিমোগ্লোবিন ভাঙ্গনের ফলে গঠিত হয় উচ্চ বিলিরুবিন। সেই সময়ে শরীরে সৃষ্টি হয় জন্ডিসের। আর সেসময় শরীর ক্রমশ হলুদ হয়ে যায় এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। এই সময় কিন্তু শরীর খুব দুর্বল হয়ে যায়।

যে সকল ব্যক্তি লিভার ক্যানসারে প্রস্রাব খুব গাঢ় হয়ে যায় এবং মল রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। খিদে খুব কম হয়। শরীর ক্লান্ত হতে থাকে, অসুস্থ হতে থাকে শরীর। প্রায় সময়ই জ্বর আসে। পেটের ডানদিকে ব্যথা অনুভব হয়। ডান কাঁধে ব্যথা হয়। পেট প্রচন্ড পরিমাণে ফুলে যেতে থাকে । এই লক্ষণগুলি দেখলেই একদম বাড়িতে থাকবেন না, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

যে সকল ব্যক্তির শরীরে এইচবিসি বা এইচসিবি ইনফেকশন রয়েছে, আবার যাদের লিভার সিরোসিস রোগ হয়েছে , বা যারা জন্মগত লিভারের রোগ রয়েছে,যে সকল ব্যক্তির ডায়াবেটিসের আক্রান্ত, তাঁদের লিভার ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
চিকিৎসকদের মতে,ক্রনিক লিভার রোগ বা লিভারের অন্য কোনও সমস্যা থাকলে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। লিভারের পরীক্ষা করানোর সময় সম্ভাব্য টিউমারের পরীক্ষাও করিয়ে নেওয়া ভালো হবে। ছয় মাস অন্তর সম্পূর্ণ পেটের আলট্রাসোনোগ্রাফি করলেই আলফাপ্রোটিনযুক্ত কোনও টিউমার আছে কিনা তা ধরা পড়ে। সঠিক সময়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিলে এই রোগ থেকে সুস্থ হাওয়া যায়।












Click it and Unblock the Notifications